1. lifemedia766@gmail.com : admin : Badsah Deoan
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
মাছের অভয়ারণ্যে মৎস্য ভান্ডার বৃদ্ধির উদ্যোগ, মরা ভদ্রা নদীতে বিল নার্সারির পোনামাছ অবমুক্ত কালিয়াকৈরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উন্নত সেবার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় ময়মনসিংহ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কালিয়াকৈরে মাদক ও অস্ত্র সহ গ্রেফতার -৬ আইনমন্ত্রীকে স্বাগত জানালেন জেলা ছাত্রদল সভাপতি আতিকুর রহমান রাসেল ‎বাগেরহাটে শাপলা তুলতে গিয়ে দুই শিশুর সলিলসমাধি ও ভ্যানচালকের রহস্যজনক মৃত্যু ফেনীতে কোটি টাকার শেয়ার প্রতারণা: ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেশিন বিক্রি করে উধাও পরিচালকরা, অনুসন্ধানে সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকি ‎যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন অর্ধেকে জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের সংকটের শঙ্কা নরসিংদীর মনোহরদীতে ডিমের পিক-আপ ডাকাতির সময় গ্রেফতার-৫ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর জামানত বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মদ ও ফেন্সিডিল জব্দ

স্টেশনে টিকিটের মরীচিকা,সিন্ডিকেটের কবলে জিম্মি সাধারণ যাত্রী

  • প্রকাশকাল: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

​ঢাকা ও চট্টগ্রাম রেলপথের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন। প্রতিদিন এই স্টেশন দিয়ে ২৮টি ট্রেন চলাচল করলেও যাত্রীদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে টিকিট সংকট।

যাত্রী চাহিদার তুলনায় আসন বরাদ্দের অপ্রতুলতা এবং শক্তিশালী কালোবাজারি চক্রের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ যাত্রীরা। অভিযোগ রয়েছে, চড়া দামে টিকিট কিনেও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন যে ২৮টি ট্রেন চলাচল করে, তাতে যাত্রী চাহিদার বিপরীতে আসন বরাদ্দ মাত্র ১,১৫০টি। এর মধ্যে ঢাকার জন্য বরাদ্দ মাত্র ৫৫০টি। এই সীমিত টিকিটের ওপর নজর পড়ে একটি প্রভাবশালী কালোবাজারি চক্রের।

অনলাইনে টিকিট ছাড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই টিকিট উধাও হয়ে যায়, যা সাধারণ মানুষের কাছে এক রহস্য।

​ডিজিটাল প্রতারণার ফাঁদ
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্টেশন কাউন্টার বা অনলাইনে টিকিট না মিললেও কালোবাজারিদের কাছে তা সহজেই পাওয়া যায়। তবে এর জন্য গুনতে হয় নির্ধারিত মূল্যের দ্বিগুণ বা তিনগুণ টাকা। এখানেই শেষ নয়, একই সিটের টিকিট একাধিক যাত্রীর কাছে ডিজিটাল কারসাজির মাধ্যমে বিক্রি করার ভয়াবহ অভিযোগও রয়েছে। এর ফলে ট্রেনে উঠে সিট নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।

​এক ভুক্তভোগী যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য কালোবাজারির কাছ থেকে দুটি টিকিট কিনেছিলাম। ট্রেনে উঠে দেখি একই সিটের বিপরীতে আরও যাত্রী রয়েছেন। এমন প্রতারণার শিকার হওয়ার পরও কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো উদ্যোগ নেই।’

রেলওয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যাত্রীদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘রেলের নিয়ম অনুযায়ী, যার আইডি কার্ড তারই টিকিট ব্যবহারের কথা। অন্য কারও আইডি দিয়ে কাটা টিকিট কেনা অবৈধ।

আমরা নিয়মিত মাইকিং ও সচেতনতামূলক প্রচার চালাচ্ছি, কিন্তু যাত্রীরা অনেক সময় নিয়ম মানছেন না।’
​তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন সুর ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই মো. শাহ আলমের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে যোগদানের পর স্টেশনের ভেতরে টিকিট কালোবাজারি শতভাগ বন্ধ করেছি।

মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বেশ কয়েকজনকে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। বর্তমানে স্টেশনের ভেতরে কালোবাজারিদের কোনো অস্তিত্ব নেই।’

​স্টেশনের বাইরের অলিগলিতে কালোবাজারিদের অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্টেশনের বাইরে টিকিট বেচাকেনার বিষয়ে স্থানীয়দের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

​প্রতিকারহীন ভোগান্তি
প্রশাসন কালোবাজারি নির্মূলের দাবি করলেও বাস্তবতা ভিন্ন। স্টেশনের বাইরে বা আশপাশের অলিগলিতে চলছে জমজমাট টিকিট বাণিজ্য। সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, কর্তৃপক্ষের দায়সারা বক্তব্য সমস্যার সমাধান নয়। টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর নজরদারি ও ডিজিটাল জালিয়াতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

​ভোর থেকে রাত পর্যন্ত স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা এখন শুধু একটিই দাবি জানান— টিকিট কালোবাজারিমুক্ত হোক ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন, হয়রানি বন্ধ হোক সাধারণ মানুষের।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এধরণের অন্যান্য নিউজ