1. lifemedia766@gmail.com : admin : Badsah Deoan
  2. wp-manager@gmail.com : wp-manager wp-manager : wp-manager wp-manager
বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিএনসি’র অভিযানে হেরোইনসহ আটক ১ উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের আহ্বান: রংপুরে আখতার হোসেন পবিত্র রমজান উপলক্ষে গফরগাঁও বাজার পরিদর্শনে আখতারুজ্জামান বাচ্চু,এমপি নোয়াখালীতে ইনজেকশনে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ সূর্যমুখী চাষে নতুন সম্ভাবনা ডুমুরিয়ায় হলুদ রঙের নতুন স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা আল্লাহ প্রাণাধিক প্রিয়নবীর দুশমন মানবতার দুশমন ওয়াবীসালাফিবাদ মওদুদিবাদ তালেবান চক্র সত্য ও মানবতার শত্রু ।- আল্লামা ইমাম হায়াত কেরানীগঞ্জে বিএনপি নেতা শাহীনের মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের শিকার বিআইডব্লিউটিয়ের ঠিকাদার নিজামুদ্দিন ৬০ বোতল বিদেশি মদ সহ একজন মাদক কারবারি কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১৪ পানছড়িতে বিজিবির অভিযানে অবৈধ সেগুন কাঠ আটক মালিক বিহীন অবস্থায়ভারতীয় মদ ২৩ বোতল ও১ টি নৌকা আটক খাগড়াছড়িতে পুলিশের অভিযানে চোরাইকৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার, চোর গ্রেফতার

গ্যাংস্টার মহাকাব্যের ছায়াচিত্র: ‘দ্য গডফাদার’ (১৯৭২) চলচ্চিত্রের এক সাহিত্যিক পাঠ

  • প্রকাশকাল: মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৫

লেখা- মোঃ আবু মুসা আসারি

চলচ্চিত্র যখন সাহিত্যকে ছুঁয়ে যায়, তখন তা শুধু বিনোদন নয়, এক ধ্রুপদী অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। The Godfather, ১৯৭২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলা পরিচালিত অপরাধচিত্রটি, এমনই এক ব্যতিক্রমী সৃষ্টি—যা শিল্প, সাহিত্য, মনস্তত্ত্ব ও ইতিহাসকে একই সূত্রে গাঁথে। মারিও পুজোর একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অনন্য স্থান অধিকার করেছে। গ্যাংস্টার চলচ্চিত্রের পরিধিকে যেভাবে এটি মহাকাব্যিক উচ্চতায় উন্নীত করেছে, তা আজও অদ্বিতীয়।

এই চলচ্চিত্রের মূল প্রাণ হল করলিওনে পরিবার—বিশেষ করে ডন ভিটো করলিওনে এবং তাঁর ছোট ছেলে মাইকেল। গল্প শুরু হয় এক বিয়ের দৃশ্য দিয়ে, যা ইতালীয় ঐতিহ্য ও আমেরিকান বাস্তবতার এক অনন্য মেলবন্ধন। এই পারিবারিক আবহের মধ্যে নিহিত আছে রাজনৈতিক চাতুরী, ব্যবসায়িক লেনদেন এবং সহিংসতার আদানপ্রদান। চরিত্ররা যেন জীবন্ত, রক্তমাংসে গড়া মানুষ, যাদের হৃদয়ে প্রেম, ঘৃণা, দ্বিধা এবং নিষ্ঠুরতার সহাবস্থান।

ডন ভিটো করলিওনে চরিত্রে মার্লন ব্র্যান্ডোর অভিনয় যেন এক কিংবদন্তির নবজন্ম। তাঁর সংযত কণ্ঠস্বর, অভিব্যক্তির স্নিগ্ধতা এবং ব্যক্তিত্বের মহিমা চরিত্রটিকে এক পিতৃতুল্য দেবত্বে উত্তীর্ণ করেছে। তাঁর বিপরীতে মাইকেল করলিওনে চরিত্রে আল পাচিনোর অভিনয় এক নিঃশব্দ বিপ্লব—যেখানে একজন নিরীহ তরুণ ধীরে ধীরে রূপান্তরিত হন এক নির্মম শাসকে। এই রূপান্তর একটি ট্র্যাজেডির বিস্তৃত কাঠামো—যেখানে ব্যক্তিগত পছন্দ, পারিবারিক দায়িত্ব এবং ক্ষমতার দানব একে অন্যকে গ্রাস করে।

