স্টাফ রিপোর্টার :
রাজধানীর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নং ওয়ার্ডে নাহিদ ইসলামসহ কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, প্রভাব বিস্তার, টেন্ডার বাণিজ্য, ব্যবসায়ীদের হয়রানি এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ময়লা ব্যবস্থাপনা, পলিথিন ব্যবসা, চোরাই তার, ট্রান্সপোর্ট,টেন্ডার কার্যক্রম এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এই চক্রের সদস্যরা নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করে থাকেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাহিদ ইসলাম, সাফা করিম লাকী ও সাঈদ হাসান মিন্টুর বিরুদ্ধে এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে।চোরাই তারের মিটফোর্ডে সোহাগ হত্যার আলোচিত ঘটনার আসামী সাপা করিম লাকী রয়েছেন এই সিন্ডিকেটে।
অভিযোগকারীদের দাবি, নাহিদ ইসলাম নিজেকে ৩০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। একই সঙ্গে তিনি ও তার সহযোগীরা নিজেদের ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিভিন্ন ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের নানাভাবে চাপ ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এদের কারণে বিএনপি দুর্নাম।
তাদের অভিযোগ, ময়লা ব্যবস্থাপনা, পলিথিন ব্যবসা, চোরাইতার
ট্রান্সপোর্ট এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অবৈধ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা হয়। জায়গা-জমি দখল, টেন্ডার বাণিজ্য এবং অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তির অভিযোগও তুলেছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন, যার ফলে সাধারণ মানুষ অনেক ক্ষেত্রে মুখ খুলতে সাহস পান না।
তবে অভিযুক্ত নাহিদ ইসলাম, সাফা করিম লাকী ও সাঈদ হাসান মিন্টুর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
একইভাবে তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ এবং ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্যের নাম ব্যবহারের অভিযোগের
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা জরুরি।
Leave a Reply