শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া (খুলনা):
খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডুমুরিয়া জোনাল অফিসের আওতাধীন এলাকায় রাত-দিন অনবরত বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবন। তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন ও দীর্ঘমেয়াদী লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যাহত হচ্ছে গৃহস্থালি কাজকর্ম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কৃষি সেচ ব্যবস্থা।
স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। দিন শেষে রাতেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পাওয়ায় শিক্ষার্থী ও বয়স্ক ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। উপজেলার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকারখানাগুলোর উৎপাদন থমকে দাঁড়িয়েছে, আর বিদ্যুতের অভাবে সেচ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চাষিরাও চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সার্বিক পরিস্থিতি এবং ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণ জানতে চাইলে খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডুমুরিয়া জোনাল অফিসের এজিএম (ওএন্ডএম) শেখ মোঃ আব্দুস সালাম জানান, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ বরাদ্দ কম পাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। জাতীয় গ্রিড থেকে ডুমুরিয়া উপকেন্দ্রে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় রোটেশন ভিত্তিতে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
একই বিষয়ে ডুমুরিয়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) সঞ্জয় রায় বলেন, “ডুমুরিয়া উপজেলায় পিক আওয়ারে বিদ্যুতের যে বিপুল চাহিদা রয়েছে, গ্রিড থেকে আমরা তার চেয়ে অনেক কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি। ঘাটতি মেটাতে গিয়ে আমাদের নিয়ন্ত্রিতভাবে বিদ্যুৎ বণ্টন করতে হচ্ছে। তবে এই সংকট সাময়িক। জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়লে দ্রুতই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”
গ্রাহকদের দাবি, শুধু জাতীয় সংকটের অজুহাত না দিয়ে সমবণ্টনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে এবং দ্রুত এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
Leave a Reply