শেখ মাহতাব হোসেন
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১নং ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন এবং এলাকার সার্বিক অবকাঠামোগত পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের পরিচিত মুখ, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান জমাদ্দার।
সম্প্রতি আমাদের প্রতিনিধির সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং ইউনিয়নের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তাঁর সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেন। পাঠকদের জন্য তাঁর সেই সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ নিচে তুলে ধরা হলো:
সাক্ষাৎকার
প্রতিবেদক: আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন? আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আপনার মূল লক্ষ্য কী?
আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান জমাদ্দার: ওয়ালাইকুম আসসালাম। আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। আমার মূল লক্ষ্য একটাই—১১নং ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নকে একটি বৈষম্যহীন, আধুনিক, এবং আদর্শ মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলা। আমি চেয়ারম্যান পদের চেয়ারে বসার জন্য নয়, জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে প্রার্থী হয়েছি।
প্রতিবেদক: আপনার নির্বাচনী ইশতেহারে ১ নম্বরেই রেখেছেন শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন। এ বিষয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান জমাদ্দার: শিক্ষা হচ্ছে জাতির মেরুদণ্ড। আমাদের ইউনিয়নে আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন করা অত্যন্ত জরুরি। আমি নির্বাচিত হলে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উপবৃত্তি এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) শিক্ষার প্রসার ঘটাব। শিক্ষাঙ্গনে কোনো দলবাজি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
প্রতিবেদক: ডুমুরিয়া সদরের রাস্তাঘাট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান জমাদ্দার: যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ছাড়া কোনো এলাকার উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমি বিজয়ী হলে টেকসই এবং দীর্ঘস্থায়ী উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও রাস্তাঘাট নির্মাণ করব। বর্ষাকালে যেন সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে না হয়, সে লক্ষ্যে গ্রামীণ কাঁচা রাস্তাগুলো পাকাকরণ এবং প্রধান সড়কগুলোর যথাযথ সংস্কার করা হবে। কাজে কোনো ফাঁকি বা দুর্নীতি প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
প্রতিবেদক: ডুমুরিয়া একটি কৃষিপ্রধান এলাকা। কৃষকদের উন্নয়নে আপনার ইশতেহারে কী রয়েছে?
আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান জমাদ্দার: আমার ইশতেহারের অন্যতম মূল ভিত্তি হলো কৃষকের উন্নয়ন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি। আমাদের এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষকেরা যাতে সঠিক সময়ে ন্যায্য মূল্যে সার, উন্নত বীজ এবং কীটনাশক পান, তা নিশ্চিত করা হবে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে কৃষকদের ফ্রি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং সরকারি প্রণোদনা প্রকৃত কৃষকদের হাতে পৌঁছানো নিশ্চিত করব।
প্রতিবেদক: এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করা এবং পানির সঠিক ব্যবহার নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান জমাদ্দার: এটি আমাদের এলাকার একটি বড় সমস্যা। এ জন্য আমি সরকারি খাল খনন ও পানি নিষ্কাশন উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। অনেক খাল দখল হয়ে গেছে বা পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। এগুলো পুনঃখনন করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা হবে, যাতে বর্ষায় জলাবদ্ধতা না হয় এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষকেরা সেচের পানি পান। এর পাশাপাশি প্রতিটি ঘরে বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিতকরণ-এর জন্য ব্যক্তিগত ও সরকারি উদ্যোগে গভীর নলকূপ এবং উন্নত স্যানিটারি ল্যাট্রিন স্থাপন করা হবে।
প্রতিবেদক: সমাজ থেকে মাদক ও দুর্নীতি দূর করতে আপনি কতটা আশাবাদী?
আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান জমাদ্দার: আমি অত্যন্ত দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আমার চূড়ান্ত লক্ষ্য একটি দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করা। তরুণ সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে বাঁচাতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জোরদার করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদের সকল নাগরিক সেবা (যেমন: জন্ম নিবন্ধন, ওয়ারিশ কায়েম সনদ) সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও ঘরে বসে পাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। কোনো দালালের স্থান ইউনিয়ন পরিষদে হবে না।
প্রতিবেদক: ভোটারদের উদ্দেশ্যে আপনার শেষ কথা কী?
আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান জমাদ্দার: ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের কাছে আমার আকুল আবেদন—আপনারা ব্যক্তি শাহজাহানকে নয়, আমার সততা, যোগ্যতা এবং এই ৬ দফা ইশতেহারকে মূল্যায়ন করুন। আমাকে একবার সেবা করার সুযোগ দিন, আমি আপনাদের আমানতের সর্বোচ্চ খেয়ানত রক্ষা করব এবং ডুমুরিয়াকে একটি আধুনিক শান্তিময় ইউনিয়ন হিসেবে উপহার দেব। ইনশাআল্লাহ।
প্রতিবেদক: আপনাকে ধন্যবাদ আমাদের সময় দেওয়ার জন্য।
আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান জমাদ্দার: আপনাকে এবং আপনার পাঠকদেরও অনেক ধন্যবাদ।
আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান জমাদ্দারের এই ৬ দফা নির্বাচনী ইশতেহার সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। স্থানীয় ভোটারদের মতে, একজন সৎ, যোগ্য এবং দূরদর্শী নেতা হিসেবে শাহজাহান জমাদ্দার ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নের উন্নয়নে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারেন। এখন দেখার বিষয়, আগামী নির্বাচনে ডুমুরিয়াবাসী তাঁদের এই প্রিয় নেতাকে কতটা আপন করে নেন।
Leave a Reply