স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে :
চট্টগ্রামের পরিবেশ, কৃষি, জলবায়ু ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘গ্রীণ চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্স’ এবং চট্টগ্রামের পথশিশু ও অধিকার বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করা মানবিক সংগঠন ‘অধিকার বঞ্চিত শিশু ফাউন্ডেশন’র যৌথ উদ্যোগে ৩ জানুয়ারি, শনিবার, বিকাল ৪টায় সীতাকুণ্ড উপজেলাধীন বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া বাজার সংলগ্ন হযরত ওয়ারিশ শাহ (রহ.)’র মাজার, মসজিদ ও কবরস্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ফুলের চারা রোপন-বিতরণ কর্মসূচি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন ও সীতাকুণ্ড উপজেলা ভূমি অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়।
এ উপলক্ষে উদ্বোধনী সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা গ্রীণ চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব স ম জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হযরত ওয়ারিশ শাহ ওয়াকফ এস্টেটের মোতোয়াল্লী মুহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বাহার। উদ্বোধক ছিলেন জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি ও বাংলাদেশ পরিবেশ ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম নুরুল হুদা চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মনির আহমেদ, হযরত ওয়ারিশ শাহ (রহ.) জামে মসজিদের খতিব মাওলানা খলিলুর রহমান (ম.জি.আ), পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ ফরহাদ, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সালাউদ্দিন, খাদেম মুহাম্মদ ইয়াছিন, অধিকার বঞ্চিত শিশু ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জান্নাতুল ফেরদৌস বৃষ্টি, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াছিন ভূঁইয়া, গ্রীণ চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্সের সদস্য (অর্থ ও হিসাব) আকতার হোসেন শাকিল, সদস্য (মিডিয়া ও কমিউনিকেশন) নজীব চৌধুরী, অধিকার বঞ্চিত শিশু ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল মোমেন মোল্লা, অর্থ সম্পাদক নাহিদা সুলতানা পিংকি।
সভায় বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা সাগর-নদী, পাহাড় বেষ্টিত প্রাকৃতিক নৈসর্গিক উপজেলা হওয়ার পরও পরিবেশ বিধ্বংসী নানা কর্মকাণ্ডের ফলে এবং অপরিকল্পিত শিল্পায়নের প্রভাবে সীতাকুণ্ড তার নিজস্ব প্রাকৃতিক রূপ হারাচ্ছে। এছাড়াও সীতাকুণ্ড উপকূল ঘিরে অপরিকল্পিত শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড ও লৌহজাত কলকারখানা গড়ে উঠার ফলে সীতাকুণ্ড আজ চরম পরিবেশ সংকটের মুখে। সীতাকুণ্ডের এসব পরিবেশ বিপর্যয়ের ঠেকাতে সরকারের কার্যক্রম যথেষ্ট পরিমাণ না থাকায় পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ড দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ সময় বক্তারা আরো বলেন, সীতাকুণ্ড উপজেলা পর্যটন ও তীর্থস্থান এলাকা হওয়ার পরেও নানান অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে ক্রমাগত হারে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ছে সীতাকুণ্ড। ফলে সরকার একদিকে রাজস্ব হারাচ্ছে, অপরদিকে সীতাকুণ্ড তার নিজস্ব গৌরব নিয়ে দেশ-বিদেশে প্রচার হ্রাস পাচ্ছে। এছাড়াও সীতাকুণ্ডের বৈধ-অবৈধ কলকারখানাগুলো ইটিপি না মানার ফলে কৃষিপণ্য নির্ভর উপজেলা হওয়ার পরও কৃষকরা আশানুরূপ ফলন পাচ্ছে না।
আলোচনা শেষে হযরত ওয়ারিশ শাহ (রহ.) মাজার, মসজিদ ও কবরস্থানে শতাধিক বিভিন্ন ধরনের ফুলের চারা রোপণ করা হয় এবং আগ্রহী স্থানীয়দের হাতে তুলে দেওয়া হয় ফুলের চারা।
Leave a Reply