পথচারীরা দুর্গন্ধ টের পেয়ে একটি বস্তার ভেতরে লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে উখিয়া থানার টহল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে নিহতের নাম রহিমা (৩০) বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার পিতা আমির হোসেন ও মাতা সেলিনা, ঠিকানা—আব্দুর রহমান বদি স্কুলের পাশে, ১নং ওয়ার্ড, জালিয়াপালং ইউনিয়ন, উখিয়া নিহতের স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, গত ৬ নভেম্বর রহিমার স্বামী জসিম উদ্দিন (পিতা-জাফর উদ্দিন), সাং-পশ্চিম মরিচ্যা (গরু বাজারের পশ্চিম পাশে), ১নং ওয়ার্ড, হলদিয়াপালং ইউনিয়ন—স্ত্রীকে “ঘুরতে নিয়ে যাবেন” বলে পিতার বাড়ি থেকে বের হন।
এরপর থেকে রহিমা নিখোঁজ ছিলেন। সেই দিন থেকেই জসিমও গা-ঢাকা দেন। স্থানীয়দের ধারণা, স্ত্রী হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দি করে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে স্বামী উদ্দিন, এই শিরোনামে একটি সংবাদ স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদ মাধ্যম ছাড়াও বিভিন্ন অনলাইনে বেশ গুরুত্ব সহকারে প্রচার করা হয়।
স্বামী স্ত্রীর পারিবারিক কলহে থেকে হত্যাকান্ড কে পুঁজি করে এলাকার কিছু নিরীহ ব্যাক্তিকে জড়ানোর কেন্দ্ করে সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে কক্সবাজার সরকারি কলেজের মাস্টার্স পড়ুয়া ছাত্র,করিম উল্রাহকে এ হত্যা মামলায় ষড়যন্ত্র মূলক ভাবে ৫ নং আসামী করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে করিম উল্লাহ উখিয়া মরিচ্যা বাজারের একজন তরুণ ব্যবসায়ী বাবা হামিদুর রহমানের মৃত্যুর পর পরিবারের হাল ধরেছিল বড় ভাইও বিগত ২ বছর পুর্বে সেই বড় ভাই কঠিন রোগের কারনে মারা যাওয়ার পর পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে কক্সবাজার সরকারি কলেজের মাস্টার্স পড়ুয়া ছাত্র করিম উল্লাহর উপর। সে তার ছোট ভাইদের নিয়ে বড় ভাইয়ের রেখে যাওয়া দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। সম্প্রতি তার দোকান নিয়ে একটি প্রভাবশালী মহলের সাথে বিরোধ চলে আসছিল। পরিবারের দাবী তাদের দোকানটি হাতিয়ে নিতে ষড়যন্ত্র মূলক ভবে করিম কে হত্যা মামলার ৫ নাম্বার আসামী করা হয়েছে। একটি নিরীহ ছাত্রকে এভাবে হয়রানি করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। Muslim Uddin লিখেছে, একজন সদা হাসিখুশি, নম্র-ভদ্র ও পরিশ্রমী কক্সবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীকে ভিত্তিহীন ও সাজানো মামলায় জড়ানো-এটা শুধু অন্যায় নয়, ভবিষ্যৎ নষ্ট করার ঘৃণ্য চেষ্টা! এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক-একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন যেন কোনোভাবেই রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থের বলি না হয়। Hujjat Ullah Misbah লিখেছে, দীর্ঘ স্বৈরাশাসকের পরে যদি আবারো মানুষ মিথ্যা মামলায় জর্জরিত হয়। তা মেনে নেয়ার মত না। বন্ধু Md Karim এর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার চাই। M Ali Jinnah লিখেছে, এই ছেলেটিকে ষড়যন্ত্র মুলক ভাবে হত্যা মামলায় আসামী করা হয়েছে। মিজানুর রহমান খোকা নামে আইডিতে লিখেছে, মরহুম হামিদুর রহমানের মেজ ছেলে আমার বন্ধু নিরীহ করিমকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো জন্য তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। হত্যা মামলার সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নাই।
প্রশাসনের কাছে অনুরোধ কোন নিরপরাধ ব্যক্তিকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি না করার জন্য। এ হত্যা মামলার সঠিক অপরাধীকে ছাড়া আর কোন ব্যাক্তিকে যেন হয়রানি না করা হয়। Rahim Ullah লিখেছে, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাত জানাচ্ছি, মিথ্যা মামলা থেকে প্রত্যহার চাই। এভাবে শত শত ফেসবুক আইডিতে সচেতন মহল এধরণের একটি সাজানো মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে।
এ ব্যপারে ভুক্তভোগী করিম উল্লাহ বলেন, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া রহিমা খাতুন হত্যাকান্ডের সাথে আমি কোন ভাবেই সম্পৃক্ত নই। তারা আমার আত্মীয় স্বজন পাড়া প্রতিবেশী ও বন্ধু বান্ধব /ব্যবসায়ীক খাতিরে পরিচিত এরকম কেউ নই। তাদের বাড়ি মরিচ্যা গরুর বাজার আমার বাড়ি পশ্চিম মরিচ্যা ঢাকার মুখ গোরাইয়ারদ্বীপ। আমাকে একটা কুচক্রী মহল পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমার বসত বাড়ির জমি দখল ও আমার দোকান পাট দখল করার জন্য আমার পরিবারকে নিষ্ক্রিয় আমার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নষ্ট করার নিমিত্তে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাসানো হয়েছে। কুচক্রী মহল গত ২০২৪ সাল থেকে আমাকে ও আমার পরিবারকে নানা ভাবে হয়রানি করে আসতেছে। তারা আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসতেছে দীর্ঘদিন ধরে।
আমাকে প্রায় মৃত্যুর হুমকি দিয়ে আসতেছে এবং আমাকে দেখে নিবে আমাকে মরিচ্যা বাজার থেকে বিতাড়িত করবে। মরিচ্যা বাজারে কেমনে ব্যবসা করে তারা দেখবে। বর্তমানে আমার দশ লাখ টাকা জামানত দেওয়া একটা দোকান চাঁদাবাজদের দখলে যা হলদিয়া পালং ইউনিয়নের সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সহ সবাই জানে। চাদাবাজ কতৃক আমার দোকান দখল করে নেওয়া বিষয় আমি আমি উখিয়া উপজেলার ইউএনও মহোদয় বরাবর একটা লিখিত অভিযোগ দায়ির করে ছিলাম। তারা বড় মাপের মাফিয়া ও সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট। আপনারা খবর নিয়ে দেখেন তারা মুখোশ পরে নানান অপকর্মের সাথে জড়িত।
ভয়ে কেউ মুখ খোলে না প্রায় মানুষ তাদের হাতে জিম্মি। তারা সর্বশেষ পরিকল্পিত ভাবে আমাকে রহিমা হত্যাকান্ড মামলায় বিভিন্ন উপায়ে আমাকে ৫ নং আসামি করে।যা সম্পুর্ন মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন। আমি উখিয়া থানার ওসি মহোদয় ও কক্সবাজার জেলার এসপি মহোদয় ডিসি মহোদয় সহ কক্সবাজার জেলার সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতি বিনীত অনুরোধ আপনারা সুষ্ঠু তদন্ত করে ঘটনার মুল রহস্য উদঘাটন করুন এবং উক্ত ঘটনায় কে বা কারা জড়িত ছিল তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি ও উপযুক্ত বিচার দাবি করছি পাশাপাশি নিরপরাধ, নির্দোষ তাদের মুক্তির দাবি করছি । আমি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে রহিমা খাতুন হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করছি।
Leave a Reply