মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় সাংবাদিকদের বেতন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক সংবাদকর্মীকে সংঘবদ্ধভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৩নং বহরা ইউনিয়নের ঘিলাতলী গ্রামের মো. সোহাগ মিয়া এবং তার সহযোগী মনতলা এলাকার আরাফাতসহ কয়েকজন মিলে ওই সাংবাদিকের ফেসবুক কমেন্ট বক্স ও ব্যক্তিগত ইনবক্সে কুরুচিপূর্ণ গালিগালাজসহ সরাসরি ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি প্রদান করেছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মাধবপুরের এক সংবাদকর্মী সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের আগে তাদের বেতন ও কাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে ফেসবুকে একটি ব্যানার পোস্ট করেন। এর কিছুক্ষণ পরেই ঘিলাতলী গ্রামের মোহাম্মদ দুলাল মিয়ার ছেলে মো. সোহাগ মিয়া তার ব্যক্তিগত আইডি থেকে পাল্টা একটি পোস্ট দিয়ে সাংবাদিকদের পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেন।
সংঘবদ্ধ গালিগালাজ ও প্রকাশ্য হুমকি পরবর্তীতে ওই সাংবাদিক তার পারিবারিক একটি অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করলে সোহাগ মিয়া সেটিকে নিজের ওপর মনে করে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এরপর সোহাগ ও তার স্থানীয় বন্ধু-বান্ধবরা মিলে ওই সাংবাদিকের ফেসবুক কমেন্ট বক্সে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।
বিশেষ করে মনতলা এলাকার বাসিন্দা সোহাগের বন্ধু মো. আরাফাত ওই সাংবাদিকের কমেন্ট বক্সে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে লেখেন— “বাড়িতে আসিস, তোর সবকিছু রাখা হয়েছে। তোর কোনো হেডাম থাকলে পিটা থেকে বাঁচিস।” ### ব্যক্তিগত ইনবক্সে হুমকির বিবরণ বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক সোহাগের ইনবক্সে যোগাযোগ করে বিনয়ের সাথে জানান যে, পোস্টটি তাকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া হয়নি। কিন্তু সোহাগ মিয়া সেই অনুরোধ উপেক্ষা করে ইনবক্সে আরও উগ্র আচরণ শুরু করেন। তিনি ওই সাংবাদিককে গালিগালাজ করে লেখেন, “মনতলা বাজারে পেলি খবর আছে।” এক পর্যায়ে তিনি সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বলেন, “পারলে আমার হাত থেকে বাঁচিস।”
ভুক্তভোগীর বক্তব্য ও আইনি পদক্ষেপ ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, বিনয়ের সাথে কথা বলার পরও সোহাগ ও তার সহযোগীরা যেভাবে সংঘবদ্ধভাবে তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে, তাতে তিনি আতঙ্কিত। তিনি বলেন, “সোহাগ ও আরাফাতের উস্কানিমূলক আচরণ এবং হুমকির সব প্রমাণ আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। আমি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানিয়েছি এবং খুব দ্রুতই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করবো।”
এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে সাংবাদিককে হুমকির ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply