বিশেষ প্রতিবেদক :
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক শিক্ষায় বেতন সমতাকরণ, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয় মেরামত, শিক্ষক উপস্থিতি ও সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় একটি শিক্ষক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রায় ২৬ লাখ টাকা উত্তোলন ও আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৩, ২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত ১৪৩ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার কাছ থেকে বেতন সমতাকরণের নামে বিভিন্ন হারে মোট প্রায় ৮ লাখ ৮ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। জেলা-উপজেলা শিক্ষা অফিস ও এজি অফিসে টাকা দেওয়ার কথা বলে এ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সেনবাগের ৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামতের জন্য সরকার ৮১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৩৯ টাকা বরাদ্দ দেয়। এর মধ্যে ২৫টি বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল প্রায় ৫৬ লাখ ৮ হাজার টাকা। অভিযোগ রয়েছে, ভ্যাটসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ কর্তনের পর সংশ্লিষ্টদের কথিত ৩০ শতাংশ টাকা নেওয়া এবং আরও অর্থ আদায়ের মাধ্যমে প্রায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, কয়েকজন শিক্ষক প্রভাব খাটিয়ে পছন্দের ঠিকাদারদের মাধ্যমে বিদ্যালয় মেরামতের কাজ করিয়েছেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে গত ২৯ সেপ্টেম্বর সেনবাগে ১১৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভায় সহকারী শিক্ষকদের অংশগ্রহণ ও সভা পরিচালনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষকের বিদ্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতি ও শ্রেণি কার্যক্রমে অবহেলার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে সাংবাদিকতায় যুক্ত থাকার অভিযোগে সেনবাগের দুই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও মামলা চলমান থাকার তথ্যও রয়েছে। আবার ঐ শিক্ষকরা ৮ অক্টোবর ২০২৬ খ্রী: বিকেলে সেনবাগে শিক্ষক সমিতির ব্যানারে তাদের বিরুদ্ধে দৈনিক নোয়াখালী সময় পত্রিকার সংবাদ মিথ্যা বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত বলে বক্তব্য রাখেন সহকারী শিক্ষক নুর হোসেন সুমন। যাহা সরকারি প্রজ্ঞাপন বহির্ভূত। কোন সরকারি কর্মচারী সংবাদ সম্মেলন করতে হলে, তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি নিতে হয়। আগের দিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরের দিন বিনানুমতিতে একজন সরকারি কর্মচারী কিভাবে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য পেশ করেন ? এটি দেখার বিষয়। এভাবে তিনি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে স্হানীয় কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করছেন ।
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিস থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং পরবর্তী বিভাগীয় কার্যক্রমের কথাও জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে সেনবাগ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রহমান চৌধুরী বলেন, তিনি কর্মস্থলে যোগদানের পর মাত্র ২০ দিন হয়েছে। বেতন সমতাকরণ বা বিদ্যালয় মেরামতের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। বদলির সুপারিশ নিয়ম অনুযায়ী করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইশরাত নাসিমা হাবীবের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযোগে নাম আসা কয়েকজন শিক্ষকের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে বেতন সমতাকরণ ও বিদ্যালয় মেরামতের অর্থের ব্যাংক লেনদেন, বিল-ভাউচার, কোটেশন, হাজিরা খাতা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
Leave a Reply