লুতুব আলি, কলকাতা
চিরচেনা আড্ডার ঠিকানা, বুদ্ধিজীবীদের তীর্থক্ষেত্র কলকাতার কফি হাউস আজ সাক্ষী থাকল এক অন্যরকম ইতিহাসের। স্বজনের উদ্যোগে আমগাছের গোড়ায় জল ঢেলে পলাশী দিবসের সূচনা করলেন ‘শব্দের কারিগর’ বরুন চক্রবর্তী। বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী ডঃ দীপা দাসের উদ্বোধনী সঙ্গীতে ভরে উঠল কফি হাউসের বাতাস। এরপর পলাশীর ইতিহাস ও তার প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় অংশ নিলেন কবি বরুন চক্রবর্তী, কবি অমরেশ মুখার্জী, কবি ও অভিনেতা অজয় ভট্টাচার্য, তরুণ সাহিত্যিক আকাশ পাইন, পরিবেশ প্রেমী মৌলভি মিশ্র এবং ‘কাল বৈশাখী’র সম্পাদক তরুণ পাত্র। স্বজনের সম্পাদক ‘গাছ কাকু’ চন্দ্রনাথ বসু বলেন, “আমগাছ শুধু ফলের জন্য নয়, ইতিহাসের সাক্ষী। একটা গাছ লাগানো মানে আগামী প্রজন্মের জন্য অক্সিজেন রেখে যাওয়া। আসুন, সবুজায়নের শপথ নিই।”
দিনটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে ভারতকেশরী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবসে। আন্তর্জাতিক সাহিত্যিক পৃথ্বীরাজ সেনের লেখা শ্যামাপ্রসাদের জীবনীগ্রন্থ উপহার পেলেন উপস্থিত সকলে। আগামী ২৮শে জুন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিবসের আমন্ত্রণপত্র হিসেবে হাতে হাতে পৌঁছে গেল ‘কপালকুণ্ডলা’। সবশেষে ‘গাছ কাকু’ চন্দ্রনাথ বসু উপস্থিত সকলের হাতে তুলে দিলেন আমের চারা—শহরের বুকে একটুখানি সবুজ ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার।
যে কফি হাউসের টেবিলে একদিন কবিতা লেখা হত, তর্ক জমত, সেই টেবিলের পাশেই আজ উচ্চারিত হল ইতিহাস আর পরিবেশ রক্ষার বার্তা। চায়ের কাপের ধোঁয়ার সঙ্গে মিশে গেল সবুজায়নের আহ্বান। পলাশীর প্রান্তর থেকে কলকাতার কফি হাউস—সময়ের ব্যবধান ঘুচিয়ে দিয়ে এই আয়োজন বুঝিয়ে দিল, ইতিহাস আর প্রকৃতি হাত ধরাধরি করেই বাঁচে।
Leave a Reply