1. lifemedia766@gmail.com : admin : Badsah Deoan
  2. crimereport24@gmail.com : Mehedy Hasan : Mehedy Hasan
  3. : notespanel :
  4. crime7775@gmail.com : Nure Alom Sah : Nure Alom Sah
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিতদের ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের অভিনন্দন গ্রাহকের ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ জালিয়াতির মাধ্যমে রূপায়ণ হাউজিংয়ের নকশা অনুমোদন দুদকের জালে রাজউকের ৪৬ কর্মকর্তা ময়মনসিংহে ডিবির অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবা সহ একজন গ্রেপ্তার খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার-সম্পাদক তরিকুল ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা সেতুতে টোল আদায় বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন রূপগঞ্জে মাদক বিক্রির ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল৷ ডুমুরিয়ায় তলিয়ে যাচ্ছে পাকা ধান, শ্রমিক সংকটে দিশেহারা কৃষকরা শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা নিয়ে তুষার কান্তি বড়ুয়ার কিছু কথা রূপগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় আহত মৎস্য খামারির মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চট্টগ্রামে ছুটে গিয়ে জলাবদ্ধতা পরিদর্শন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বিএনপির শাসনামলে ও চট্টগ্রামের বিএনপি অবহেলিত

গ্রাহকের ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ জালিয়াতির মাধ্যমে রূপায়ণ হাউজিংয়ের নকশা অনুমোদন দুদকের জালে রাজউকের ৪৬ কর্মকর্তা

  • প্রকাশকাল: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
নজিরবিহীন জালিয়াতির মাধ্যমে রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেড’কে অবৈধভাবে নকশা অনুমোদন (প্ল্যান পাস) করে দেয়ার অভিযোগে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ৪৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রাজধানীর উত্তরায় সরকারি জমির উপর ২০ তলা ভবনের নকশা অনুমোদন দেখিয়ে ফ্ল্যাট বিক্রির মাধ্যমে ইতিমধ্যে গ্রাহকের ১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জালিয়াতির এই তালিকায় রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান, সদস্য ও প্রকৌশলীরা রয়েছেন । এরই মধ্যে অভিযুক্তদের বিস্তারিত নথিপত্র ও ব্যক্তিগত তথ্য তলব করেছে দুদক। অন্যদিকে গুলশানের একটি প্লটের জাল নথি তৈরি করে আরো এক গ্রাহকের অন্তত পৌনে ৫ কোটি টাকা আত্মসাতেরও অভিযোগ উঠেছে।‌ পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১২ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত রাজউকে এসব অপরাধ সংগঠিত হয়েছে।‌

দুদকের ধারণা, রাজউকের বর্তমান ও সাবেক প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত শক্তিশালী ‘সিন্ডিকেট’ এই অনিয়মের নেপথ্যে রয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, রাজউকের ডেপুটি টাউন প্ল্যানার কামরুল হাসান সোহাগসহ বেশ কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জাল কাগজপত্র তৈরি করে ‘রূপায়ন হাউজিং এস্টেট লিমিটেড’কে প্ল্যান পাস করে দেওয়ার অভিযোগ উঠে। ওই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে রাজউকের তৎকালীন ও বর্তমান প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের একটি তালিকা তৈরি করে দুদক।

অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী এই চক্রটি পদের অপব্যবহার করে ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে নজির বিহীন জালিয়াতি করে আবাসন কোম্পানিটির নকশা অনুমোদন করে দিয়েছে।

রাজউক সূত্রে জানা গেছে, দুদকের অনুসন্ধান তালিকায় রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ও সদস্য, পরিচালক, অথরাইজড অফিসার থেকে শুরু করে নিম্নমান সহকারী পর্যন্ত ৪৬ জনের নাম রয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধান দলের এক চিঠিতে রাজউকের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও এস্টেট শাখার কর্মকর্তাদের বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানাসহ বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। এসব তথ্য সরবরাহের জন্য রাজউক চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে রাজউক চেয়ারম্যানের নির্দেশে উপপরিচালক (প্রশাসন-১) ও সহকারী পরিচালক (প্র‌শাসন) স্বাক্ষরিত একটি পূর্ণাঙ্গ নথিও প্রস্তুত করা হয়েছে।
ওই তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জালিয়াতিতে অভিযুক্তদের মধ্যে অনেকে অবসরে গেছেন, কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছেন আবার কেউ লিয়েনে দেশের বাইরে কর্মরত। তবে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ বর্তমানে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (গাউক)-এ বদলি হয়ে কর্মরত আছেন। দুদকের নজরদারিতে থাকা সাবেক ও বর্তমান শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান
মো. আব্দুর রহমান। ২০১৯ সালের ১৪ জুন তিনি অবসরোত্তর ছুটিতে গমন করায় তাকে রাজউক থেকে অবমুক্ত করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
রাজউকের সাবেক সদস্য, পরিকল্পনা জিয়াউল হাসান এনডিসি। প্রেষণে নিয়োজিত এই কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ঠিকানা রাজউকের কোন নথিতে পাওয়া যায়নি। ২০১৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তাকে মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানে বদলি করা হয়েছিলো। আরেক অভিযুক্ত রাজউকের সাবেক সদস্য, পরিকল্পনা শেখ আব্দুল মান্নান। বর্তমানে তিনি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কর্মরত রয়েছে।
রাজউকের বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী (প্রকল্প ও ডিজাইন) হিসেবে দায়িত্বরত মোহাম্মদ মোবারক হোসেন। তিনি বর্তমানে মালিবাগ অফিসার্স কোয়ার্টারে থাকছেন। তার স্থায়ী ঠিকানা মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান এ। এছাড়া দুদকের তালিকায় থাকা আব্দুল্লাহ মো. জুবাইর ও স্বরের্ণন্দুর শেখর মন্ডল। রাজউকের নথিতে জানানো হয়েছে, তারা এই প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী কর্মচারী নন, ফলে তাদের বিস্তারিত তথ্য নেই।
তাছাড়া রয়েছেন উপ-নগর পরিকল্পনাবিদ মো. সিরাজুল ইসলাম। তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার গঙ্গাঠরদী গ্রাম।
রাজউকের বর্তমানে প্রধান নগর স্থপতির দায়িত্বে থাকা মোস্তাক আহমেদ। তার স্থায়ী ঠিকানা পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, বর্তমানে গুলশানের রাজউক অফিসার্স কোয়ার্টারে বসবাস করেন। রাজউকের সাবেক পরিচালক, আইন মো. রোকন উদ-দৌলা। বর্তমানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব। প্রেষণে থাকায় ঠিকানা নথিতে নেই। ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি রাজউক থেকে অবমুক্ত হন। রাজউকের পরিচালক, উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১
মো. গোলাম মোস্তফা। বর্তমানে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে কর্মরত। তার স্থায়ী ঠিকানা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও, বর্তমান ঠিকানা ধানমন্ডি। রাজউকের সাবেক পরিচালক
ড. মুহাম্মদ মোশারফ হোসেন,২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর রাজউক থেকে অবমুক্ত হয়ে বর্তমানে বরিশালের অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে কর্মরত রয়েছে। প্রেষণে থাকায় তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা নেই।
রাজউকের জোন-২ এর পরিচালক আনন্দ কুমার বিশ্বাস। বর্তমানে তিনি পিএসসির আইন কর্মকর্তা। তার স্থায়ী ঠিকানা ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা, বর্তমান নিবাস উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরে।
অথরাইজড অফিসার মো. মিজানুর রহমান। তিনি ১৮ অক্টোবর ২০১৬ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত আছেন। বাড়ি নওগাঁর রহমান কলোনিতে। অথরাইজড অফিসার মোহাম্মদ পারভেজ খাদেম। ২০১৪ সালে তাকে মূল কর্মস্থল গণপূর্ত অধিদপ্তরে ফেরত পাঠানো হয়।
অথরাইজড অফিসার মো. আশরাফুল ইসলাম আহমেদ।‌
বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
তালিকায় আরো রয়েছেন রাজউকের আইন শাখার বর্তমান পরিচালক চলতি দায়িত্ব মো. মাহফুজুল করিম। তার বাড়ি রংপুরের কাউনিয়ায়, বর্তমানে পান্থপথে বসবাস করেন। এডভোকেট মো. আব্দুস সাত্তার ও মো. তাওফিকুজ্জামান। তাদের কোন ঠিকানা পাওয়া যায়নি।
রাজউকের সাবেক সহকারী অথরাইজড অফিসার জান্নাতুন নাঈমা। বর্তমানে তিনি গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে কর্মরত। গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা হলেও তিনি বর্তমানে ঢাকার ক্যান্টনমেন্টের বালুঘাট এলাকায় বসবাস করেন।
সাবেক সহকারী অথরাইজড অফিসার তামান্না বিনতে রহমান। ২০২২ সালের ১৩ এপ্রিল থেকে তিনি লিয়েনে বিদেশের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। বর্তমান ঠিকানা উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টর।
সহকারী অথরাইজড অফিসার
শেখ মুহাম্মদ এহসানুল ইমাম।‌
তিনি বর্তমানে রাজউকের জোন-১/১ এ কর্মরত। তার বাড়ি মেহেরপুরে, তিনি বর্তমানে রাজধানীর ইন্দিরা রোডে বসবাস করছেন। সাবেক সহকারী অথরাইজড অফিসার
মো. খায়রুজ্জামান। বর্তমানে তিনি জোন-২ এর প্রধান ইমারত পরিদর্শক। বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী। রাজউকের সাবেক প্রধান ইমারত পরিদর্শক মো. আব্দুস সালাম । তিনি ২০২২ সালের ১০ মার্চ থেকে অবসরে আছেন। তার বাড়ি পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার সোনাতলা গ্রামে। রাজউকের সাবেক প্রধান ইমারত পরিদর্শক মো. গনি মিয়া। তিনি গত ৩০ অক্টোবর ২০১৬ থেকে অবসরে রয়েছেন। তার বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে।
প্রধান ইমারত পরিদর্শক মো. বিল্লাল হোসেন। বর্তমানে তিনি রাজউকের জোন-৬/১ এ কর্মরত। তার বাড়ি চাঁদপুরের মতলবে। বর্তমানে বনানী রাজউক স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাস করছেন। সাবেক ইমারত পরিদর্শক মো. সিরাজুল ইসলাম। ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি অবসরে গেছেন। তার বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনায়। সাবেক ইমারত পরিদর্শক মো. মাসুদুর রহমান। তিনি বর্তমানে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে কর্মরত। তার বাড়ি জামালপুরে। বর্তমানে দক্ষিণখানের কাওলায় বসবাস করেন। সাবেক ইমারত পরিদর্শক মো. জালাল উদ্দিন। তিনি ২০২৪ সালের ২ মার্চ
কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে। প্রধান ইমারত পরিদর্শক আবু শামস রকিব উদ্দিন আহমেদ। বর্তমানে তিনি জোন-৫/২ এ কর্মরত। তিনি উত্তর বাড্ডার বাসিন্দা। সহকারী পরিদর্শক জ্ঞানময় চাকমা। তিনি বর্তমানে এস্টেট ও ভূমি-২ শাখায় কর্মরত। বাড়ি রাঙামাটি সদরে, থাকছেন উত্তরার রাজউক কোয়ার্টারে। সার্ভেয়ার মো. তাজুল ইসলাম, ২০১৪ সালের
৫ আগস্ট তারিখে কানুনগো হিসেবে কর্মরত অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়ায়।
এস্টেট পরিদর্শক মো. তফিকুল ইসলাম। বর্তমানে এস্টেট ও ভূমি-১ শাখায় কর্মরত। বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী। বর্তমানে উত্তরার ১৬ নম্বর সড়কে বসবাস করেন। রাজউকের জোন-৭ এর উচ্চমান সহকারী মো. জাহিদুল ইসলাম। বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে। তিনি সবুজবাগের বাসাবো মাদারটেক এলাকায় বসবাস করেন । রাজউকের আইন শাখায় কর্মরত অফিস সহকারী সুকুমার চন্দ্র সূত্রধর। তার বাড়ি পাবনার বেড়ায়। থাকেন শাহজাহানপুরের মালিবাগে। অফিস সহকারী মো. মাসুদ রানা তালুকদার। বর্তমানে আইন শাখায় কর্মরত। তার বাড়ি বগুড়ার শেরপুরে, থাকছেন খিলক্ষেতে। অফিস সহকারী মো. জাহাঙ্গীর আলম। জোন-৫ এ কর্মরত। বাড়ি রংপুরে। থাকেন আশুলিয়ার তালপট্টিতে। রাজউকের জোন-২ এর নক্সাকার মো. আলমগীর কবীর। গ্ৰামের বাড়ি যশোরের ঝিকরগাছায়। থাকেন ঢাকার পূর্ব বাড্ডায়।
নক্সাকার মো. সাইফুল ইসলাম। কর্মরত থাকা অবস্থায় ২০১৪ সালের ২৫ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে। সাবেক নক্সাকার মো. এমদাদুল হক মুন্সী। বর্তমানে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে কর্মরত। বাড়ি কুড়িগ্রামের উলিপুরে। থাকেন বারিধারা সোহরাওয়ার্দী এভিনিউতে। জরীপকার মো. আলী আজগর মিয়া। ২০২৪ সালের ৩ মার্চ থেকে কানুনগো হিসেবে অবসরে আছেন। বাড়ি টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে।
নিম্নমান সহকারী মুহাম্মদ হামিদুর রহমান। বর্তমানে নক্সাকার হিসেবে দায়িত্বরত। বাড়ি জামালপুরের ইসলামপুরে, থাকছেন দক্ষিণখানের ফরিদাবাদে। সাবেক ড্রাফটসম্যান মো. নাজমুল হক। বর্তমানে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অফিস সহকারী। বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে, উত্তরখানের ভাই ভাই মার্কেট এলাকায় বসবাস করেন। ‌নক্সাকার এস এম হাফিজুর রহমান। ২০২২ সালের ১ জুন জোন-৩ এর প্রধান ইমারত পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। বাড়ি খুলনার কয়রায়। রাজউকের নগর পরিকল্পনা শাখার উচ্চমান সহকারী হিসেবে কর্মরত মো. নুরুল ইসলাম। তার বাড়ি গাজীপুরের কালীগঞ্জে। সাবেক উপ-নগর পরিকল্পনাবিদ
কামরুল হাসান সোহাগ। তিনি বর্তমানে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে কর্মরত। বাড়ি খুলনার ডুমুরিয়ায়। গুলশানের কালা চাঁদপুরে বসবাস করেন। রাজউকের পরিকল্পনা শাখার জিআইএস অপারেটর হিসেবে কর্মরত এমরান হোসেন সুমন। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে। তিনি শান্তিনগরে বসবাস করেন।

রাজউক সূত্র জানায়, দুদকের অনুসন্ধানের স্বার্থে সব ধরণের দাপ্তরিক নথিপত্র সরবরাহ করা হচ্ছে। তালিকায় থাকা অনেক কর্মকর্তা প্রেষণে নিয়োজিত থাকায় তাদের বিস্তারিত ঠিকানা রাজউকের মূল নথিতে পাওয়া যায়নি, তবে তাদের বর্তমান কর্মস্থলের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। দুদকের তলবি চিঠির প্রেক্ষিতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তারা।

এদিকে রাজউকের কনিষ্ঠ হিসাব সহকারী মো. আবু আহসান ওরফে নিশানের বিরুদ্ধে জনৈক গ্রাহকের ৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ওই অভিযোগে বলা হয়েছে, গুলশান আবাসিক এলাকার বাড়ি নং ৯৩, ব্লক-সিইএন (এ), প্লট নং-১৫/সি এর একটি প্লট বিক্রির নাম করে ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে তিনি এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। দুদকের পত্রে ওই কর্মচারীর চাকুরিতে যোগদান, পদোন্নতি এবং এর আগে তাকে বরখাস্ত ও পুনরায় বহাল করার পেছনে কোনো অদৃশ্য শক্তি কাজ করেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দুদক কর্মকর্তাদের মতে, রাজউকের মতো সংস্থায় জাল নথিপত্র তৈরি করে হাউজিং কোম্পানিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া এবং সাধারণ গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করা একটি সংগঠিত অপরাধ। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের বর্তমান ও অবসরকালীন ঠিকানা পর্যালোচনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের সত্যায়িত ছায়ালিপি সংগ্রহ করা হচ্ছে। তথ্য পাওয়ার পর এই সিন্ডিকেটের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে বলে জানান তারা।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম অনিয়মের অভিযোগে রূপায়ন হাউজিংয়ের অনুমোদিত প্ল্যান বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তলব করা রাজউকের অভিযুক্ত ৪৬ জন কর্মকর্তার নামের তালিকাও ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে।

গত ২০ নভেম্বর গ্রাহকের পৌনে পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়ে দুদকের চিঠির জবাব দেওয়ার শেষ সময় এক মাস পার হলেও কেন দেরি হচ্ছে— এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান জানান, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “আগামী দুই দিনের মধ্যেই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে রাজউকের পক্ষ থেকে দুদককে আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।”

