পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : ১০ সেপ্টেম্বর/২৬
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ টাস্কফোর্স অভিযানে ৬৫৬ পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, নগদ টাকা, মোবাইল ও দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ এক নারী মাদক কারবারিকে আটক করেছে। যৌথ বাহিনীর অভিযান বুঝতে পেয়ে মূল আসামী কথিত সাংবাদিক ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সুকৌশলে পালিয়ে যায়।
জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি)-এর অধিনায়কের নেতৃত্বে বুধবার ভোর রাতে উপজেলার পশ্চিম উচনা গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিজিবি সুত্রে জানাযায়, উপজেলার সীমান্তবর্তী পশ্চিম উচনা এলাকার কথিত সাংবাদিক, তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী এবং ভারতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়/স্পর্শকাতর তথ্য পাচারকারী হাবিবুর রহমানের ছেলে মোঃ শাহীন আলমের বাড়ি স্থানীয় মেম্বার, ইমাম ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তার নিজ কক্ষ থেকে ৬৫৬’পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, নগদ ৩ হাজার ৭৯৭ টাকা, ৫টি মোবাইল ফোন ও ১টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় গোপনীয় ও স্পর্শকাতর তথ্যগুলো শাহীন ভারতে পাচার করত এবং সবধরনের চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিল বিষয়টা এলাকার সবাই জানত ও বুঝত কিন্তু প্রতিবাদ বা প্রতিকারের উপায় ছিল না। অবশেষে মাদক মামলায় শাহীনকে পলাতক আসামি করায় বিজিবি অধিনায়কে ধন্যবাদ জানায় অনেকেই।
অভিযানের শাহীন আলম বাড়ি থেকে পালিয়ে গেলেও অভিযানস্থল থেকে তার স্ত্রী মোছাঃ উম্মে হাবিবাকে আটক করে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা। বিজিবি আরও জানায়, পলাতক শাহীন বিগত আ’লীগ সরকারের সময় দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে স্থানীয়ভাবে চাঁদা আদায় এবং ছোট ছোট গ্যাংয়ের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতেন। এলাকার অন্য মাদক ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন, পলাশ মিয়া ও স্থানীয় মেম্বার লাইজু মিয়ার মৌখিক অভিযোগে জানা যায়, শাহীন দীর্ঘদিন ধরে গ্যাং গঠন করে মাদক ব্যবসা করার পাশাপাশি স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করত।
টাস্কফোর্সের গৃহীত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পলাতক সাংবাদিক ও মাদক ব্যবসায়ী শাহীন আলমকে পলাতক আসামী করা হয় এবং আটকৃত তার স্ত্রী উম্মে হাবিবাকে আসামী করে উদ্ধারকৃত ট্যাপেন্টাডল, নগদ অর্থ ও অস্ত্রসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঁচবিবি থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে ২০ বিজিবি সূত্রে জানা যায়।
Leave a Reply