শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া (খুলনা)
ডুমুরিয়ার কৃষিনির্ভর পূর্বাঞ্চলের প্রাণরস হিসেবে পরিচিত হরি ভদ্রা নদীর নাব্যতা সংকট ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণে নেওয়া পলি অপসারণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে মাঠপর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শন করেছে বিভাগীয় ও উপজেলা প্রশাসন।
১ আগস্ট ২০২৬, শনিবার বেলা ৩টায় ডুমুরিয়ার খর্ণিয়া এলাকায় হরি ভদ্রা নদী পুনঃখনন ও পলি অপসারণ কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আব্দুল্লাহ হারুন।
পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন—
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার:
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগী কৃষকসমাজ
ডোমরা বিলসহ ডুমুরিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম হরি ভদ্রা নদী। নদীর বেশ কয়েকটি স্থানে নতুন করে পলি জমে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও মৎস্য ঘের তলিয়ে যাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। কৃষি এবং মৎস্য খাতের এই বিপর্যয় ঠেকাতেই সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ড্রেজিং এবং পলি অপসারণ কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে বিভাগীয় কমিশনার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা খনন কাজের বর্তমান অগ্রগতি যাচাই করেন এবং পলি নিষ্কাশন প্রক্রিয়া যেন দীর্ঘস্থায়ী হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকদের হয়ে তাদের মূল সমস্যা ও দাবিগুলো তুলে ধরেন খর্ণিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বার বার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও ইউপি সদস্য মোল্যা আবুল কাশেম।
বর্তমানে হরি ভদ্রা নদীর পলি জমে থাকায় আপনাদের এলাকার কৃষক ও মৎস্য চাষিরা ঠিক কী ধরণের সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন?
ইউপি সদস্য মোল্যা আবুল কাশেম: “হরি ভদ্রা নদী আমাদের এই এলাকার কৃষির প্রাণ। নদীতে দ্রুত পলি জমে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিলে আটকে থাকা পানি আর নামতে পারছে না। সামনে আমাদের রোপা আমন চাষের মৌসুম। নদী সময়মতো পরিষ্কার না হলে হাজার হাজার একর ধানক্ষেত জলের নিচে তলিয়ে যাবে এবং শত শত মাছের ঘের ভেসে গিয়ে কৃষকেরা দেউলিয়া হয়ে পড়বেন। আমরা চাই পলি অপসারণ কাজ যেন তড়িঘড়ি বা সাময়িক না হয়ে স্থায়ী সমাধানের দিকে নজর দেয়।”
প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর এই যৌথ পরিদর্শনকে আপনি কীভাবে দেখছেন এবং আপনাদের মূল দাবি কী?
ইউপি সদস্য মোল্যা আবুল কাশেম: “বিভাগীয় কমিশনার মহোদয়, ইউএনও মহোদয় এবং সেনাবাহিনীর স্যাররা আজ সরাসরি আমাদের দুখ-কষ্ট দেখতে খর্ণিয়ায় এসেছেন, এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আমাদের একটাই জোরালো দাবি—ড্রেজিং কাজের গতি আরও বাড়াতে হবে এবং নদীর ভাটি অঞ্চল পর্যন্ত পলি সম্পূর্ণ অপসারণ করতে হবে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত হলে তবেই কৃষক ও চাষিরা রেহাই পাবেন।”
পরিদর্শন শেষে বিভাগীয় কমিশনার জনাব মোঃ আব্দুল্লাহ হারুন ও ডুমুরিয়া ইউএনও সবিতা সরকার জানান, কৃষকদের সুরক্ষা ও স্থানীয় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ড্রেজিং কাজের গতি বৃদ্ধিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নদীর পলি অপসারণ কাজ দ্রুত ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করে জলাবদ্ধতা দূরীকরণে প্রশাসন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে বলে আশ্বস্ত করা হয়।
Leave a Reply