1. lifemedia766@gmail.com : admin : Badsah Deoan
  2. crimereport24@gmail.com : Mehedy Hasan : Mehedy Hasan
  3. crime7775@gmail.com : Nure Alom Sah : Nure Alom Sah
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
দিনাজপুর বীরগঞ্জে প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের ২৫০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী জয়নাল গ্রেফতার. পটুয়াখালী ভার্সিটির নতুন ভিসি প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান। রংপুর সদর উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরির উদ্বোধন গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার প্রকল্প চালু হলে দিনে ৫০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি ঢাকা শহরে সরবরাহ করা যাবে- মির্জা ফখরুল ডুমুরিয়ায় গ্রাম পুলিশদের সাপ্তাহিক হাজিরা নিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা ও অপরাধ অনুষ্ঠিত সভায় পুরস্কার বিতরণ ডুমুরিয়ায় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের বিভাগীয় মাসিক সভা অনুষ্ঠিত পাঁচবিবি সীমান্তে পুশইন রুখতে ইউএনওর মতবিনিময় সভা নরসিংদীতে ইউনিয়ন পরিষদ কর্মকর্তাদের ৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত নরসিংদী জেলা পুলিশের মাসিক আইন-শৃঙ্খলা ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ২০ পিস ইয়াবাসহ একাধিক মামলার আসামি গ্রেফতার

ইতিহাসের পাঠশালার ৭ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত’ আমাদের গৌরবের ইতিহাস তরুণ প্রজন্মকে জানাতে ইতিহাস লেখক গবেষকদের ভুমিকা অপরিসীম ‘

  • প্রকাশকাল: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে :
ইতিহাসের পাঠশালা ( দি একাডেমি অব হিস্ট্রি )’র ৭ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩, রবিবার বিকেলে বাংলা একাডেমির কবি আল মাহমুদ লেখক কর্ণারে এক বর্ণাঢ্য জাতীয় সেমিনার ও লেখক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। জ্ঞানচর্চা, ইতিহাস গবেষণা এবং সাহিত্য সাধনার এক অনন্য মিলনমেলায় রূপ নেয় এ আয়োজন, যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রাজ্ঞ ইতিহাসবিদ, গবেষক, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল “প্রাচীন বাংলা সাহিত্য বিবর্তন ও মনীষা মঞ্জুষা” শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধ, যা উপস্থাপন করেন নোয়াখালীর কৃতীসন্তান, প্রবীণ ইতিহাসবিদ ম. পানা উল্যাহ্। তাঁর গবেষণাপত্রে প্রাচীন বাংলার সাহিত্য ঐতিহ্য, ভাষার বিকাশ এবং মনীষীদের অবদান বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইতিহাসের গভীরতা ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়। ইতিহাসের পাঠশালার পরিচালক লেখক লায়ন দুলাল কান্তি বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইতিহাসের পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা, পরিচালক ও সম্পাদক, ইতিহাসবেত্তা সোহেল মো. ফখরুদ-দীন। তিনি তাঁর বক্তব্যে ইতিহাসচর্চার গুরুত্ব, গবেষণার প্রসার এবং নবীন প্রজন্মকে ইতিহাসমুখী করে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

তিন পর্বে বিভক্ত এই আয়োজনের প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্বপরিব্রাজক রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট আলেয়া বেগম লাকী, প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন হাতিয়া সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রবীণ ইতিহাসবিদ এনামুল হক এবং উদ্বোধক ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ হাবিবুর রহমান।

দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রবীণ ইতিহাসবিদ ও অনুবাদক সৈয়দা রুখসানা জামান শানু, প্রধান আলোচক ছিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসবিদ ড. দেবকন্যা সেন এবং উদ্বোধক ছিলেন বাংলাদেশের প্রবীণ ইতিহাসবিদ মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।

তৃতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের প্রাক্তন উপ-সচিব, কৃষি প্রযুক্তিবিদ ও ইতিহাসবিদ সিরাজুল করিম; প্রধান আলোচক ছিলেন ডা. মোহাম্মদ মোছলেম এবং উদ্বোধক ছিলেন কোরআন গবেষক মোহাম্মদ হোসেন।

লেখক মিলনমেলার মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন লক্ষীপুর সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ইতিহাসবিদ মঈন উদ্দিন পাঠান, দি ট্যুরিস্ট পত্রিকার ডিপুটি এডিটর লেখক-গবেষক মো. কামাল উদ্দিন, চাঁদপুরের বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক আজম পাটোয়ারী, সাংবাদিক ম আ আবির আকাশ, কবি ও সম্পাদক ফজলুল মল্লিক, কবি রুখসানা আকতার, প্রবীন ইতিহাসবিদ আ ব ম মহিউদ্দিন খান চৌধুরী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপুটি রেজিষ্ট্রার হেদায়ত উল্লাহ তুর্কি, ইতিহাসের পাঠশালার পরিচালক ডা. মআআ মুক্তদীর, কবি ও ছড়াকার ফরিদ সাঈদ, মো. নাজমুল হক শামীম, শিক্ষাবিদ সুরাইয়া তাহমিনা, ফাতেমা আফরিন, প্রবীন আইনবিদ ও ইতিহাসবিদ গোলাম আকবর, মো. আল মুতাছিম, মো. কামরুল ইসলাম, আলমগীর হোসাইন, কবি গোলাম মোস্তফা তাপস, আল আমিন মিয়াজী, ডা. হাফিজুর রহমান, চিত্র সাংবাদিক রিয়াদ মাহমুদ খান, ড. পীরজাদা আজমীরি, শিক্ষাবিদ প্রিয় দর্শন বড়ুয়া প্রমূখ।

বক্তারা প্রাচীন ইতিহাস সংরক্ষণের গুরুত্ব ও নব প্রজন্মের আলোকিত ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ইতিহাস হাজার বছরের ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ-প্রাচীন জনপদ, সভ্যতা, ভাষা, সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় সহাবস্থানের এক অনন্য দলিল। এই ইতিহাস শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, বরং একটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও ভবিষ্যৎ পথচলার দিকনির্দেশনা। ইতিহাস সংরক্ষণ মানে কেবল অতীতকে ধারণ করা নয়; এটি বর্তমানকে বোঝা এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তোলা। আজকের বিশ্বায়নের যুগে যখন সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, তখন নিজস্ব ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে অজ্ঞতা একটি জাতিকে শিকড়হীন করে দিতে পারে। তাই প্রাচীন ইতিহাস সংরক্ষণ, গবেষণা এবং প্রচার অত্যন্ত জরুরি। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, লোকঐতিহ্য, আঞ্চলিক ইতিহাস এবং মৌখিক ঐতিহ্য-সবকিছুকে একত্রে সংরক্ষণ করেই একটি পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস নির্মাণ সম্ভব। নব প্রজন্মের জন্য ইতিহাস হলো আলোর দিশারী। ইতিহাস তাদের শেখায় সংগ্রামের গল্প, ত্যাগের শিক্ষা, নৈতিকতার ভিত্তি এবং আত্মপরিচয়ের বোধ। ইতিহাস জানলে একজন তরুণ তার জাতি, সংস্কৃতি ও ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ওঠে এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। একই সঙ্গে ইতিহাস তাদের সমালোচনামূলক চিন্তা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা এবং মানবিক মূল্যবোধ গঠনে সহায়তা করে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এধরণের অন্যান্য নিউজ