শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা।
৩০এপ্রিল বৃহস্পতিবার
দিনভর টানা বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি পাকা ধান তলিয়ে যাচ্ছে। এতে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন কৃষকেরা। একদিকে পানিতে ডুবে যাচ্ছে জমির ফসল, অন্যদিকে শ্রমিক সংকট ও রোদের অভাবে নষ্ট হচ্ছে কাটা ও মাড়াইকৃত ধান।
কৃষকরা বলছেন, অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় হাওরের নিচু জমিতে হারবেস্টার নামানো যাচ্ছে না। ফলে এসব জমির ধান কাটায় নির্ভর করতে হচ্ছে কৃষি শ্রমিকের উপর। তবে শ্রমিক সংকট থাকায় দৈনিক এক হাজার টাকা মজুরীতেও মিলছেনা ধান কাটার শ্রমিক। এছাড়া বাড়তি খরচে ধান কেটে কোনোরকমে খলায় আনলেও কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে ধান শুকানো যাচ্ছে না। এতে ধানে দুর্গন্ধের পাশাপাশি চারা গজাচ্ছে।
ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের টিপনা গ্রামের মোঃ আব্দুল হামিদ গাজী বলেন, ‘এই বছরের মত দুর্গতি গত কয়েক বছরের মধ্যে হয়নি। অতিরিক্ত মজুরী দিয়েও শ্রমিক পাচ্ছিনা। বৃষ্টির পানিতে ফসল তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। আমাদের জমিতে হারবেস্টার মেশিনও আসে না।’
কৃষক হাবিবুর রহমান শেখ বলেন, বেশি টাকা দিয়ে ধান কেটেও স্বস্তি নেই। রোদ না থাকায় খলায় ধানের স্তুপ পড়ে আছে। রোদের অভাবে ধান নষ্ট হচ্ছে। সব সংকট একসাথে দেখা দিয়েছে।
অতিরিক্ত বর্ষা বা আকস্মিক বৃষ্টির কারণে কেটে রাখা ধান তলিয়ে যাওয়া কৃষকদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের একটি বিষয়। ধান যদি পানির নিচে তলিয়ে যায়, তবে দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নিলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।
দ্রুত পানি নিষ্কাশন মাঠের পানি বের করে দেওয়ার জন্য নালা বা ড্রেনের ব্যবস্থা করতে হবে। ধান যদি দীর্ঘক্ষণ পানির নিচে থাকে, তবে দানা থেকে অঙ্কুর গজাতে পারে বা পচন ধরতে পারে। তাই সবার আগে মাঠ থেকে পানি সরানোর চেষ্টা করুন।
ধান পানির উপরে তুলে রাখা যদি ধান পচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে ধান গাছগুলো আঁটি বেঁধে উঁচু কোনো জায়গায় বা শুকনো স্থানে সরিয়ে নিন। সম্ভব হলে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার ব্যবস্থা করুন যেন নতুন করে বৃষ্টির পানি না লাগে।
ঝাড়াই ও মাড়াইয়ের দ্রুত ব্যবস্থা ধান যদি বেশি ভিজে যায়, তবে দেরি না করে দ্রুত মাড়াই করে ফেলা ভালো। মাড়াই করার পর ধান থেকে অতিরিক্ত কাদা বা ময়লা পরিষ্কার করে নিতে হবে।
ফ্যানের বাতাস বা শুকনো পদ্ধতি রোদ না থাকলে বড় বারান্দা বা ঘরের মেঝেতে ধান পাতলা করে বিছিয়ে ফ্যানের বাতাসের নিচে শুকানোর ব্যবস্থা করুন। ধান যেন স্তূপ করে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন, কারণ এতে ভেতরে তাপ সৃষ্টি হয়ে চালের মান নষ্ট হয়ে যায়।
কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ আপনার এলাকার স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার (SAAO) সাথে কথা বলুন। সরকারি কোনো ক্ষতিপূরণ বা সহায়তার ব্যবস্থা থাকলে তারা আপনাকে সঠিক তথ্য এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ধান সংরক্ষণের উপায় জানাতে পারবেন।
এই পরিস্থিতিতে ধৈর্য রাখা কঠিন, তবে দ্রুত উদ্যোগ নিলে অন্তত কিছু ফসল রক্ষা করা সম্ভব। আপনার এলাকার কৃষকদের এই সমস্যা কি বড় আকারে হয়েছে?
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে কিছু নিচু এলাকার ধান পানির নিচে চলে যাচ্ছে। কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাহলে পাশাপাশি কৃষাণ সংকট মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। যেসব জমিতে পানি দীর্ঘসময় স্থায়ী হলে, সেখানে ধানের ক্ষতি হতে পারে।উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ৬৫/; ধান কর্তন করা হয়েছে।
Leave a Reply