1. lifemedia766@gmail.com : admin : Badsah Deoan
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
দিনাজপুর বীরগঞ্জে নবনির্মিত মৈত্রী সেতুর উদ্বোধন খুলে গেল যোগাযোগের নতুন দুয়ার. হালিশহর দারুল হিকমাহ সুন্নী মাদরাসায় ঈদে আজমের সালাতু সালাম মাহফিল অনুষ্ঠিত দিনাজপুর বীরগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫ নেশাখোরের ৬ মাস করে কারাদণ্ড হাই-টেক পার্কে ‘বদলি’তেই কি শেষ অনিয়মের গল্প?মোঃ রাসেল সরকার:আনোয়ার-শফিককে ঘিরে নিয়োগ-বাণিজ্য, টেন্ডার তথ্য পাচার, ওএসএস-এ অর্থ লেনদেন ও প্রকল্প অনিয়মের অভিযোগ; তদন্তের মধ্যেই একজনের নতুন কর্মস্থলে যোগদান নিয়ে ধোঁয়াশা! ‎সুন্দরবনে বনরক্ষীদের অভিযানে হরিণ শিকারের বিশাল ফাঁদ ও ট্রলার জব্দ পাঁচবিবিতে শিক্ষককে শিক্ষার্থীর উপহার প্রদান বেহাল রাস্তা মেরামতের দাবিতে অসহায় বাসিন্দার ব্যতিক্রমী মাইকিং, এলাকায় চাঞ্চল্য ছাত্রীকে নিয়ে উধাও শিক্ষক কিন্ডারগার্টেন নিয়ে এত ভয় কেন?প্রতিযোগিতা হোক, মান বাড়ুক প্রাথমিক শিক্ষার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ, করলেন দিনাজপুর-১ এমপি আলহাজ্ব মো মনজুরুল ইসলাম গাইবান্ধায় মানবাধিকার সংস্থার জেলা কমিটি অনুমোদন

হাই-টেক পার্কে ‘বদলি’তেই কি শেষ অনিয়মের গল্প?মোঃ রাসেল সরকার:আনোয়ার-শফিককে ঘিরে নিয়োগ-বাণিজ্য, টেন্ডার তথ্য পাচার, ওএসএস-এ অর্থ লেনদেন ও প্রকল্প অনিয়মের অভিযোগ; তদন্তের মধ্যেই একজনের নতুন কর্মস্থলে যোগদান নিয়ে ধোঁয়াশা!

  • প্রকাশকাল: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
হাই-টেক পার্কে ‘বদলি’তেই কি শেষ অনিয়মের গল্প?মোঃ রাসেল সরকার:আনোয়ার-শফিককে ঘিরে নিয়োগ-বাণিজ্য, টেন্ডার তথ্য পাচার, ওএসএস-এ অর্থ লেনদেন ও প্রকল্প অনিয়মের অভিযোগ; তদন্তের মধ্যেই একজনের নতুন কর্মস্থলে যোগদান নিয়ে ধোঁয়াশা!

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন ও উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. শফিক উদ্দীন ভূঁইয়াকে ঘিরে দীর্ঘদিনের নানা অনিয়মের অভিযোগ এখন তদন্তের টেবিলে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার, নিয়োগ-বাণিজ্য, প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, টেন্ডারের গোপন তথ্য পাচার, ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস), অনাপত্তিপত্র (এনওসি), জমি ও স্পেস বরাদ্দসহ একাধিক স্পর্শকাতর বিষয়।
এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে আইসিটি বিভাগ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এর মধ্যেই গত ৬ সেপ্টেম্বর পৃথক অফিস আদেশে আনোয়ার হোসেনকে চট্টগ্রামের সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে এবং মো. শফিক উদ্দীন ভূঁইয়াকে যশোরের সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। আদেশ অনুযায়ী ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের কথা ছিল।

কিন্তু শফিকের বদলি কার্যকর হয়েছে কি না,এ নিয়েই এখন নতুন প্রশ্ন।

বদলির আদেশ, কিন্তু যোগদান কোথায়?

হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, শফিক উদ্দীন ভূঁইয়া দুই দিন ধরে প্রধান কার্যালয়ে ডিউটি করছেন না। একই সঙ্গে তিনি শুনেছেন, শফিক বদলিকৃত কর্মস্থল যশোরেও যোগদান করেননি।তাহলে প্রশ্ন,৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যোগদানের নির্দেশ থাকার পরও তিনি কোথায়?নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে থাকলে তাঁর অনুপস্থিতির অনুমোদন কে দিয়েছেন? তিনি কি কোনো লিখিত ছুটি বা প্রশাসনিক অনুমতি নিয়েছেন? আর বদলি আদেশ বাস্তবায়নে কোনো প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে সেটি কোথায়?এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

এক কর্মকর্তার হাতে এত দায়িত্ব কেন?

শফিক উদ্দীন ভূঁইয়াকে ঘিরে অভিযোগের একটি বড় অংশ তাঁর হাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব কেন্দ্রীভূত হওয়াকে ঘিরে।সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে তিনি একই সঙ্গে ১২টি জেলায় আইটি/হাই-টেক পার্ক স্থাপন প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের একান্ত সচিব, শিফট/বিআইএফটি সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক, ওএসএস, টেকনিক্যাল ও প্ল্যানিং শাখাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।একজন কর্মকর্তার হাতে প্রশাসন, প্রকল্প, ওএসএস, টেকনিক্যাল, প্ল্যানিং এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দপ্তরের মতো সংবেদনশীল দায়িত্ব কীভাবে একত্রিত হলো,এখন সেই প্রশ্নই সামনে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সাবেক প্রভাবশালী ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকর্ণ কুমার ঘোষের সময় থেকেই শফিকের প্রশাসনিক প্রভাব বাড়তে থাকে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ/দায়িত্ব অর্পণের অফিস আদেশ ও সরকারি নথি যাচাই করা প্রয়োজন।অডিটে ৬ লাখ ৯১ হাজার টাকার প্রশ্ন,শফিক উদ্দীন ভূঁইয়াকে ঘিরে আর্থিক নথিতেও প্রশ্ন থাকার দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তাঁর মূল বেতন বাবদ মোট ৬ লাখ ৯১ হাজার ৩১৪ টাকা অতিরিক্ত ও অনিয়মিত উত্তোলনের তথ্য সরকারি অডিটে উঠে আসে।
এই অর্থ পরবর্তীতে ফেরত বা সমন্বয় করা হয়ে থাকলে তার চালান, হিসাব সমন্বয় ও সংশ্লিষ্ট নথি কোথায়,এটিও তদন্তে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

৩৮ লাখ টাকার ‘আপ্যায়ন ব্যয়’-বিল কার?

আরেকটি অভিযোগ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দপ্তরের ‘আপ্যায়ন ব্যয়’ হিসেবে প্রায় ৩৮ লাখ টাকা খরচ দেখানোকে ঘিরে।অভিযোগকারীদের দাবি, এ ব্যয়ের বড় অংশ ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।অভিযোগটি সত্য কি না, কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, কারা বিল করেছেন, কারা অনুমোদন দিয়েছেন এবং প্রকৃতপক্ষে সেসব আপ্যায়ন হয়েছিল কি না,তা নির্ধারণে বিল-ভাউচার, অনুমোদন নথি ও হিসাবরক্ষণ রেকর্ড পরীক্ষা করা জরুরি।

ওএসএস-এ আড়াই কোটি টাকার অভিযোগ!

শফিককে ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) ও এনওসি প্রক্রিয়া নিয়ে।অভিযোগ রয়েছে, স্যামসাংসহ বিভিন্ন বহুজাতিক ও স্থানীয় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের ডিউটি-ফ্রি ইকুইপমেন্ট আমদানির অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার গোপন লেনদেন হয়েছে।তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত নয়।তাই তদন্তে খুঁজে দেখা প্রয়োজন,কোন প্রতিষ্ঠান কী সুবিধা পেয়েছে, কোন ফাইলে কার নোট ও অনুমোদন রয়েছে, এনওসি প্রদানের ক্ষেত্রে কারা জড়িত ছিলেন এবং আমদানির কাগজপত্রের সঙ্গে অনুমোদনের তথ্যের কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না।

১২ আইটি পার্কের টেন্ডার ও জমি বরাদ্দেও অভিযোগ!

