মোঃ রেজাউল করিম স্টাফ রিপোর্টার, সুনামগঞ্জ
জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি কৃষি প্রণোদনা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুব্রত সামন্ত সরকার। তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেক কৃষককে ৩ হাজার টাকা এবং ১৫ কেজি করে চাল যথাযথভাবে বিতরণ করা হয়েছে।
চেয়ারম্যান জানান, সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি ইউনিয়ন পরিষদের বিরুদ্ধে ৩০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন। তবে বাস্তবে এটি কোনো প্রণোদনার অর্থ থেকে কেটে নেওয়া হয়নি কিংবা কাউকে বাধ্য করেও আদায় করা হয়নি। ইউনিয়নের বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধে উৎসাহিত করতে বরাদ্দ বিতরণের এক থেকে দুই সপ্তাহ আগে থেকেই বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়েছিল। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে অনেক নাগরিক ও কৃষক স্বেচ্ছায় তাদের ইউনিয়ন কর পরিশোধ করেছেন এবং নির্ধারিত রশিদ গ্রহণ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রণোদনা বিতরণের সঙ্গে কর আদায়ের কোনো সম্পর্ক নেই। যারা কর দিয়েছেন, তারা নিজ উদ্যোগেই দিয়েছেন। কাউকে চাপ প্রয়োগ করা হয়নি।
চাল কম দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কেও চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিটি কৃষককে সরকারি তালিকা অনুযায়ী ১৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। বিতরণ কার্যক্রমে ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ ছিল না।
বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার রায়ও অভিযোগ নাকচ করে বলেন, সরকারি প্রণোদনার একটি টাকাও কম দেওয়া হয়নি। নির্ধারিত ৩ হাজার টাকা ও ১৫ কেজি চাল প্রত্যেক উপকারভোগীকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু মহল ভুল তথ্য দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।
ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সরকারের সহায়তা সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে তারা সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসন তদন্ত করলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
Leave a Reply