স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে :
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে অবিলম্বে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে পদত্যাগ করতে হবে বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতৃবৃন্দ। তাদের মতে, শাহাদাত হোসেন পদে বহাল থাকলে আসন্ন নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় থাকবে না এবং নির্বাচন ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
সোমবার ১৯ জানুয়ারি নগরের ষোলশহর দুই নম্বর গেইট বিপ্লব উদ্যানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগর শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ এরফানুল হক সাংবাদিকদের বলেন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এক বিজ্ঞপ্তিতে ৩৩২ জন সন্ত্রাসীকে সিএমপি এলাকায় প্রবেশ না করতে এবং চট্টগ্রাম ত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। এ তালিকায় চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যাকারী অনেক আসামি এবং চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম রয়েছে।
তিনি বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি এই বিবৃতি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। কারণ, এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কোনও দায়িত্বশীল বিবৃতি নয়; বরং এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায় এড়ানোর চেষ্টা পরিলক্ষিত হয়েছে। আমাদের প্রশ্ন হলো—যদি সিএমপির কাছে সন্ত্রাসীদের নাম, পরিচয় ও অবস্থান আগে থেকেই জানা থাকে, তাহলে তারা এখনও গ্রেফতার হচ্ছে না কেন?
এনসিপি নেতারা বলেন, চট্টগ্রামবাসীর স্পষ্ট বক্তব্য হলো—আইনের শাসন মানে সন্ত্রাসীদের এলাকা বদলানোর সুযোগ দেওয়া নয়। আইনের শাসন মানে, সন্ত্রাসী যেখানেই থাকুক, তাকে খুঁজে বের করে গ্রেফতার করা। এনসিপি চট্টগ্রামসহ সারা দেশের সব সন্ত্রাসীকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছে। অন্যথায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী, ভোটার ও চট্টগ্রামবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে দলটি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে ডা. শাহাদাত হোসেনের বহাল থাকা নিয়ে জনমনে অস্থিরতা এবং ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চসিক মেয়র পদটি প্রজাতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী পদ। এই পদে অধিষ্ঠিত থেকে তিনি বিএনপি প্রার্থীদের বিভিন্ন প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।
এনসিপি নেতারা অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় চারটি সংসদীয় আসনেই বিএনপির প্রার্থী রয়েছে। এই বাস্তবতায় বিএনপি মনোনীত একজন ব্যক্তি যদি মেয়র পদে বহাল থাকেন, তাহলে আসন্ন নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে না এবং নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
এনসিপি নেতারা আরও বলেন, নির্বাচনের নিরপেক্ষতা রক্ষার স্বার্থে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ইতোমধ্যে তাদের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। একই বাস্তবতায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকেও পদত্যাগ করতে হবে।
তারা দাবি করেন, ডা. শাহাদাত হোসেন আগামী ২৫ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশের সমন্বকয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।
তাদের বক্তব্যে বলা হয়, একজন সক্রিয় রাজনৈতিক দলের নেতা হয়ে মেয়র পদে বহাল থাকলে আসন্ন নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হবে এবং নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। যেহেতু চলতি মাসের ২৭ জানুয়ারি তার মেয়াদ পূর্ণ হচ্ছে এবং আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে ভোটে প্রার্থীদের প্রচারণা শুরু হচ্ছে, সেহেতু এই বাস্তবতায় চট্টগ্রামের নির্বাচনী পরিবেশ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে হলে অবিলম্বে তাকে পদত্যাগ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগর শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন, জুবায়ের হোসেন, নিজাম উদ্দিন ও জসিম উদ্দিন ওপেল।
এছাড়াও এনসিপি-চট্টগ্রাম মহানগর সদস্য মোহাম্মদ সোহরাব চৌধুরী, আজগর আলী আশিক, মোহাম্মদ আজাদ, এমদদুল হক ও মোহাম্মদ বেলাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply