এম রাসেল সরকার:
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের লক্ষ্যে পরিচালিত ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরাসরি হামলার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রাজিব মোল্লার বিরুদ্ধে।
আন্দোলনে আন্দোলনকারীদের ওপর সশস্ত্র হামলার ভিডিও ফুটেজ এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ থাকলেও ৫ আগস্টের পর থেকে এখনো তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো মামলাও দায়ের করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজিব মোল্লার পুরো পরিবার নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে গভীরভাবে যুক্ত। তার বাবার নাম কাদের মোল্লা। এছাড়া তাদের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠ সহযোগী ঝিন্টু বেপারি এবং দলীয় সদস্য সাফায়ত আনোয়ারের মাধ্যমে এলাকায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন রাজিব। ঢাকা-১ (দোহার) আসনের রাজনীতিতে এই সিন্ডিকেটের ব্যাপক প্রভাব ছিল।
নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রাজিব মোল্লা ও তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এক ভুক্তভোগী জানান, ”বিগত সরকারের আমলে রাজিব মোল্লার ইশারায় আমাদের নামে একের পর এক অজ্ঞাত গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হতো। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে এই সিন্ডিকেট এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।”
জুলাই ও আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে রাজিব মোল্লা সরাসরি রাজপথে থেকে হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন। আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ভিডিওতে রাজিব মোল্লাকে সক্রিয়ভাবে হামলার নির্দেশনা দিতে দেখা গেছে।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই সিন্ডিকেটের অধিকাংশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হলেও রাজিব মোল্লা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। তার নামে কোনো মামলা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী ও ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। তাদের প্রশ্ন, পর্যাপ্ত প্রমাণ ও ভিডিও ফুটেজ থাকার পরও কেন এই প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
এলাকাবাসী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা অবিলম্বে রাজিব মোল্লাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
🗣️বিস্তারিত আসতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে!
Leave a Reply