চিত্রনাট্য এখানে শুধু কাহিনির বাহক নয়, বরং চরিত্রের অন্তরজগতের আয়না। সংলাপগুলো সংযত, অথচ তীক্ষ্ণ—প্রতিটি শব্দ একেকটি অস্ত্রের মতো ব্যবহৃত। “I’m gonna make him an offer he can’t refuse”—এই সংলাপ শুধু ভয় নয়, রাজনৈতিক মনস্তত্ত্বের এক নিখুঁত প্রতিচ্ছবি। কপোলার পরিচালনায় এই চলচ্চিত্র হয়ে ওঠে আলোর নিচে দাঁড়িয়ে থাকা অন্ধকারের এক নিরব উপাখ্যান।

চলচ্চিত্রের চিত্রগ্রহণ ও আলোকচিত্র বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। গর্ডন উইলিসের ক্যামেরার কাজ চলচ্চিত্রটিকে এক রহস্যময়, গাঢ় আবহ তৈরি করতে সাহায্য করেছে। চরিত্রদের মুখে আলো পড়ার ধরন, অন্ধকার ঘরের ছায়া, আলো-আঁধারির খেলা—সবকিছু যেন একটি ধ্রুপদী ক্যানভাসের মতো নির্মিত। সম্পাদনার ক্ষেত্রে গির্জায় শিশুর বাপ্তিস্ম ও একাধিক হত্যাকাণ্ডের সমান্তরাল দৃশ্যায়ন একটি কালজয়ী উদাহরণ হয়ে রয়েছে।

সুর ও সঙ্গীত এই চলচ্চিত্রে আবেগের স্তরগুলি খুলে দেয় ধীরে ধীরে। নিনো রোটা রচিত মূল থিমটি—মৃদু, বিষণ্ণ, অথচ অভিজাত সৌন্দর্যে ভরপুর—চরিত্রের নিঃসঙ্গতা ও অতীতের প্রতি টানকে আরও গভীর করে তোলে। এটি শুধু একটি মেলোডি নয়, বরং করলিওনে পরিবারের আত্মার সুর।

The Godfather একদিকে যেমন একটি অপরাধের ইতিহাস, তেমনই এটি এক পারিবারিক কাব্য। এখানে মা-বাবার দায়িত্ব, ভাইদের টানাপোড়েন, ভাঙনের আভাস এবং ঐতিহ্যের মোড়ক সবই বর্তমান। একইসঙ্গে এটি এক নিঃশব্দ রাজনৈতিক ভাষ্য—যেখানে রাষ্ট্র, আইন এবং ক্ষমতার জটিল সম্পর্ক ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয়।

এই চলচ্চিত্রের তাৎপর্য শুধু তার গল্প বা নির্মাণশৈলীতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি সময়ের দলিল, এক অভিবাসী জাতিগোষ্ঠীর আত্মপরিচয় নির্মাণের ইতিহাস। The Godfather আমাদের শেখায়, “পরিবারের জন্য” বলা একমাত্র বাক্যই কখনো কখনো সমস্ত নৈতিকতা ও বিবেককে ঢেকে দিতে পারে। শাস্ত্রীয় ট্র্যাজেডির মতো, এখানে মানুষ নিজেই নিজের নিয়তির শিকার।

সবশেষে বলা যায়, The Godfather কোনো সাধারণ চলচ্চিত্র নয়—এটি এক নান্দনিক, বেদনার্ত, ঐতিহাসিক আয়না—যেখানে দর্শক নিজেরই প্রতিবিম্ব দেখতে পায়, অন্ধকারে নিমগ্ন এক আলোকরেখা হিসেবে। কপোলার এই সৃষ্টি শুধুই সিনেমা নয়, এটি এক জীবনদর্শনের অংশ। এর সৌন্দর্য, এর ভয়াবহতা, এবং এর নিরব করুণ রূপ চিরকাল থাকবে সিনেমার শ্রেষ্ঠতম নিদর্শন হিসেবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এধরণের অন্যান্য নিউজ