1. lifemedia766@gmail.com : admin : Badsah Deoan
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
‎জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্পের অর্থায়ন বন্ধের দাবিতে মোংলায় তীব্র প্রতিবাদ দেশের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে ‘বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলন’-এর বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত শিমুল তাইড়ে জুমার খুতবা দিলেন আব্দুল্লাহ শাহীন মন্ডল, মসজিদ উন্নয়নে ৫০ হাজার টাকা অনুদান ‎মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সাথে নবনির্বাচিত সিবিএ নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ আমতলীতে অসুস্থ রশিদ প্যাদার পাশে ‘স্বপ্নছোঁয়া’, পৌঁছে দিল বাজার সামগ্রী সুপরিচিত কবি-সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, সম্পাদিকা, গল্পকার ও ছড়াকার মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অণুগল্প : সঠিক পথের দিশা কাঁচপুরে ভাঙারি ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী হত্যা: ২৪ ঘণ্টায় রহস্য উদঘাটন, আসামির স্বীকারোক্তি রাজপথ থেকে জনপথে: মেম্বার প্রার্থী নুরুল আমিন রাহুল বীরগঞ্জে মরহুম বজলুর রহমান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযান ১টি বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ আটক ১​ দিনাজপুর বীরগঞ্জে মরহুম বজলুর রহমান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট–২০২৬

সুপরিচিত কবি-সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, সম্পাদিকা, গল্পকার ও ছড়াকার মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অণুগল্প : সঠিক পথের দিশা

  • প্রকাশকাল: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সঠিক পথের দিশা
মাধুরী ব্যানার্জী

অর্ণব ছোট শহরের এক সাধারণ পরিবারের ছেলে। বাবা একটি ছোট দোকান চালান, মা সংসার সামলান। অভাব ছিল, কিন্তু বাবা-মা সবসময় ছেলেকে একটি কথাই শেখাতেন—“জীবনে বড় হওয়ার চেয়ে ভালো মানুষ হওয়া বেশি জরুরি।”
কলেজে পড়ার সময় অর্ণবের বন্ধুত্ব হয় রাহুলের সঙ্গে। রাহুলের জীবনযাপন ছিল বেশ ঝলমলে। দামি মোবাইল, নতুন পোশাক, রোজ রেস্তোরাঁয় খাওয়া—সবকিছুতেই যেন অর্ণবের চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে।
একদিন রাহুল বলল,
—“এভাবে সৎ থেকে কতদূর যাবি? একটু বুদ্ধি খাটালে অল্প সময়েই অনেক টাকা করা যায়।”
অর্ণব প্রথমে রাজি হয়নি। কিন্তু বাড়ির আর্থিক সংকট, বাবার দোকানে লোকসান আর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা তাকে দুর্বল করে দিল।
রাহুল তাকে একটি সহজ কাজের প্রস্তাব দিল—কিছু কাগজে ভুল তথ্য দিয়ে টাকা নেওয়া। কাজটি বেআইনি, কিন্তু লাভ ছিল মোটা।
সেদিন রাতে অর্ণব ঘুমোতে পারল না। বাবার কথাগুলো বারবার মনে পড়ছিল—“ভুল পথে পাওয়া সাফল্য কখনও শান্তি দেয় না।”
পরদিন সে রাহুলকে বলল,
—“আমি এই কাজ করব না।”
রাহুল হেসে বলল,
—“তুই সারাজীবন গরিবই থেকে যাবি।”
অর্ণব কোনো উত্তর দিল না।
কয়েক মাস পর সেই বেআইনি কাজের জন্য রাহুলসহ কয়েকজন ধরা পড়ল। অর্ণবেরও নাম উঠে এসেছিল, কিন্তু সে আগেই সরে এসেছিল বলে তদন্তে তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া গেল না।
সেদিন অর্ণব বুঝল—সঠিক পথ সবসময় সহজ নয়, কিন্তু বিপদের সময় সেই পথই মানুষকে রক্ষা করে।
বছর দুয়েক পর অর্ণব নিজের যোগ্যতায় একটি চাকরি পেল। প্রথম বেতন হাতে নিয়ে সে বাড়ি ফিরল। বাবার হাতে টাকা দিয়ে বলল,
—“বাবা, তোমার শেখানো পথটাই ঠিক ছিল।”
বাবা মৃদু হেসে বললেন,
—“জীবনে পথ অনেক থাকবে। কিন্তু যে পথে হাঁটলে রাতে নিজের কাছে লজ্জা পেতে হয় না, সেই পথই সঠিক পথ।”
অর্ণব জানালার বাইরে তাকাল। অন্ধকারের মধ্যে দূরের একটি বাতি জ্বলছিল।
তার মনে হলো—জীবনের পথেও ঠিক তেমনই কিছু আলো থাকে। শুধু চোখ খুলে সেই আলো চিনে নিতে হয়।
সাফল্যের শর্টকাট অনেক সময় বিপদের দিকে নিয়ে যায়; ধৈর্য, সততা ও নৈতিকতাই মানুষকে সত্যিকারের সঠিক পথের দিশা দেয়।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এধরণের অন্যান্য নিউজ