1. lifemedia766@gmail.com : admin : Badsah Deoan
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
নরসিংদীতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, চাপ বাড়ছে হাসপাতালে সাংবাদিক পালিয়ে গেলেও মাদকসহ স্ত্রী আটক সুপরিচিত ও জনপ্রিয় কবি, কথা-সাহিত্যিক. প্রাবন্ধিক, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, সম্পাদিকা, ছড়াকার মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অণুগল্প : “মন হারানোর ঠিকানা” হাসপাতালে ব্যথায় কাতরাচ্ছে আহত সন্তান, অভিযুক্ত শিক্ষককে ছাড়াতে থানায় মা! সাংসদ জয়নুল আবদিন ফারুকের নির্দেশে ফের শুরু সেনবাগ-সোনাইমুড়ী সড়কের সংস্কার কাজ ক্রীড়া নৈপুণ্যে গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ—ঠাকুরগাঁওয়ে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ‎বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৭টি পরিবার পেল ১ কোটি ৩১ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা ডিজিটাল পাল্লায় রশি বেঁধে ইলিশ বিক্রির কারচুপি, ব্যবসায়ীর ১ লাখ টাকা জরিমানা কালিয়াকৈরে গ্যাস সংকটের কারনে পোশাক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত বিপাকে কারখানার মালিক নরসিংদীতে মানব পাচার মামলার আসামি জাকির হোসেন কারাগারে ‎বাগেরহাটে জলাতঙ্কের ঝুঁকি রোধে বেওয়ারিশ ও গৃহপালিত কুকুরকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু

সুপরিচিত ও জনপ্রিয় কবি, কথা-সাহিত্যিক. প্রাবন্ধিক, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, সম্পাদিকা, ছড়াকার মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অণুগল্প : “মন হারানোর ঠিকানা”

  • প্রকাশকাল: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সুপরিচিত ও জনপ্রিয় কবি, কথা-সাহিত্যিক. প্রাবন্ধিক, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, সম্পাদিকা, ছড়াকার মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অণুগল্প : "মন হারানোর ঠিকানা"

মন হারানোর ঠিকানা
-মাধুরী ব্যানার্জী

শহরের ব্যস্ত রাস্তায় প্রতিদিন হাজার মানুষ আসে-যায়। কেউ কারও দিকে তাকায় না, অথচ কখনও কখনও সেই ভিড়ের মধ্যেই একজন মানুষ এসে দাঁড়ায়—যার উপস্থিতি বদলে দেয় পুরো পৃথিবীর অর্থ।
বিকাশের জীবনটাও ছিল তেমনই একঘেঁয়ে। অফিস, বাড়ি আর জানালার পাশে বসে সন্ধ্যার আকাশ দেখা—এই ছিল তার পৃথিবী। ভালোবাসা শব্দটাকে সে অভিধানে দেখেছিল, জীবনে নয়।
এক বর্ষার বিকেলে বাসস্ট্যান্ডে দেখা হয় শ্যামলীর সঙ্গে। হাতে ছাতা, চোখে অদ্ভুত শান্তি। হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়ায় শ্যামলীর কাগজগুলো উড়ে গেল। বিকাশ ছুটে গিয়ে কাগজগুলো কুড়িয়ে দিল।
—“ধন্যবাদ।”
মাত্র একটি শব্দ। অথচ বিকাশের মনে হলো, বহুদিনের নীরব ঘরে যেন কেউ একটি জানালা খুলে দিয়েছে।
তারপর থেকে দেখা হতে লাগল। কখনও বাসস্ট্যান্ডে, কখনও বইয়ের দোকানে, কখনও নদীর ধারে। তাদের কথাগুলো খুব সাধারণ—বৃষ্টি, বই, আকাশ, স্বপ্ন। কিন্তু সেই সাধারণ কথার ভেতরেই জন্ম নিল এক অসাধারণ টান।
একদিন শ্যামলী বলল, —“জানো, মানুষের মন হারিয়ে যায় কোথায়?”
বিকাশ হেসে বলল, —“জানি না।”
শ্যামলী নদীর দিকে তাকিয়ে বলল, —“যেখানে তার কথা না বলেও কেউ বুঝতে পারে, সেখানেই।”
কিছুদিন পর শ্যামলী শহর ছেড়ে চলে গেল। যাওয়ার আগে শুধু একটি চিঠি রেখে গেল বিকাশের হাতে।
চিঠিতে লেখা ছিল—
“আমাদের পথ হয়তো এক নয়। কিন্তু তুমি আমাকে যে কয়েকটি সন্ধ্যা দিয়েছ, সেগুলো আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ঠিকানা হয়ে থাকবে। কখনও যদি আমাকে খুঁজতে ইচ্ছে করে, নদীর ধারে এসো। সেখানে হয়তো আমাকে পাবে না, কিন্তু তোমার নিজের মনটাকে ঠিকই খুঁজে পাবে।”
বহু বছর কেটে গেল।
বিকাশ মাঝে মাঝে সেই নদীর ধারে বসে থাকে। শ্যামলী আর ফিরে আসেনি। তবু বিকাশ জানে, সে হারিয়ে যায়নি।
কারণ কিছু মানুষ জীবনে থেকে যায় না—মনের ভেতর ঠিকানা হয়ে থেকে যায়।
আর বিকাশের কাছে সেই ঠিকানার নাম—
“মন হারানোর ঠিকানা।”

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এধরণের অন্যান্য নিউজ