লুতুব আলি, কলকাতা
শতবর্ষ পেরিয়েও বাঙালির মনে একইভাবে উজ্জ্বল মহানায়ক। উত্তম কুমার অতীত নন, তিনি আজও বর্তমান। সেই আবেগ, সেই ভালোবাসাকে সাক্ষী রেখে ৩রা সেপ্টেম্বর, বুধবার শিয়ালদহের কৃষ্ণপদ ঘোষ মেমোরিয়াল হল গেয়ে উঠল মহানায়কের জয়গানে। ভারতীয় সংস্কৃতি মঞ্চের উদ্যোগে পালিত হল জন্মশতবর্ষ স্মরণে উত্তম কুমার।
সকাল ১১টায় অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন প্রধান অতিথি বিশিষ্ট চিত্রপরিচালক ও সাংবাদিক ডঃ ঋতব্রত ভট্টাচার্য। উদ্বোধনী সঙ্গীতের মূর্ছনায় স্মৃতির পাতা উস্কে দেন ডঃ দীপা দাসের ‘খোলা জানালা’র সদস্যরা। অতিথিদের বরণ করে নেন চেয়ারম্যান রাণু রায়, সভাপতির আসন অলংকৃত করেন রঞ্জনা গুহ, আর নিপুণ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানকে বেঁধে রাখেন সুমিতা পয়ড়্যা।
উত্তম প্রসঙ্গে আলোচনায় উঠে আসে মহানায়কের নানা অজানা দিক। আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট নেতাজী গবেষক ও সাংবাদিক কুনাল বসু, ডঃ সমুদ্র বসু, ডঃ চন্দ্রচূড় গোস্বামী, ডঃ অমিতাভ দত্ত ও বরুণ চক্রবর্তী। একই মঞ্চে অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার রাজ্য সভাপতি ডঃ চন্দ্রচূড় গোস্বামীর হাতে রাধা-কৃষ্ণের ছবি তুলে দিয়ে জন্মাষ্টমীর আগাম শুভেচ্ছা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের মধ্যমণি ভারতীয় সংস্কৃতি মঞ্চের কর্ণধার চন্দ্রনাথ বসু আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, “উত্তম কুমার শুধু একজন নায়ক নন, তিনি বাঙালির রুচি, সংস্কৃতি ও আভিজাত্যের শেষ কথা। বাঙালি যতদিন থাকবে, উত্তম কুমারও থাকবেন। তিনি ছিলেন, আছেন, থাকবেন। তাঁকে অতীত করা যায় না। নতুন প্রজন্মের কাছে এই মহানায়কের আদর্শ পৌঁছে দিতেই আমাদের এই উদ্যোগ।”
এদিনই প্রকাশিত হয় সাহিত্যলোক পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা ‘জন্মশতবর্ষ স্মরণে উত্তম কুমার’। বসু প্রকাশনের এই বিশেষ সংখ্যায় কলম ধরেছেন ডঃ সমুদ্র বসু, শিবাশীষ সেনগুপ্ত, মনিকা চট্টোপাধ্যায়, প্রলয় বসু, অপূর্ব কুমার গাঙ্গুলী, দেবাশীষ চক্রবর্তী, দীপঙ্কর বেরা, সুনীল মাইতি, জানকীনাথ মুখোপাধ্যায়, তারাশঙ্কর জানা (সাগর), লুতুব আলি, বরুণ চক্রবর্তী, রাণু রায়, রঞ্জনা গুহ, অমরেশ মুখার্জী, প্রদীপ মিশ্র সহ চল্লিশেরও বেশি বিশিষ্ট লেখক।
অনুষ্ঠানে ছিল ১৪ লাইনের কবিতা পাঠ ও ৫ মিনিটের তাৎক্ষণিক লেখা প্রতিযোগিতা। কবিতা পাঠ করেন রঞ্জনা কর্মকার, সঙ্গীতা বসু রায়, ডঃ শিবানী পাণ্ডে, অঞ্জন চট্টোপাধ্যায়, অমরেশ মুখার্জী, জয়দীপ রায়চৌধুরী সহ শতাধিক কবি। প্রতিযোগিতার বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন শিব শঙ্কর বক্সী, আকাশ পাইন, সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায় ও পিয়ালী কুন্ডু সাহা। কবিদের হাতে দ্বিজেন্দ্রলাল রায় স্মৃতি সম্মান ও গুণীজনদের হাতে শতবর্ষে উত্তম কুমার সম্মান তুলে দেওয়া হয়। সঙ্গীত পরিবেশন করেন উমা সিনহা, শিবেন গুহ ও পুলক সাহা। শেষে পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিয়ে সকলের হাতে চারাগাছ তুলে দেন পরিবেশকর্মী বিলু দোলুই ও পৌলভী মিশ্র। মুখ্য পৃষ্ঠপোষক বরুণ চক্রবর্তী, মুখ্য উপদেষ্টা সঙ্গীতা বসু রায় ও ডাঃ সিরাজুল ইসলাম ঢালি, চেয়ারম্যান রাণু রায়, সঞ্চালিকা সুমিতা পয়ড়্যা ও সভাপতি রঞ্জনা গুহের আমন্ত্রণে দিনভর মানুষের ঢল ছিল চোখে পড়ার মতো।
Leave a Reply