স্টাফ রিপোর্টার
তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী আবেদন করার পরও নির্ধারিত সময়ে তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্দুল কাফী সরকার’র বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ডাকযোগে আবেদনপত্র গ্রহণ করা হলেও তিনি কোনো কারণ না জানিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও তথ্য সরবরাহ করেননি।
জানা যায়, একটি সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯—এর নির্ধারিত ফরমে আবেদন করেন সাংবাদিক মেহেদী হাসান। আবেদনটি সরকারি ডাকযোগে অ্যাকনলেজমেন্ট ডিউ (এডি) সুবিধার মাধ্যমে পাঠানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, আবেদনটি গ্রহণের পর ২০ কার্যদিবসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও তথ্য প্রদান করা হয়নি। এমনকি আবেদনকারীকে কোনো লিখিত ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি।
সাঘাটা গ্রামের মাহফুজুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একই উপজেলায় কর্মরত থাকায় বিভিন্ন সমবায় সমিতির পরিচালকদের সঙ্গে ওই কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
আবেদনকারী সাংবাদিক মেহেদী হাসান বলেন, আমি আইন অনুযায়ী তথ্য চেয়েছি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সমবায় সমিতির সঙ্গে যোগসাজশ করে তথ্য প্রদানে গড়িমসি করা হচ্ছে বলে আমার ধারণা। অনিয়ম প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আবেদন পাওয়ার পরও কোনো সাড়া দেওয়া হয়নি।
সাঘাটা গ্রামের এক আইনজীবি এ বিষয়ে বলেন, একই উপজেলায় বছরের পর বছর কর্মরত থাকলেও তথ্য অধিকার আইনের আবেদন উপেক্ষা করা দায়িত্বশীল আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সঠিক সময়ে তথ্য না দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবে বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্দুল কাফী সরকার’র সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি আমার টেবিলে পাইনি।” দীর্ঘদিন একই উপজেলায় কর্মরত থাকায় বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সখ্য পরিচিতি থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, “আমি কয়েক বছর ধরে এখানে কর্মরত। দীর্ঘদিন থাকায় অনেকের সঙ্গেই পরিচয় হয়েছে।
এদিকে ডাক বিভাগের এডি-সংবলিত আবেদনপত্র পাওয়ার দাবি থাকলেও কর্মকর্তার চিঠি না পাওয়ার বক্তব্য নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
আবেদনকারী সাংবাদিক জানান, তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ হিসেবে তিনি গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কাছে আপিল দায়ের করবেন।
Leave a Reply