দক্ষিন গফরগাঁও এর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল পাগলা থানার প্রশাসনিক এ্যড়িয়ায় উপজেলা পরিষদ বাস্তবায়ন। ইতিমধ্যেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এমপি নেতৃত্বাধীন সরকার পাগলা থানাধীন ৮টি ইউনিয়নের নিয়ে প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসাবে “দক্ষিণ গফরগাঁও” নামে একটি নতুন উপজেলা অনুমোদন করেছেন। তৎপ্রেক্ষিতে দক্ষিন গফরগাঁওবাসী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় ময়মনসিংহ ১০ আসনের এমপি মহোদয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আনন্দ মিছিল করেছেন। কিন্তু ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখ মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ, নিকার-১ শাখার প্রজ্ঞাপনে নবগঠিত “দক্ষিন উপজেলা” র জনবল ইস্যু ও উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনের স্থান উস্থি ইউনিয়নের নয়াবাড়ী মৌজাকে উল্লেখ করে গেজেট প্রকাশ হওয়ার পর থেকে দক্ষিন গফরগাঁও সর্বস্তরে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। কেননা নবগঠিত উপজেলা যে পাগলা থানাকে কেন্দ্র করে অনুমোদন হইল সেই পাগলা মৌজার নাম শুনলেই এমপি সাহেব রাগান্বিত হয়ে যান। মাননীয় এমপি মহোদয় পাগলা মৌজা কে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করতঃ পাগলা থানার আশেপাশে থাকা বালিপাড়া, মলমল, দক্ষিন্নপাড়া, ময়রা ও কন্যামন্ডল মৌজাকে উপজেলার জন্য নির্বাচন করতে পারতেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু সাহেব জনগনের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রধান্য স্বীয় এমপি পদের প্রভাব ও দাপট খাটিয়ে বিএনপি সহ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ইচ্ছার তোয়াক্কা না করে তার দাপটের সম্ব্রাজ্য উস্থি ইউনিয়নের কান্দিপাড়া এলাকার কতিপয় নামধারী ও স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক ব্যক্তিকে নিয়ে একক ক্ষমতার বলে উপজেলার স্থান নির্বাচন করেন। শুধু তাই‘না এমপির দাপট, হামলা ও মামলার ভয়ে দক্ষিণ গফরগাঁও মানুষ এ বিষয়ে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। যে-ই এ বিষয়ে কথা বলতে চাই তাকেই জামাত-শিবির, ফ্যাসিষ্ট ও গুপ্ত বাহিনী ট্যাগ দিয়ে পুলিশী নির্যাতন চালাচ্ছেন। বর্তমানে দক্ষিন গফরগাঁও বিএনপি খুবই আতঙ্কিত জীবন যাপন করছেন। দক্ষিণ গফরগাঁও বিএনপি’র নেতারা বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট আমলে নানা হামলা, মামলা ও নির্যাতনের স্বীকার হ’য়েও আজ শুধুমাত্র উপজেলার জায়গা নির্বাচন নিয়ে কথা বলার কারনে এমপি সাহেব স্বয়ং লাইভ টেলিকাস্টে এ বিষয়ে কথা বলা সকলকে জামাত- শিবির, ফ্যাসিস্ট বা গুপ্ত বাহিনী বানিয়ে বক্তব্য রাখেন। অথচ এমপির অতীব কাছের উস্থি ও পাঁচবাগইউনিয়ন ছাড়া দত্তেরবাজার ও আশেপাশের ৬টি ইউনিয়নের জনগণ একবাক্যে দক্ষিণে এমপি রাখতে দল ও মতের উর্ধ্বে উঠে এই আক্তারুজ্জামান বাচ্চু কে ইচ্ছাকৃতভাবে স্বপ্রাণোদিত হয়ে ব্যালট বিপ্লবে উত্তর গফরগাঁও এর ১জন প্রভাবশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জামাত প্রার্থীকে পরাজিত করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন।




