স্টাফ রিপোর্টার: আব্দুর রহিম
তারেক জিয়ার প্রজন্ম দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন রানা এবং তার স্ত্রী নাদিরা আক্তার উর্মি, যিনি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন, তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন জেলায় কমিটি গঠন করে অর্থ বাণিজ্য, প্রতারণা, দুর্নীতি ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, শুরু থেকেই আনোয়ার হোসেন রানা ও নাদিরা আক্তার উর্মি দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ, হাইকমান্ডের নির্দেশ অমান্য এবং সাংগঠনিক নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিজেদের স্বার্থে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা কমিটি গঠন করেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব কমিটিতে বিএনপির আদর্শ ও নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যক্তিদের, এমনকি আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নাম ও ভাবমূর্তি ব্যবহার করে “তারেক জিয়ার প্রজন্ম দল” নামকে পুঁজি করে বিভিন্ন জেলা থেকে অর্থ আদায়ের মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ বাণিজ্য পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন ত্যাগী নেতাকর্মীরা।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, এসব অভিযোগের সত্যতা এবং প্রমাণ পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও অন্যান্য নেতাকর্মীদের সর্বসম্মতিক্রমে আনোয়ার হোসেন রানা এবং নাদিরা আক্তার উর্মিকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। দলীয় সিদ্ধান্তে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাদের সঙ্গে কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, দল থেকে বহিষ্কারের পর আনোয়ার হোসেন রানা থেমে না থেকে নতুনভাবে “জাতীয় সমাজ পার্টি বাংলাদেশ” নামে আরেকটি সংগঠন গড়ে তোলেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, এই নতুন সংগঠনের মাধ্যমেও বিভিন্ন জেলা কমিটি গঠন করে একইভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। তার স্ত্রী নাদিরা আক্তার উর্মিও এ কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ও রাজনৈতিক মহলের দাবি, এটি তাদের একটি পেশায় পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও রাজনৈতিকভাবে আগ্রহী মানুষের কাছ থেকে পদ-পদবীর প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণা ও আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত মামলাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিএনপির ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এমন বিতর্কিত, প্রতারক ও আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের যদি আবার কোনোভাবে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হয়, তবে দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি হবে এবং অনেকে দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।
নেতাকর্মীরা স্পষ্টভাবে জানান, দলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রক্ষা, আদর্শ সংরক্ষণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে আস্থা ফিরিয়ে আনতে এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
Leave a Reply