মো. রাসেল সরকার-ঢাকা:
মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, তার পরিচয় বা পদ-পদবি বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
এমনকি অপরাধী যদি তাঁর নিজের ছোট ভাইও হয়, তাকেও ছাড় না দিয়ে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর মুগদা থানা ইমাম-উলামা পরিষদ, ঢাকা-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক মাসিক পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের মূল দায়িত্ব। নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে আমি এখন জনগণের কাছে জবাবদিহির মধ্যে রয়েছি। সে যেই হোক, আমার ছোট ভাই হলেও ধরবেন। কারোর চেহারার দিকে তাকাবেন না, পদ-পদবির দিকে তাকাবেন না। তিনি আরও যোগ করেন, এ ধরনের অপরাধের ঘটনায় কেউ তদবির বা সুপারিশ নিয়ে তাঁর কাছে এলেও কোনো লাভ হবে না। সভায় উপস্থিত মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এলাকার মানুষ যাতে মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের ভয়ে জিম্মি হয়ে না থাকে, সেই নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু মাদকসেবীদের ধরলে চলবে না; মাদক ব্যবসায়ী এবং যাঁরা এই ব্যবসার পেছনে থেকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন, তাঁদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
কোনো কারণে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবস্থা নিতে সমস্যা হলে, সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের তালিকা র্যাব, ডিবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সরকারের অন্যান্য উচ্চতর সংস্থায় পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি।
রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী হাবিব বলেন, আমার সঙ্গে অনেকের ছবি থাকতে পারে বা রাজনৈতিক কারণে অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ থাকতে পারে। কিন্তু কোনো মাদক ব্যবসায়ীর পক্ষে আমার দলের কোনো নেতা কিংবা আমি নিজে কখনো সুপারিশ করলে, সেটি প্রকাশ্যে জানিয়ে দেওয়ার জন্য আমি পুলিশকে আহ্বান করছি। কাউকে কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া যাবে না।” মাদক ও সন্ত্রাসের পাশাপাশি জনদুর্ভোগ লাঘবেও কড়া নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী। স্কুল চলাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে কোনো ভ্যানগাড়ি বা প্রতিবন্ধকতা রাখা যাবে না বলে প্রশাসনকে নির্দেশ দেন তিনি। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এলাকার উন্নয়ন, শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি জানান, সরকার মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে শুধু থানায় বসে না থেকে নিয়মিত এলাকায় টহল দিতে ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে স্থানীয় ইমাম-উলামা পরিষদের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply