বিশেষ প্রতিবেদক
১৩/১৪ বছর আগের কথা। ভোলা পৌরসভার হিসাবরক্ষক মেহেদী হাসান রাকিবের বাবার মৃত্যুর পর তাঁর দাফন-কাফনের কাপড় কেনার সামর্থ্যটুকুও ছিল না পরিবারটির। চরম আর্থিক অনটনে দিন কাটানো সেই পরিবারটিই মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে আজ শতকোটি টাকার সম্পত্তির মালিক। আলাদিনের চ্যারাগ পাওয়ার মতো এই বিস্ময়কর উত্থানের নেপথ্যে উঠে এসেছে মাদক কারবার, অস্ত্র বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি এবং বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী পরিচালনার এক অন্ধকার অধ্যায়।
পৌরসভার আড়ালে অপরাধের নেটওয়ার্ক
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী দুই নেতার সরাসরি ছত্রছায়ায় পৌরসভার সাধারণ একজন হিসাবরক্ষক পদে থেকে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন রাকিব। সরকারি চাকরিকে তিনি ব্যবহার করেছেন অপরাধ সাম্রাজ্য ঢাকা দেওয়ার ঢাল হিসেবে। ভোলা ও চরফ্যাশনে একছত্র আধিপত্য বিস্তারের পর তিনি অপরাধের বিস্তার ঘটান ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নারায়নগঞ্জের মতো বড় অপরাধ অঞ্চলে।
অপরাধ সাম্রাজ্যের মূল খুঁটি
মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা: তিনি অঞ্চলে ‘মাদকের রাজপুত্র’ হিসেবে পরিচিতি পান। সম্প্রতি লালমোহন থেকে ইয়াবাসহ র্যাব/পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁর মাদক সাম্রাজ্যের খবর প্রকাশ্যে আসে। একই সাথে সন্ত্রাসী বাহিনী পরিচালনা ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
টেন্ডার ও কমিশন বাণিজ্য: পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের দরপত্র নিয়ন্ত্রণ এবং কমিশন বাণিজ্য থেকে তিনি বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেন।
নারী কেলেঙ্কারি ও চাঁদাবাজি: এলাকায় নিজস্ব বাহিনী দিয়ে চাঁদাবাজি চালানো এবং একাধিক নারী কেলেঙ্কারির সাথে সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে।
ব্যাংক লোনের গুজব ও আইওয়াশ
নিজের এই বিপুল অবৈধ সম্পত্তি বৈধ করার কৌশল হিসেবে তিনি এলাকায় প্রচার করেছিলেন বিশাল অংকের ব্যাংক লোনের কথা। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, এটি ছিল মূলত জনসাধারণের চোখ ধাঁধানো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার এক ধরনের ‘আইওয়াশ’। বাস্তবে এত টাকার ব্যাংক লোন বা তাঁর পরিশোধ ক্ষমতার কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই।
একজন সাধারণ পৌর কর্মচারীর শূন্য থেকে শতকোটি টাকার মালিক হওয়ার এই দুর্নীতির পেছনের সব মাস্টারমাইন্ডদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভোলার সচেতন নাগরিক সমাজ।
Leave a Reply