রনজিৎ সরকার রাজ দিনাজপুর প্রতিনিধি :বাংলাদেশ লুথারেন চার্চ বিএলসি এর দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা এবং বীরগঞ্জ সার্কেল অন্তর্ভুক্ত উত্তরবঙ্গ শিশু উন্নয়ন প্রকল্পের তিন লক্ষ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প ব্যবস্থাপক মি: রতন কুমার রায়ের বিরুদ্ধে। কাহারোল উপজেলার ডহচী জয়নন্দহাট এলাকার সুর্দশন চন্দ্র রায়ের পুত্র পরিক্ষীত রায় জাতীয় কম্প্যাশন ইন্টা বাংলাদেশ ,উপজেলা সমাজসেবা, বীরগঞ্জ চেয়ারম্যান, লুথারেন চার্চ ও মোহাম্মদপুর ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ করে জানান,বীরগঞ্জ লুথারেন চার্চ বিএলসি অন্তর্ভুক্ত লক্ষ্মীপুর বিডি-০২৪৬, উত্তরবঙ্গ শিশু উন্নয়ন প্রকল্পে আমার ছেলে পঙ্কজ রায় যাহার আইডি নং-০০১২১ উক্ত প্রকল্পের আওতায় একজন সুবিধাভোগী শিশু। সেই সূত্রে প্রকল্পের শিশুদের মাঝে চাল বিতরণ, হাইজিং এবং স্কুলিং এর জন্য আমার নিকট গত ২৪/১১/২০২৫ ইং তারিখে তিন লক্ষ টাকা ধার নেন লুথারেন চার্চ – বিএলসি এর অন্তর্ভুক্ত উত্তরবঙ্গ শিশু উন্নয়ন প্রকল্পের শাখা ব্যবস্থাপক মি: রতন কুমার রায়। প্রকল্পের ফান্ডের সমস্যার কথা বলে রতন কুমার রায় প্রকল্পের একটি ল্যাপটপ কম্পিউটার এবং ব্যক্তিগত একাউন্টের ফাঁকা চেকের পাতা,জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি,ছবি ও ১ শত টাকার ৩টি স্টাম্পে উক্ত তিন লাখ টাকার জন্য লিখিত অঙ্গীকারনামা প্রদান করেন। কিন্তু উক্ত অর্থের জন্য তার নিকট বারংবার যোগাযোগ করলে রতন কুমার রায় বলেন,প্রকল্পের ফান্ড আসে নাই, অফিসে গ্রোবাল অডিটের সমস্যা সহ বিভিন্ন ধরনের অজুহাত দেখিয়ে কালক্ষেপণ করে আসছে। বর্তমানে সে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে পলাতক রয়েছে।
সুবিধাভোগী অভিভাবক সুর্দশন রায় আরও উল্লেখ করে জানান, উত্তরবঙ্গ শিশু উন্নয়ন প্রকল্প লক্ষ্মীপুর বিডি-০২৪৬ প্রকল্পের এলসিসি কমিটির সভাপতি মি: বিজয় কুমার রায় ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক মি: রতন কুমার রায়ের সাথে বিভিন্ন দূর্নীতি অনিয়মের সাথে জড়িত খোঁজখবর নিতে গেলে গত ২১/১১/২০২৫ তারিখে বিজয় কুমার রায় বিভিন্ন হুমকি ধামকি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ল্যাম্পটপ চুরি অভিযোগে থানায় জিডি এবং মামলার হুমকি প্রদান করে আসছে। এ বিষয়ে বীরগঞ্জ লুথারেন চার্চের চেয়ারম্যান মি: নিলয় রায়ের নিকট অভিযোগ করা হলে তিনিও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উক্ত এলসিসি প্রকল্পে সভাপতি বিজয় ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক রতন প্রকল্পের জন্য জয়নন্দহাট ও কালোপীর বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে চাউল,তেল,সাবান,ফলমূল,জুতা ইত্যাদি দ্রব্যাদি বাকীতে ক্রয় করে অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বল্প দামে শিশুদের পণ্য সামগ্রী ক্রয় করে বেশি মূল্যের ভাউচার তৈরি এবং শিশু উন্নয়ন প্রকল্পের ভূয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ সহ নানা অনিয়ম স্বেচ্ছাচারিতার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের। এব্যাপারে অভিযুক্ত রতন কুমার রায় সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply