মোঃ রাসেল সরকার:
ঢাকা-২৯ জুলাই, ২০২৬ খ্রঃ
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন মাতুয়াইল এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত ‘পেট কাটা শামীম’ এবং তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিএনপির নেতাকর্মীরা।
আজ বুধবার (২৯ জুলাই) মাতুয়াইল এলাকায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে এলাকার সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ৬৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নেতা শামসুদ্দিনের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয় এবং তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এই হামলার প্রধান অভিযুক্তরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে এবং পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় বিএনপি নেতা শামসুদ্দিন বর্তমানে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভকারীরা ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি মাতুয়াইলের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যাত্রাবাড়ী থানা বিএনপির আহ্বায়ক জামশেদুল আলম শ্যামল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসন যদি অবিলম্বে এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় না আনে, তবে যাত্রাবাড়ীর সর্বস্তরের জনসাধারণকে সাথে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।”
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর (পুলিশ) দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। খুব দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”
এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও আল্টিমেটামের আইনি দিক সম্পর্কে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বা অপরাধ করে কেউ পার পেয়ে যেতে পারে না। পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত ও হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার অপরাধ জামিনঅযোগ্য। পুলিশ চাইলে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বা সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারে। ভুক্তভোগী পরিবার বা দলীয় নেতাকর্মীদের ৭ দিনের আল্টিমেটাম প্রশাসনকে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য করার একটি আইনসম্মত গণতান্ত্রিক দাবি।” হামলার শিকার বিএনপি নেতা শামসুদ্দিনের পরিবারের এক সদস্য কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ভাই নিরীহ একজন রাজনৈতিক কর্মী। বিনা উসকানিতে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পেট কেটে ও ছুরিকাঘাত করে জখম করা হয়েছে। আমরা হামলাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, কর্মসূচি চলাকালে উত্তেজিত কয়েকজন বিক্ষোভকারী মাতুয়াইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত ‘শামীমবাগ আবাসিক এলাকা’-র নামফলক ও সাইনবোর্ড খুলে ফেলেন। এ সময় তারা স্লোগান দিয়ে বলেন, “সন্ত্রাস ও অপরাধের সাথে জড়িত কোনো ব্যক্তির নামে এলাকায় কোনো স্থাপনা বা সাইনবোর্ড থাকতে পারে না। মানববন্ধনের শেষপর্যায়ে আহত বিএনপি নেতা শামসুদ্দিনের দ্রুত সুস্থতা কামনা জানিয়ে দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জন্য জোর দাবি জানান।
Leave a Reply