লুতুব আলি, কলকাতা
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ভারতের ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার জোরালো দাবি তুলল বাংলা আকাদেমি ত্রিপুরা।
বাংলা আকাদেমি ত্রিপুরার তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পৃথিবীর ছোট-বড় প্রায় সব দেশই তাদের জাতীয়তাবোধ ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে সম্মান জানাতে জাতীয় কবির নাম ঘোষণা করেছে। যেমন — রাশিয়ার আলেকজান্ডার পুশকিন, ইংল্যান্ডের উইলিয়াম শেক্সপিয়র, ইতালির দান্তে আলিগিয়েরি। কিন্তু আজও ভারতে কোনও কবিকে সাংবিধানিকভাবে জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।
ত্রিপুরা বাংলা আকাদেমির দাবি, বিশ্বের দরবারে ভারতের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে যিনি সর্বোচ্চ উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যিনি ভারতের জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’ -এর স্রষ্টা, সেই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেই ভারতের জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণা করা উচিত।
শেক্সপিয়র বনাম রবীন্দ্রনাথ: দুই মহাসাগরের তুলনা
ইংরেজি সাহিত্যে শেক্সপিয়র যেমন, বাংলা তথা ভারতীয় সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠিক তেমনই।
১. সময় ও প্রেক্ষাপট: শেক্সপিয়র (১৫৬৪-১৬১৬) ছিলেন এলিজাবেথীয় যুগের নাট্যকার। আর রবীন্দ্রনাথ (১৮৬১-১৯৪১) ছিলেন ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের যুগের কবি। একজন রাজতন্ত্রের পৃষ্ঠপোষকতায় লিখেছেন, অন্যজন লিখেছেন পরাধীন জাতিকে জাগাতে।
২. সৃষ্টির পরিধি: শেক্সপিয়র মূলত নাটক ও সনেটের জাদুকর – ৩৭টি নাটক ও ১৫৪টি সনেট। অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন সর্বতোমুখী – কবিতা, গান, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, চিত্রকলা – সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে তাঁর অবদান নেই।
৩. বিশ্ব স্বীকৃতি: শেক্সপিয়রকে বলা হয় ইংরেজি ভাষার শ্রেষ্ঠ লেখক, ইংল্যান্ড তাঁকে জাতীয় কবি হিসেবে বরণ করে নিয়েছে। আর রবীন্দ্রনাথ হলেন এশিয়ার প্রথম নোবেলজয়ী, যিনি দুটি দেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা – ভারতের ‘জন গণ মন’ ও বাংলাদেশের ‘আমার সোনার বাংলা’।
Leave a Reply