শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত নবীন হোসেন (২০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এর আগে একই ঘটনায় সোহান বেপারী (৩২) নামে এক যুবক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ নিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোররাতে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে এ বিস্ফোরণ ঘটে। পরে শুক্রবার সকালে ওই বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ হাতবোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, বিস্ফোরণের খবর পেয়ে এন্টি টেররিজম ইউনিটের বোম ডিসপোজাল দল ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের মোট ১৬ সদস্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা সেখানে বোমা তৈরির গানপাউডার, স্প্লিন্টার, ভাঙা কাচ, তারের কাঁটা, কস্টেপ, জর্দার কৌটা ও মার্বেল পাথরসহ বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই বিরোধের জেরে পরিত্যক্ত ওই বাড়িতে ককটেল বা হাতবোমা তৈরি করা হচ্ছিল। বোমা তৈরির সময়ই হঠাৎ বিস্ফোরণে পুরো বসতঘরটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত আরও একজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ বলেন, ‘বোমা ডিসপোজাল ইউনিট ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট আলাদাভাবে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবে। উদ্ধার করা আলামত ও তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
Leave a Reply