এ বিষয়ে রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার পিএস সালাম এবং কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান পলাশ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। হাবিবুর রহমান পলাশ যুগান্তরকে জানান, উত্তরার রূপায়ন হাউসিং ল্যান্ডের বিষয়টি মুকুল সাহেবের ছোট ভাই রতন দেখাশোনা করেন। সেখানে প্রায় ১৬ কাঠার ১ লক্ষ ৩ হাজার ৬ শত ৮০ স্কয়ার ফিট আয়তনের একটি জায়গার সমস্যা রয়েছে।
তিনি আরো জানান, ১০ তলা ভবনটির ৮ হাজার প্রতি স্কয়ার ফিট দরে বিক্রি হয়েছে। এর আগে রাজউক প্লান দিয়েছিল এখন নতুন করে প্ল্যান বাতিল করে দিয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, সত্যতা স্বীকার করেও তারা প্রতিবেদন প্রকাশ না করার জন্য জোরালো ভাবে এখন কাউকে টাকা-পয়সা দিয়ে ‘ব্যালেন্স’ করা সম্ভব নয়, তাই সংবাদটি যেন প্রকাশ না হয়।”

চেয়ারম্যান মুকুলের সাথে সরাসরি কথা বলতে চাইলে জানানো হয়, ৫ই আগস্টের পর থেকে তিনি কার্যত আত্মগোপনে রয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফ্ল্যাট মালিক চরম হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, “বাইরে থেকে গ্রুপের জৌলুস দেখে বোঝার উপায় নেই ভেতরে এতো জালিয়াতি। ফ্ল্যাট কেনার পর জানতে পেরেছি এই জমির মালিকানা নিয়ে ধোঁয়াশা আছে। সাধারণ মানুষের পক্ষে এতো যাচাই করা সম্ভব নয়। সরকার তৎপর না হলে আমাদের মতো নিরীহ মানুষের সারা জীবনের সঞ্চয় ধুলোয় মিশে যাবে।”

আকাশ চৌধুরী, রানা মিয়া, পারভেজ (ছদ্মনাম) ও ৮ থেকে ১০ জন স্থানীয় বাসিন্দা যুগান্তরকে জানান, রূপায়ণ গ্রুপ জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে কয়েকশো কোটি টাকা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু সরকারি কর্মকর্তার যোগসাজশেই এই বিশাল অনিয়ম সম্ভব হয়েছে। সরকারি জায়গা দখল করে ১০-১২ হাজার টাকা স্কয়ার ফিট দরে ফ্ল্যাট বিক্রি করে প্রায় ১০৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে রুপায়ন।

স্থানীয়রা আরো জানান, উত্তরা রূপায়ণ হাউজিং প্রকল্পের প্রায় বেশিরভাগ জায়গায় সরকারি খাস জমির জালজালিয়াতি কাগজপত্র করে গড়ে তুলেছে। এভাবে সাধারণ মানুষের কাছে ফ্ল্যাট বিক্রির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আবাসন প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপায়ণ গ্রুপ মানুষের আস্থার জায়গা তৈরি করেছিল। কিন্তু নিভৃতে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস নিয়ে এমন প্রতারণা এবং সরকারি সম্পদ আত্মসাৎকে নাগরিকরা এখন ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছেন। প্রতিবেদনটি বন্ধ করতে বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমেও চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, রূপায়ন গ্রুপের বিরুদ্ধে উত্থাপিত জমির মালিকানা সংক্রান্ত অভিযোগটি মূলত ব্যক্তি-মালিকানাধীন জায়গা নিয়ে। মোস্তফা জামান নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন যে, সংশ্লিষ্ট জমিতে তার মালিকানা রয়েছে। অন্যদিকে রূপায়ন গ্রুপও ওই একই জমির মালিকানা দাবি করছে।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, জমিটি কোনো সরকারি খাস জমি নয়। উভয় পক্ষই জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকার দাবি জানাচ্ছে। বর্তমানে রূপায়ন গ্রুপ সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছে এবং তাদের দাবি অনুযায়ী তারা বৈধভাবেই ওই জায়গার মালিক। মূলত একই জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও পাল্টা-পাল্টি দাবির প্রেক্ষিতে এই অভিযোগটি দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

রাজধানীর উত্তরায় রূপায়ণ হাউজিংয়ের নকশা জালিয়াতির অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এধরণের অন্যান্য নিউজ