শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
শ্রমিকের ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে গাজীপুরের কালিয়াকৈর শিল্পাঞ্চল।
আজ রোববার সকাল ৯টা থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ী এলাকায় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার হাজারো শ্রমিক। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা কয়েকটি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে শ্রমিকদের ছোড়া ইটের আঘাতে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে শ্রমিকেরা বিভিন্ন কারখানা থেকে বেরিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় উপজেলার বিভিন্ন কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হলেও শ্রমিকেরা সড়ক ছাড়েননি। একপর্যায়ে তাঁরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় একটি প্রাইভেটকারসহ কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এ ছাড়া ট্রপিক্যাল নিটেক্স লিমিটেডের পাশের মার্কেটে অগ্নিসংযোগ, যমুনা ব্যাংক ও বিভিন্ন কারখানার ফটকে ভাঙচুর, মৌচাক পুলিশ বক্সে ভাঙচুর এবং কোনাবাড়ী পুলিশ বক্স ও আনসার একাডেমির সামনে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে শ্রমিকদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ওসি মো. শহিদুল ইসলাম ইটের আঘাতে আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। ওসি বলেন, শ্রমিকদের শান্ত করতে এবং মহাসড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করতে গিয়ে তিনি আহত হয়েছেন। সহিংসতা ও ভাঙচুর পরিহার করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শ্রমিকদের অবরোধে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দূরপাল্লার যাত্রী, নারী ও শিশুসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। পরে পুলিশ, বিজিবি ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় প্রায় ছয় ঘণ্টা পর বিকেল পৌনে ৩টার দিকে মহাসড়ক থেকে অবরোধ সরিয়ে নেওয়া হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় পুরো শিল্পাঞ্চলজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে।
Leave a Reply