বিশেষ প্রতিনিধি:
আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে জনকল্যাণ ও পরিবর্তনের বৈপ্লবিক অঙ্গীকার নিয়ে রাজপথে নেমেছেন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অকুতোভয় সৈনিক, ঢাকা-৫ নির্বাচনী এলাকার যাত্রাবাড়ী থানা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও ৫০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মুশফিকুর রহমান ফাহিম।
একটি অবহেলিত ও নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত এলাকাকে সুশাসিত, নিরাপদ এবং আধুনিক বাসযোগ্য ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলাই তার মূল লক্ষ্য। সম্প্রতি তিনি তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন ও আশার সঞ্চার করেছেন।
৫০ নং ওয়ার্ডের জনপ্রিয় কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মুশফিকুর রহমান ফাহিমের নির্বাচনী অঙ্গীকারের প্রধান স্তম্ভ হলো স্বচ্ছতা। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, নির্বাচিত হলে ৫০ নং ওয়ার্ডকে পুরোপুরি মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত করা হবে। প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাব এবং ব্যয়ের বিবরণী জনগণের সামনে পেশ করার মাধ্যমে তিনি সুশাসনের এক নতুন নজির স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে এই ওয়ার্ডের প্রধান অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে মাদক, জুয়া ও চাঁদাবাজি। সাবেক এই যুবদল নেতা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যে, নির্বাচিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে দ্রুততম সময়ে এই সামাজিক ব্যাধিগুলোর স্থায়ী সমাধান করবেন। এছাড়া সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও ফ্যামিলি কার্ডের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার মাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে বলেন, এলাকা থেকে মাদক ও চাঁদাবাজি সমূলে নির্মূল করা হবে। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় পাড়ায় পাড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। বিপথগামী যুবকদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য আধুনিক পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।
একটি আধুনিক নগরের পূর্বশর্তই হলো পরিচ্ছন্নতা। মুশফিকুর রহমান ফাহিম প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ ও ড্রেনেজ সিস্টেম পরিষ্কারের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা দূর করা। মশা নিধন কার্যক্রমকে আধুনিক ও গতিশীল করে জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। সড়কবাতি স্থাপন ও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা দ্রুত সংস্কার করে যাতায়াত ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করা।
তার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে তিনি একটি ‘দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ কেন্দ্র’ স্থাপনের পরিকল্পনা করেছেন। এছাড়া বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ যাবতীয় সরকারি ত্রাণ কোনো প্রকার রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াই প্রকৃত প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন তিনি।
সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ৫০ নং ওয়ার্ডকে ডিজিটালাইজড করার অঙ্গীকার করেছেন এই প্রার্থী। নাগরিক সেবা সহজ করতে ‘অনলাইন অভিযোগ কেন্দ্র’ এবং ‘তথ্য বাতায়ন’ খোলার পরিকল্পনা রয়েছে তার, যাতে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই কাউন্সিলরের কাছে সরাসরি তাদের সমস্যা ও মতামত জানাতে পারেন।
নিজের লক্ষ্য তুলে ধরে মুশফিকুর রহমান ফাহিম বলেন, “আমি ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং একটি অবহেলিত জনপদকে তার প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের জন্য আমার দুয়ার সবসময় খোলা থাকবে। আপনাদের মূল্যবান ভোট ও সমর্থনই হবে আমার আগামীর পথ চলার শক্তি।”
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫০ নং ওয়ার্ডের ভোটারদের প্রত্যাশা, একজন যোগ্য ও নিবেদিতপ্রাণ জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে মুশফিকুর রহমান ফাহিম তার এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলাকায় শান্তি ও উন্নয়নের সুবাতাস বয়ে আনবেন। এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা; ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমেই জনগণ তাদের আগামীর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন।
Leave a Reply