মোঃ শামীম হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার
জামালপুর সদর উপজেলায় অবৈধভাবে পরিচালিত ৪টি ফিক্সড চিমনি ইটভাটার মধ্যে ইতোমধ্যে ৩টিতে অভিযান পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত দুই সপ্তাহ আগে দুইটি এবং গত বৃহস্পতিবার আরও একটি অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি চিমনি ও ভাটার স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়।
তবে রহস্যজনক কারণে এখনো অভিযান পরিচালনা করা হয়নি জঙ্গলপাড়া বোর্ডঘর বাজার সংলগ্ন জারা ইটভাটায়। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, দুইটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমির পাশেই অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এ ইটভাটার ধোঁয়া ও দূষণে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ আশপাশের মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। একই সঙ্গে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছে কৃষিজমি ও ফসল।
তারা আরো বলেন, গত দুই সপ্তাহ আগে জারা ইটভাটা অতিক্রম করে গবিন্দপুর পিঙ্গলহাটি গ্রামে অন্য দুইটি জিরণ ইটভাটায় ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং চিমনি ও ভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একই দিনে রাতে যমুনা ব্রিক্সেও অভিযান চালিয়ে চিমনি ও ভাটা ভেঙে ফেলা হয়। গত বৃহস্প্রতিবার ডাকপাড়ায় স্টার ইটভাটায় অভিযান পরিচারনা করে ৩ লাখ টাকা জরিমানা চিমনি ও ভাটা ভেঙে ফেলা হয়। কিন্তু সেদিনো জারা ইটভাটায় কোন অবিযান পরিচালনা করেনি তারা। দুই সপ্তাহ পার হলেও এখনো কেন অবৈধ জারা ইটভাটার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, অদৃশ্য কোনো কারণে প্রশাসন নজর এড়িয়ে যাচ্ছে জারা ইটভাটার বিষয়ে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর জামালপুরের সহকারী পরিচালক একেএম ছামিউল আলম কুরসি জানান, জামালপুর সদর উপজেলায় চারটি স্থায়ী চিমনিযুক্ত ইটভাটা চালু ছিল। আমরা ঢাকা থেকে আমাদের তদারকি ও আইনপ্রয়োগ শাখার মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেটের সহায়তা পেয়ে তিনটি ইটভাটা ভেঙে ফেলতে সক্ষম হয়েছি। আর একটি ইটভাটা এখনো চালু রয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের তদারকি ও আইনপ্রয়োগ শাখা থেকে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের জন্য আবেদন করা হয়েছে। বাস্তবতা হলো, কাজের তুলনায় ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা কম। তবে আমরা আশা করছি, প্রয়োজনীয় ম্যাজিস্ট্রেটের সহায়তা পেলে বাকি অভিযানও পরিচালনা করতে সক্ষম হব।
Leave a Reply