স্টাফ রিপোর্টারঃ
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নে বেওয়ারিশ কুকুরের তাণ্ডবে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত দুই দিনে অন্তত ১০ জন কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যাই বেশি। হঠাৎ করে বেওয়ারিশ কুকুরের এমন হিংস্র আচরণে এলাকাবাসীর মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে আতঙ্ক বোধ করছেন এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে দক্ষিণ উল্যা গ্রামের ইরামনি (৫), আজিমুদ্দিন (৭০), শহীদুল ইসলাম (৫০), গাটু মিয়া, খেরু মিয়াসহ আরও কয়েকজন শিশু ও বৃদ্ধ রয়েছেন। আহতদের কেউ কেউ স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিলেও অনেককে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে হয়েছে।
এ বিষয়ে ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,
“কুকুরের কামড়ে একাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার বিষয়টি আমরা জেনেছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।”
এদিকে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে উদ্বেগজনক তথ্য। গত এক বছর ধরে হাসপাতালটিতে জলাতঙ্ক বা র্যাবিস প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের কোনো সরবরাহ নেই। ফলে কুকুরে কামড়ানো রোগীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
হাসপাতালের টিকাকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন,
“সরকারিভাবে উপজেলা পর্যায়ে র্যাবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। আগে উপজেলা পরিষদের সমন্বিত ফান্ড থেকে জরুরি ভিত্তিতে কিছু ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা হতো, বর্তমানে সেটিও বন্ধ রয়েছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকদিন আগেই গাইবান্ধায় পাগলা কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সেই আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই সাঘাটায় নতুন করে কুকুরের উপদ্রব দেখা দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে ভয় আরও বেড়ে গেছে।
দক্ষিণ উল্যা গ্রামের বাসিন্দা মশিউর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আগে সরকারিভাবে কুকুরদেরও ভ্যাকসিন দেওয়া হতো, যাতে তারা কামড়ালেও রোগ ছড়াতে না পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেই কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন খুবই জরুরি।”
এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর এর কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন,
“বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। খুব শিগগিরই ডগ ক্যাচার টিম মাঠে কাজ শুরু করবে এবং বেওয়ারিশ কুকুরকে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনার কার্যক্রম চালানো হবে।”
Leave a Reply