বাগেরহাট প্রতিনিধি:
রাজনীতি নয়, মানুষের সেবাই হোক মূল লক্ষ্য এই ভাবনাকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শুনতে চান বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মো: জাকির হোসেন। তাঁর দৃষ্টিতে, মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু দায়িত্ব নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধেরও বহিঃপ্রকাশ। কারণ, তিনি বিশ্বাস করেন মানুষ মানুষের জন্য, আর মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবিকতার পরিচয়।
জনসেবার মূল উদ্দেশ্য কেবল উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা কিংবা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন নয় বরং সাধারণ মানুষের কথা শোনা, তাদের প্রয়োজন বোঝা এবং সমস্যা সমাধানে আন্তরিক ভূমিকা রাখা। জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মানুষের পাশে থাকার প্রত্যাশা তাঁর।
একজন অসহায় মানুষ যখন নিজের দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অভিযোগ কিংবা দৈনন্দিন জীবনের সমস্যার কথা নির্ভয়ে তুলে ধরার সুযোগ পান, তখন তাঁর মনে আশার আলো জ্বলে ওঠে। অনেক সময় আর্থিক সংকট, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা কিংবা অসহায়ত্বের কারণে মানুষ নিজের সমস্যার কথা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে পারেন না। তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং সম্মানের সঙ্গে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোই হতে পারে জনসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
ব্যারিস্টার শেখ মো: জাকির হোসেনের জনসেবার দর্শনে মানুষের কথা শোনার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তাঁর মতে, একজন অসহায় মানুষ নিজের সমস্যার কথা বলতে পারছেন, নিজের কষ্টের কথা প্রকাশ করতে পারছেন এটিও তাঁর জন্য আনন্দের বিষয়। কারণ, মানুষের কথা শোনার মধ্য দিয়েই তাদের প্রকৃত প্রয়োজন উপলব্ধি করা সম্ভব। আর সেই প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়েই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পথ তৈরি হয়।
তিনি মনে করেন, মানুষের পাশে থাকতে হলে দল, মত, শ্রেণি কিংবা সামাজিক অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষ, অসচ্ছল পরিবার, অসহায় ব্যক্তি ও নানা সমস্যায় জর্জরিত মানুষের জন্য সহমর্মিতা এবং সহযোগিতার মনোভাব থাকা জরুরি।
জেলা পরিষদের দায়িত্বের সঙ্গে স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়গুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনা, তাদের প্রয়োজন চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধানে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া জনসেবাকে আরও অর্থবহ করে তুলতে পারে।
মানুষের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে গেলে যেন কেউ অবহেলিত বোধ না করেন। একজন অসহায় মানুষ যেন তাঁর কথা বলার সুযোগ পান, একজন বিপদগ্রস্ত মানুষ যেন সহযোগিতার আশ্বাস পান এবং সাধারণ মানুষ যেন নিজেদের সমস্যার কথা নির্দ্বিধায় তুলে ধরতে পারেন এমন মানবিক পরিবেশই একটি জনবান্ধব সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ব্যারিস্টার শেখ মো: জাকির হোসেনকে ঘিরে জনসেবার এই বার্তাই সামনে আসে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হলে মানুষের কাছে যেতে হবে, তাদের কথা শুনতে হবে এবং সামর্থ্য ও দায়িত্বের মধ্যে থেকে সমস্যা সমাধানে আন্তরিক হতে হবে।
কারণ, মানুষের ভালোবাসা অর্জনের পথ কেবল কথায় নয়, বরং দায়িত্বশীল আচরণ, সহমর্মিতা ও জনকল্যাণমূলক কাজের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়। রাজনীতির ঊর্ধ্বে মানবিকতা, প্রতিশ্রুতির চেয়ে দায়িত্ববোধ এবং দূরত্বের পরিবর্তে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এই মূল্যবোধগুলোই জনসেবাকে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
মানুষের কথা শোনা, মানুষের কষ্ট উপলব্ধি করা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতাই হোক জনসেবার প্রকৃত পরিচয়।
Leave a Reply