১২টি আইটি পার্ক প্রকল্পের ট্রেনিং ও কনস্ট্রাকশন টেন্ডার, পার্কের জমি এবং স্পেস বরাদ্দকে কেন্দ্র করেও কয়েক কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।প্রশ্ন উঠছে,টেন্ডারের প্রাক্কলন তৈরির আগে বা দরপত্র প্রকাশের আগেই কোনো নির্দিষ্ট ঠিকাদার তথ্য পেয়েছিল কি না। জমি বা স্পেস বরাদ্দের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না।এসবের উত্তর মিলতে পারে শুধু ফাইল ট্রেইল, ই-ফাইল, টেন্ডার নথি, অনুমোদন এবং আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড বিশ্লেষণ করলেই।

আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে নিয়োগ-সিন্ডিকেটের অভিযোগ!

অন্যদিকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনকে ঘিরেও রয়েছে একাধিক অভিযোগ।
পুরোনো কর্মী তালিকায় তাঁকে ‘কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক’ হিসেবে তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের দাপ্তরিক কাজে নিয়োজিত থাকার তথ্য রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে তাঁর উত্থান হয়েছে,এমন অভিযোগও রয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন প্রতিমন্ত্রীর সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) রঞ্জিত কুমারের নেতৃত্বাধীন কথিত নিয়োগ-সিন্ডিকেটের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক প্রতিমন্ত্রীর নিজ এলাকা নাটোরের সিংড়ায় শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার প্রকল্পে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অন্তত ১০ জনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং এসব নিয়োগে প্রত্যেকের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগেরও স্বাধীন তদন্ত ও নথিভিত্তিক যাচাই প্রয়োজন।

টেন্ডার এস্টিমেট’ পাচারের অভিযোগ!

আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আরেকটি গুরুতর অভিযোগ হলো,টেন্ডারের গোপন প্রাক্কলন বা টেন্ডার এস্টিমেট নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাছে আগেই পৌঁছে দেওয়া।
যদি এ অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে এটি শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়; সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি করে।তাই তদন্তে টেন্ডার প্রস্তুত থেকে দরপত্র প্রকাশ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ই-ফাইলের অ্যাক্সেস লগ, নথির গতিপথ এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য যাচাই করা জরুরি।

বদলি কি জবাবদিহির বিকল্প?

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন,বদলি হলেই কি অভিযোগের দায় শেষ?একজন কর্মকর্তাকে এক কর্মস্থল থেকে অন্যত্র বদলি করা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হতে পারে। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে যদি কোটি কোটি টাকার অনিয়ম, নিয়োগ-বাণিজ্য, টেন্ডারের গোপন তথ্য পাচার, ওএসএস-এ অর্থ লেনদেন কিংবা প্রকল্প ও জমি-স্পেস বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ থাকে, তাহলে শুধু বদলি দিয়ে সেই অভিযোগের নিষ্পত্তি সম্ভব নয়।বরং তদন্তের স্বার্থে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ফাইল, ই-ফাইল, ডিজিটাল অ্যাক্সেস, টেন্ডার ডকুমেন্ট, এনওসি নথি, বিল-ভাউচার এবং আর্থিক লেনদেনের ‘মানি ট্রেইল’ সুরক্ষিত করা জরুরি।
একই সঙ্গে অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে অভিযুক্তদের দায়মুক্তি,দুটিই নিশ্চিত করতে হবে।তদন্তের আসল পরীক্ষা এখন
হাই-টেক পার্কের এমডি ফজলুর রহমান জানিয়েছেন, শফিককে বদলি করা হয়েছে, তিনি দুই দিন ধরে প্রধান কার্যালয়ে ডিউটি করছেন না এবং বদলিকৃত কর্মস্থলেও যোগদান না করার কথা তিনি শুনেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এখন দেখার বিষয়,তদন্ত কি শুধু বদলির কাগজে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ১৭ বছরের কথিত প্রশাসনিক প্রভাব, নিয়োগ, টেন্ডার, প্রকল্প, ওএসএস, এনওসি, জমি-স্পেস বরাদ্দ এবং আর্থিক লেনদেনের পুরো ফাইল ট্রেইল ও মানি ট্রেইল অনুসরণ করবে?

কারণ, আসল রহস্য লুকিয়ে থাকতে পারে বদলির আদেশে নয়,ফাইলের ভেতরে।
দাবিগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া তদন্তের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এধরণের অন্যান্য নিউজ