লুতুব আলি, কলকাতা
ভারতের কলকাতার উদীয়মান অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যু ঘটে ২৯ মার্চ দিঘার সমুদ্রে। জনপ্রিয় এই অভিনেতার আকস্মিক প্রয়াণ ঘটায় অনেক প্রশ্ন সামনে চলে। ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় কলকাতার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে অভিনেতা রাহুলের অন্তেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। টালিগঞ্জের জনপ্রিয় এই অভিনেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রির সমস্ত কলা কুশলী, প্রডিউসার, কলকাতার বিজয়গড়ের তাঁর এলাকার স্থানীয় মানুষ, দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা -নেত্রীরা রাহুলকে দেখার জন্য সকলে উপস্থিত হন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাহুলের মৃত্যুর ব্যাপারে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রির অধিকাংশ অভিনেতা-অভিনেত্রীরা রাহুলের আকস্মিক মৃত্যুর ব্যাপারে তদন্ত চেয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে যে ভোলেবাবা পার করে গা শুটিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়নি এমনকি পুলিশ ও প্রশাসনের পারমিশন ও নেওয়া হয়নি। টালিগঞ্জের বিশিষ্ট অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী রাহুলের মৃত্যুর ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেন। রাহুলকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, আবির চট্টোপাধ্যায় সহ টালিগঞ্জের অভিনেতা অভিনেত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এদিন অনেক অভিনেতা, অভিনেত্রীদের কাঁদতে দেখা যায়। অভিনেতা রাহুল এলাকায় বাবিন হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত ছিলেন। তিনি একাধারে বিশিষ্ট অভিনেতা, সুলেখক অন্যদিকে বামপন্থী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এদিন কলকাতায় রাহুলের বাসভবনে বিশিষ্ট অভিনেত্রী ও তৃণমূল নেত্রী সায়নী ঘোষ উপস্থিত ছিলেন। প্রায় দুই দশক আগে রাহুল একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র চিরদিনই তুমি যে আমার ছবিতে অভিনয় করে দর্শক শ্রোতাদের নজর কেড়েছিলেন। সেই ছবির জনপ্রিয় গান পিয়া রে… এখন ও সকলের মুখে মুখে ঘোরে। দীঘার সমুদ্রে অভিনেত্রী শ্বেতা তিনিও রাহুলের সঙ্গে জলে নেমেছিলেন। উদ্ধারকারী নলিয়া ভগিরথ জানা জানান, দুর্ঘটনার কিছু সময় পরই তিনি দুজনকে উদ্ধার করেন। প্রথমে শ্বেতাকে তারপর রাহুলকে। রাহুলকে যখন উদ্ধার করা হয়েছিল তখনও তাঁর দেহে প্রাণ ছিল। দিঘার স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যেতে যেতে রাহুলের মৃত্যু হয়। রাহুলের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। রিপোর্ট এলে তদন্তের অগ্রগতি ঘটবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। দীঘার সমুদ্র সৈকতে অসংখ্য প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পর্যাপ্ত পরিমাণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে এভাবে রাহুলকে অসময়ে চলে যেতে হতো না
Leave a Reply