প্রসঙ্গত সরকারী প্রশাসনিক গঠন নীতিমালা অনুযায়ী নতুন উপজেলা বা জেলা প্রতিষ্ঠান একটি ছোট নগর কেন্দ্রীক গড়ে উঠে। অথচ উপজেলার জন্য নির্বাচিত “নয়াবাড়ী” মৌজায় কোন ব্যবসা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা সরকারের লাভ জনক কোন স্থাপনা না থাকা সত্বেও স্বীয় কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠা কল্পে বল পূর্বক স্থান নির্বাচন করে দক্ষিণ গফরগাঁও বাসীর উপর চাপিয়ে দিতে চাইছেন। নয়াবাড়ি মৌজায় কৃষি জমি ও গ্রামীণ ঘরবাড়ি ছাড়া তেমন কোন উল্লেখ যোগ্য কোন প্রতিষ্ঠান নেই, যার জন্য নয়াবাড়ি মৌজা কে উপজেলা পরিষদ ভবনের জন্য নির্বাচন করা যায়। নগর তো দূরের কথা নয়াবাড়ি মৌজায় ২/৪টি দোকান-পাট পর্যন্ত নাই। প্রশ্ন হলো যদি হাওর-বাউর এলাকা হইত তবে না হয় এমন স্থান নির্বাচন হইতো তা মেনে নেয়া যেত। কিন্ত যেখানে পাগলা বাজারের ২টি উচ্চ বিদ্যালয়, ১টি ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, ১টি দাখিল মাদ্রাসা, ১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি সাব-রেজিষ্ট্রী অফিস ও ২টি আর্থিক ব্যাংকসহ ৮টি ইউনিয়নের জনসাধারনকে সামাজিক ও রাষ্ট্রিয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানা হইল এবং সময়ের বিবর্তনে পাগলা বাজার দক্ষিন গফরগাও এর একটি সম্ভাবনাময় উপ-শহর হাতছানি দিতেছে সেখানে পাগলা বা আশেপাশের কোন মৌজায় উপজেলা না করার কারণ কি হতে পারে। এর কারণ একটাই তাহলো এমপির ক্ষমতা।
পাগলা থানাকে উপজেলা পরিষদ গঠন করা করা হবে মর্মে স্থানীয় সংসদ সদস্য নির্বচানী প্রচারনায় স্পষ্ট অঙ্গিকার করেছিলেন যাহার ভিডিও ক্লিপ নেট দুনিয়ায় হরমামেশায় ভাসছে। তাছাড়া পাগলা থানা হতে নয়াবাড়ী মৌজা আনুমানিক ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন করারমত সমতল জায়গা থাকা সত্বেও ৫ কিলোমিটার দূরে পাশ্ববর্তী উস্থি ইউনিয়নে নিয়ে “উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স” ভবনের জায়গা নির্বাচন কে স্থানীয় লোকজন নিতান্তই এমপির একক ক্ষমতায় নিজ বাড়ী ও এলাকার সন্নিকটে নিয়ে যাচ্ছেন বলে দত্তেরবাজার, টাংগাব, নিগুয়ারী, পাইথল, মশাখালী ও লংগাইর ইউনিয়নের আংশিক জনগন দাবী করছেন। এছাড়াও উস্থি ইউনিয়নের সীমার পর হতে গফরগাঁও ইউনিয়ন শুরু। গফরগাঁও পৌর সীমানায় গফরগাঁও উপজেলা পরিষদ কার্যালয় অবস্থিত। যেখানে বর্তমান গফরগাঁও উপজেলা ও দক্ষিন গফরগাঁও উপজেলার মধ্যস্থলে রয়েছে গফরগাঁও ইউনিয়ন। এমতাবস্থায় দাবী উঠেছে যদি দুইটি উপজেলার দূরত্বই না থাকে তবে কেন? কি কারনে? ফলে দক্ষিন গফরগাঁও উপজেলা হলেও ইহাতে জনগনের তেমন কোন কল্যাণে বয়ে আসবে না।
এইক্ষনে জনগনের ইচ্ছা ও আকাঙ্খাকে প্রাধান্য দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এমপি মহোদয় পাগলা থানার সন্নিকটে কোন জায়াগা বা পাশ্ববর্তী কোন মৌজাকে দক্ষিন গফরগাঁও উপজেলার প্রশাসনিক ভবন নির্মানের নিমিত্বে গেজেটে সংশোধীন আনয়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিবেন বলে দক্ষিন গফরগাঁওবাসী প্রত্যাশা করেন। কারণ পাগলা থানা গফরগাঁও টু মাওনা (শ্রীপুর-গাজীপুর) সড়কের পাশে অবস্থিত। কাজেই পাগলা থানা হতে নবগঠিত উপজেলার ৮ টি ইউনিয়ন, গফরগাঁও উপজেলা সদর, জেলা সদরসহ রাজধানী ঢাকাতে যোগাযোগ অত্যন্ত সহজতর বলে বিবেচনা করেন স্থানীয় জনসাধারণ।
Leave a Reply