সঠিক পথের দিশা
মাধুরী ব্যানার্জী
অর্ণব ছোট শহরের এক সাধারণ পরিবারের ছেলে। বাবা একটি ছোট দোকান চালান, মা সংসার সামলান। অভাব ছিল, কিন্তু বাবা-মা সবসময় ছেলেকে একটি কথাই শেখাতেন—“জীবনে বড় হওয়ার চেয়ে ভালো মানুষ হওয়া বেশি জরুরি।”
কলেজে পড়ার সময় অর্ণবের বন্ধুত্ব হয় রাহুলের সঙ্গে। রাহুলের জীবনযাপন ছিল বেশ ঝলমলে। দামি মোবাইল, নতুন পোশাক, রোজ রেস্তোরাঁয় খাওয়া—সবকিছুতেই যেন অর্ণবের চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে।
একদিন রাহুল বলল,
—“এভাবে সৎ থেকে কতদূর যাবি? একটু বুদ্ধি খাটালে অল্প সময়েই অনেক টাকা করা যায়।”
অর্ণব প্রথমে রাজি হয়নি। কিন্তু বাড়ির আর্থিক সংকট, বাবার দোকানে লোকসান আর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা তাকে দুর্বল করে দিল।
রাহুল তাকে একটি সহজ কাজের প্রস্তাব দিল—কিছু কাগজে ভুল তথ্য দিয়ে টাকা নেওয়া। কাজটি বেআইনি, কিন্তু লাভ ছিল মোটা।
সেদিন রাতে অর্ণব ঘুমোতে পারল না। বাবার কথাগুলো বারবার মনে পড়ছিল—“ভুল পথে পাওয়া সাফল্য কখনও শান্তি দেয় না।”
পরদিন সে রাহুলকে বলল,
—“আমি এই কাজ করব না।”
রাহুল হেসে বলল,
—“তুই সারাজীবন গরিবই থেকে যাবি।”
অর্ণব কোনো উত্তর দিল না।
কয়েক মাস পর সেই বেআইনি কাজের জন্য রাহুলসহ কয়েকজন ধরা পড়ল। অর্ণবেরও নাম উঠে এসেছিল, কিন্তু সে আগেই সরে এসেছিল বলে তদন্তে তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া গেল না।
সেদিন অর্ণব বুঝল—সঠিক পথ সবসময় সহজ নয়, কিন্তু বিপদের সময় সেই পথই মানুষকে রক্ষা করে।
বছর দুয়েক পর অর্ণব নিজের যোগ্যতায় একটি চাকরি পেল। প্রথম বেতন হাতে নিয়ে সে বাড়ি ফিরল। বাবার হাতে টাকা দিয়ে বলল,
—“বাবা, তোমার শেখানো পথটাই ঠিক ছিল।”
বাবা মৃদু হেসে বললেন,
—“জীবনে পথ অনেক থাকবে। কিন্তু যে পথে হাঁটলে রাতে নিজের কাছে লজ্জা পেতে হয় না, সেই পথই সঠিক পথ।”
অর্ণব জানালার বাইরে তাকাল। অন্ধকারের মধ্যে দূরের একটি বাতি জ্বলছিল।
তার মনে হলো—জীবনের পথেও ঠিক তেমনই কিছু আলো থাকে। শুধু চোখ খুলে সেই আলো চিনে নিতে হয়।
সাফল্যের শর্টকাট অনেক সময় বিপদের দিকে নিয়ে যায়; ধৈর্য, সততা ও নৈতিকতাই মানুষকে সত্যিকারের সঠিক পথের দিশা দেয়।
Leave a Reply