কামরুল ০১৮৮৩০৮৮০৮৪
২৫৭০ বুদ্ধাব্দ, ১লা মে-২৬।
শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা আমাদের সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ,শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং সবার প্রতি রইল পবিত্র বুদ্ধ পূর্ণিমার মৈত্রী ময় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।পবিত্র মহান বুদ্ধ পূর্ণিমায় আমরা সমস্ত প্রকার পাপ কর্ম বজর্ন করে, সাম্য,মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্টার মধ্যে দিয়ে,সুন্দর মননের মাধ্যমে সবসময় ভাল কাজ সম্পাদন এবং নিজেকে মানবতারকল্যাণে নিবেদন করাই হোক আমাদের শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমার দৃঢ় অঙ্গীকার অর্থাৎ-
কারণে-অকারণে কাউকে আঘাত করিব না।
চুরি বা অপরের সম্পদ হরণ করিব না।
মিথ্যা ব্যভিচার-কামাচার করিব না।মিথ্যা কথা-কটু কথা-ভেদ কথা বলিব না।
কোনো প্রকার নেশাদ্রব্যের সাথে নিজেকে
সম্পৃক্ত করিব না।
বিকালে অধিক খাবার গ্রহন থেকে বিরত থাকবো ।অশ্লীল নাচ-গান,মালা-গান্ধা বিলেপন,ধারণ-পরিধান ও নিজেকে বিভোর করে রাখা থেকে বিরত থাকবো। অধিক আরামদায়ক জীবন-যাপন করা থেকে করছেন নিজেকে বিরত রাখবো। এ-ই মর্মে অঙ্গীকারদ্ধ হয়ে ধর্ম যার যার-উৎসব সবার
এবং প্রতিটি বুদ্ধ পূর্ণিমা উৎসব সবার অংশ গ্রহনে,ত্যাগ ও সংযমতায় এক অনবদ্য উৎসব ও মিলনমেলায় পরিনত হোক। আমাদের সবার, মহামানব “গৌতম বুদ্ধ” সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। পূর্ব ভারতের কপিলাবস্তু নগরীর রাজা শুদ্ধোধন এর পুত্র ছিলেন সিদ্ধার্থ অর্থাৎ গৌতম বুদ্ধ। খ্রিস্টপূর্ব ৬২৩ অব্দে এক শুভ বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে লুম্বিনি কানন তথা বর্তমান নেপালে জন্ম নেন সিদ্ধার্থ
গৌতম । তাঁর জন্মের ৭ দিন পর মহামায়া মারা যান ও জন্মের অব্যাবহিতকাল পর জনৈক কপিল নামক সন্ন্যাসী কপিলাবস্তু নগরীতে আসেন। তিনি সিদ্ধার্থকে দেখে ভবিষ্যৎ বানী করেন যে, সিদ্ধার্থ ভবিষ্যতে হয় চারদিকজয়ী চক্রবর্তী রাজা হবেন, নয়ত একজন মহান মানব হবেন। মা মারা যাবার পর সৎ মা মহাপ্রজাপতি গৌতমী তাকে লালন পালন করেন, তাই তার অপর নাম গৌতম। ছোটোবেলা থেকেই সিদ্ধার্থ সব বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন কিন্তু সিদ্ধার্থ সংসারের প্রতি উদাসীন ছিলেন বলে তাঁকে সংসারী করানোর লক্ষ্যে ১৬ বছর বয়সে রাজা শুদ্ধোধন যশোধরা (যিনি যশ ধারণ করেন) মতান্তরে যশোধা বা গোপা দেবী নামক এক সুন্দরী রাজকন্যার সাথে তার বিয়ে দেন। রাহুল নামে তাদের এক জন ছেলে সন্তান হয়। ছেলের সুখের জন্য রাজা শুদ্ধোধন চার ঋতুর জন্য চারটি প্রাসাদ তৈরি করে দেন কিন্তু উচুঁ দেয়ালের বাইরের জীবন কেমন তা জানতে তিনি খুবই ইচ্ছুক ছিলেন। একদিন রথে চড়ে নগরী ঘোরার অনুমতি দেন তার পিতা। তিনি নগরীর সকল অংশে আনন্দ করার নির্দেশ দেন কিন্তু সিদ্ধার্থের মন ভরল না। প্রথম দিন নগরী ঘুরতে গিয়ে একজন বৃদ্ধ ব্যক্তি, দ্বিতীয় দিন একজন অসুস্থ মানুষ, তৃতীয় দিন একজন মৃত ব্যক্তি এবং চতুর্থ দিন এক জন সন্ন্যাসী দেখে তিনি সারথি ছন্দককে প্রশ্ন করে জানতে পারেন জগৎ দুঃখময়। তিনি বুঝতে পারেন সংসারের মায়া, মোহ,রাজ্য,ধন-সম্পদ কিছুই স্থায়ী নয়।তাই দুঃখের কারণ খুঁজতে গিয়ে ২৯ বছর বয়সে গৃহ্ত্যাগ করেন। দীর্ঘ ৬ বছর কঠোর সাধনার পর তিনি বুদ্ধগয়া নামক স্থানে একটি বোধিবৃক্ষের নিচে বোধিজ্ঞান লাভ করেন। সবার আগে বুদ্ধ তাঁর ধর্ম প্রচার করেন পঞ্চ বর্গীয় শিষ্যের কাছে; তাঁরা হলেন কৌন্ডিন্য (মতান্তরে প্রথম জীবনে সিদ্ধার্থের গুরু ছিলেন), বপ্প, ভদ্দিয় (ভদ্রিয়), মহানাম ও অশ্বজিৎ। এরপর দীর্ঘ ৪৫ বছর বুদ্ধ ভারতের বিভিন্ন স্থানে তার বৌদ্ধ ধর্মের বাণী প্রচার করেন এবং তাঁর প্রচারিত বাণী ভারত ছাড়াও অন্যান্য দেশেও দিকে-দিকে ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে খ্রিস্টপূর্ব ৪৪৩ অব্দে তিনি কুশীনগর নামক স্থানে ৮০ বছর বয়সে মৃত্যু বরন করেন। গৌতম বুদ্ধের প্রচারিত বাণীর মূল অর্থ হল অহিংসা এবং সমস্ত প্রানীর প্রতি মৈত্রী পরায়ন হয়ে মানব কল্যাণে নিজেকে নিবেদন করা বা মানব কল্যাণে ব্রতী হওয়া।
আজকের এ-ই শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমায় সবার প্রতি হইলো অবিরাম শুভকামনা সহ পবিত্র বুদ্ধ পূর্ণিমার মৈত্রী ময় শুভেচ্ছা এবং সেই সাথে মহান বুদ্ধ পূর্ণিমা আমাদের সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধি।
শুভেচ্ছান্তেঃ তুষার কান্তি বড়ুয়া।
সভাপতিঃ লোহাগাড়া সাংবাদিক সোসাইটি, চট্টগ্রাম।
নির্বাহী সম্পাদক- সাপ্তাহিক মাইনী পত্রিকা,চট্টগ্রাম।
Leave a Reply