স্টাফ,রিপোর্টার : তাওলাদ হোসেন
পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর অদম্য চেষ্টা আর নিজের সব কষ্টকে বুকচাপা দীর্ঘশ্বাসে লুকিয়ে রাখার এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন তাওলাদ হোসেন। তাঁর লেখা ‘অভাব’ শিরোনামের এই হৃদয়ছোঁয়া রচনাটি ফুটিয়ে তুলেছে পুরুষদের জীবনের এক নির্মম ও নিঃসঙ্গ সত্য। সমাজ সাধারণত ধরে নেয় ছেলেদের মন খারাপ বা কষ্টের কোনো অনুভূতি নেই, তাদের রয়েছে কেবল দায়িত্বের পাহাড়। কিন্তু সত্য এর চেয়ে অনেক বেশি বেদনার। কখনো পকেটে শূন্যতা আর কখনো মনে ভালোবাসার আকাল গ্রাস করলেও তারা তা প্রকাশ করতে পারেন না। ছোটবেলা থেকেই পুরুষদের মনে এই কথা গেঁথে দেওয়া হয় যে ছেলেরা কাঁদে না। এই সামাজিক ট্যাবু ও পরিবারের হাসিমুখ দেখার গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তারা তিলে তিলে ক্ষয় হন।
জুতার তলা ক্ষয়ে যাওয়া কিংবা পুরোনো হয়ে যাওয়া শার্টটা গায়ে জড়িয়েই তারা কাটিয়ে দেন বছরের পর বছর। নিজের জন্য কিছু চাওয়ার অধিকার যেন তাদের জন্ম থেকেই কেড়ে নেওয়া হয়েছে। স্ত্রী সন্তানের বায়না মেটাতে গিয়ে নিজের পেটের ক্ষুধা কিংবা মনের শখকে গলা টিপে হত্যা করার নামই বুঝি মধ্যবিত্তের পুরুষ।
পরিবারের অন্ন ও সুরক্ষার জোগান দিতে গিয়ে নিজের শখ-আহ্লাদ বিসর্জন দেওয়া, দিনের আলোয় সবার সামনে হাসিমুখে ঘুরে বেড়ানো আর গভীর রাতে বালিশে মুখ গুঁজে নীরব কান্নায় ভিজে যাওয়া—এটাই তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। সকালে উঠে পরিবারের সবার চোখের দিকে তাকিয়ে কৃত্রিম হাসিতে বলা, “আমি ঠিক আছি।”
দিনের ব্যস্ততা শেষে যখন চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে আসে, তখন এই মানুষগুলোই ছাদের কোণায় কিংবা অন্ধকারের সাথে কথা বলেন। সারাদিনের জমিয়ে রাখা ক্লান্তি আর হাজারো অপমানের দীর্ঘশ্বাস তখন চোখের জল হয়ে ঝরে পড়ার স্বাধীনতাটুকুও তাদের থাকে না। কারণ, তারা জানেন—সকালে উঠেই এই মানুষগুলোকেই আবার সাহস জোগাতে হবে।
মূলত, ছেলেরা আসলেই ভালো থাকেন না; পরিবারের মানুষগুলোকে ভালো রাখার তাগীদে তারা জীবনভর শুধু ভালো থাকার এক নিখুঁত অভিনয় করে যান। পুরুষদের এই নীরব আত্মত্যাগ ও মানসিক সংগ্রামের গল্পটি সমাজের প্রতিটি মানুষের মনে গভীর দাগ কাটবে বলেই প্রত্যাশা। অভাবের এই যাতাকলে পিষ্ট হয়েও যারা পরিবারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, তাদের প্রতি সহমর্মিতা ও সম্মান জানানো আমাদের সমাজের প্রতিটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব।
Leave a Reply