নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঐতিহাসিক মে দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট দেশের সকল শ্রমজীবী মানুষকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা ও সংহতি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট)-এর সংগঠন প্রধান আবু লায়েস মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহজামাল আমিরুল ৩০ শে এপ্রিল ২০২৬ খ্রি¬¬¬¬স্টাব্দে যৌথ বিবৃতিতে আরও বলেন একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে শ্রমিকদের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, স্বাধীনতার অর্ধ শতাব্দী পরও দেশের শ্রমজীবী মানুষ আজও ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। শিল্পকারখানায় অমানবিক শ্রমঘণ্টা, বেতন বৈষম্য, শ্রমিক সংগঠনের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মস্থলে দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে—শ্রমিকবান্ধব রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে গার্মেন্টস, চা, নির্মাণ, পরিবহন ও অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরা চরম অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মধ্যে জীবনযাপন করছেন।
যৌথ বিবৃতিতে মুক্তিজোটের পক্ষ থেকে তাঁরা নিম্নোক্ত দাবিসমূহ উত্থাপন করেছে—
১. বকেয়াসহ ঈদুল আযাহার বোনাস ও মে মাসের বেতন ১০ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
২. চা ও গার্মেন্টসসহ সকল শ্রমিকদের জন্য জীবিকা নির্বাহযোগ্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করে অন্যান্য পেশাজীবীদের সাথে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে হবে।
৩. কৃষক-শ্রমিক ও প্রবাসীদের জন্য বীমা ব্যবস্থা চালু করা এবং তাদের ন্যায্য সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. রিক্সা সহ যে কোনো শ্রমিকদের আধুনিক ও পরিবেশ বান্ধব যান্ত্রিক যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানোর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৫. বাংলাদেশের জনগণকে মানব সম্পদে গড়ে তোলার লক্ষ্যে উপজেলা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে স্থানীয়ভাবে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ শ্রমিক তৈরি করতে হবে।
৬. নিরাপদ, মানবিক ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে হবে ও শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকতে হবে।
৭. কর্মস্থলে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
৮. শ্রমিকদের জন্য চিকিৎসা, বাসস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
৯. ব্যবসা ও কলকারখানার লভ্যাংশে শ্রমিকদের অংশীদার করার আইন পাস করতে হবে
শ্রমিক শ্রেণির ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে এই দিনটি একটি অনন্য মাইলফলক। ১৮৮৬ সালের হে মার্কেট ট্র্যাজেডি-এর আত্মত্যাগ আজও বিশ্বব্যাপী শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের অনুপ্রেরণা জোগায়।
মে দিবসের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে তাঁরা সকল শ্রমজীবী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী গণআন্দোলন গড়ে তোলা যায়।
Leave a Reply