ঠাকুরগাঁও হারালো এক আদর্শবান সাংবাদিক, সৎ রাজনীতিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সংগ্রামী মহান ব্যক্তিত্ব
নুরে আলম শাহ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ॥
ঠাকুরগাঁওয়ের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রথিতযশা সাংবাদিক, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও ডেইলি অবজারভারের সাবেক সাংবাদিক অধ্যক্ষ মরহুম সৈয়দ মেরাজুল হোসেন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৯ জুন) ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তাঁর মৃত্যুতে ঠাকুরগাঁওসহ দেশের সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে তাঁর মরদেহ ঠাকুরগাঁওয়ে আনা হলে পাবলিক ক্লাব প্রাঙ্গণে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ খাইরুল ইসলামের নেতৃত্বে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
পরে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ সময় ইএসডিও এর নির্বাহী পরিচালক ড. শহীদ উজ জামান, প্রেসক্লাব সভাপতি মনসুর আলী,জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আবু সায়েম, জেলা জাসদ সভাপতি অধ্যক্ষ রাজিউর রহমান,শিক্ষাবিদ মনতোষ কুমার দে,সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল লতিফ,প্রয়াতের ভাগিনা জুলফিকার আলী খান গোর্কী,প্রয়াতের জামাই নাফিস আহম্মেদ।
এরপর পাবলিক ক্লাব মাঠে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দ্বিতীয় জানাজা সেনুয়া পুরাতন গোরস্থান মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এবং দাফন কার্য সম্পন্ন করা হয়েছে।
সৈয়দ মেরাজুল হোসেন ঠাকুরগাঁও জেলা সিপিবির সাবেক সভাপতি ও ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞানে (বোটানি) বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। মেধা ও যোগ্যতার বিচারে দেশের শীর্ষ পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ থাকলেও তিনি নিজ জেলা ও সাধারণ মানুষের সেবাকেই জীবনের ব্রত হিসেবে বেছে নেন।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি সততা, নিষ্ঠা ও আপসহীন আদর্শের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি একজন সাহসী গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে অংশগ্রহণ করেন এবং স্বাধীনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
সাংবাদিকতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে তিনি ছিলেন নির্ভীক কণ্ঠস্বর। জীবদ্দশায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি।
ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবে সাংগঠনিক শুদ্ধতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। সাংবাদিক সমাজের কাছে তিনি ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রেরণার উৎস।
তাঁর মৃত্যুতে জেলার সাংবাদিক সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সর্বস্তরের মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
শোকবার্তায় তাঁরা বলেন, সৈয়দ মেরাজুল হোসেনের মৃত্যুতে ঠাকুরগাঁও হারিয়েছে একজন আলোকিত মানুষ, আদর্শবান সাংবাদিক, সৎ রাজনীতিক এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এক সংগ্রামী ব্যক্তিত্বকে।
শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তাঁরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
Leave a Reply