লুতুব আলি, কলকাতা
বিদ্যাসাগরের জন্মদিবসে নিরক্ষর মুক্ত বাংলার ডাক দিল পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যাসাগর শিক্ষা পরিষদ। শুক্রবার ২৬শে সেপ্টেম্বর কৃষ্ণপদ মেমোরিয়াল হলে (শিয়ালদা, কলকাতা) মহা সমারোহে পালিত হল পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলার শিক্ষক দিবস।
অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন প্রাক্তন উপাচার্য প্রখ্যাত ভাষাবিদ ডঃ পবিত্র সরকার। ‘নিরক্ষরকে স্বাক্ষর’ কর্মসূচির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডঃ সুপ্রতিভ বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে সকল অতিথিদের বরণ করে নেন পরিষদের চেয়ারম্যান ডঃ সোহিনী চক্রবর্তী ও সভাপতি রঞ্জনা গুহ। উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন নন্দিনী মন্ডল।
বাঙালির ভাষা-সংস্কৃতি বিপন্ন হতে দেওয়া যাবে না: পবিত্র সরকার
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডঃ পবিত্র সরকার বলেন, “পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মশাইকে প্রণাম জানাই। আজকের দিনে বিদ্যাসাগরকে স্মরণ করা খুবই জরুরী। বিদ্যাসাগর শুধু বর্ণপরিচয়ের স্রষ্টা নন, তিনি বাঙালির মেরুদণ্ড। আজ যখন বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি নানা ভাবে বিপন্ন হচ্ছে, তখন বিদ্যাসাগরের আদর্শকে আরও বেশি করে আঁকড়ে ধরতে হবে।”
বিদ্যাসাগরের জন্মদিনই হোক বাংলার শিক্ষক দিবস: চন্দ্রনাথ বসু
এদিন সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যাসাগর শিক্ষা পরিষদের কর্ণধার ও বসু প্রকাশনের সম্পাদক চন্দ্রনাথ বসু বলেন, “আজ বিদ্যাসাগরের জন্মদিবসে আমরা শুধু মালা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করতে পারি না। বিদ্যাসাগর যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, প্রতিটি মানুষ অক্ষর চিনবে, সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে হবে। তাই আমরা ‘নিরক্ষরকে স্বাক্ষর’ করার শপথ নিয়েছি। আমি মনে করি, ২৬ সেপ্টেম্বর বিদ্যাসাগরের জন্মদিবসকেই বাংলার শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা উচিত। নিরক্ষর মুক্ত দেশ গড়াই হবে তাঁর প্রতি আমাদের সত্যিকারের শ্রদ্ধা।”
বিশিষ্ট গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান
এদিন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
শিক্ষাভারতী সম্মান পেলেন – বিশিষ্ট শিক্ষিকা, কবি ও বাচিকশিল্পী ড. সীমা রায়, বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক ড. সুজিত কুমার বিশ্বাস এবং বিশিষ্ট শিক্ষারত্নপ্রাপ্ত শিক্ষক ড. অপূর্ব বিশ্বাস।
আদর্শ শিক্ষকরত্ন স্বর্ণ সম্মান পেলেন – বিশিষ্ট শিক্ষক, কবি, সাহিত্যিক ও নাট্যকার দিব্যেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, বিশিষ্ট শিক্ষক, কবি ও সাহিত্যিক সুরজিৎ গুছাইত, বিশিষ্ট প্রাক্তন শিক্ষিকা ও সাহিত্যিক মাধুরী পাল সাউ, বিশিষ্ট শিক্ষিকা, কবি, সাহিত্যিক ও সঙ্গীতশিল্পী ধৃতিরূপা ত্রিপাঠী এবং বিশিষ্ট শিক্ষিকা, কবি, সাহিত্যিক ও সঙ্গীতশিল্পী রিণা দত্ত।
বিদ্যাসাগর স্মৃতি সম্মান পেলেন – বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক ড. সমুদ্র বসু, বিশিষ্ট স্বর্ণসম্মান প্রাপ্ত কবি, সাহিত্যিক, গীতিকার, অভিনেতা ও রাষ্ট্রপতি সম্মানপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুশান্ত কুমার মন্ডল এবং বিশিষ্ট শিক্ষিকা ও কবি মালতী মন্ডল।
এছাড়াও জ্যোতিষ সম্রাট স্বর্ণ সম্মান পেলেন বিশিষ্ট জ্যোতিষী ও কবি তাপসভূষণ সেনগুপ্ত, জাদুকর সম্রাট স্বর্ণ সম্মান পেলেন বিশিষ্ট জাদুকর ও সমাজসেবী বিলু দোলুই, আশা ভোঁসলে স্মৃতি সম্মান পেলেন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী অর্চনা ঘোষ এবং আদর্শ শিক্ষকরত্ন সম্মান পেলেন বিশিষ্ট শিক্ষক, কবি ও সঙ্গীতশিল্পী পুলক সাহা।
বর্ণপরিচয় সম্মান পেলেন বিশিষ্ট কবি কেতকী মির্জা, বিশিষ্ট কবি জয়দীপ রায়চৌধুরী, বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্য সংগঠক তন্ময় রানা, বিশিষ্ট কবি গৌতম চ্যাটার্জী এবং বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সাংবাদিক কাজল সিনহা।
এদিন তাঁর প্রকাশনা থেকে ডঃ অমর ঘোষের লেখা নতুন বই “আমার বাংলা” প্রকাশিত হয়।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ডঃ সমীর শীল, বরুন চক্রবর্তী, ডঃ আকবর আলি শাহ, অভিযান বন্দ্যোপাধ্যায়, ডঃ অপূর্ব কুমার বিশ্বাস, ডঃ অমর ঘোষ সহ বিশিষ্ট জনেরা। কবিতা পাঠ করেন মধুসূদন বাগ, রঞ্জনা কর্মকার, ডাঃ এস ইয়াসমিন সহ শতাধিক কবি। ডঃ দীপা দাসের ‘খোলা জানালা’র সদস্যরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
কবিতা লেখা প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডঃ সুজিত কুমার বিশ্বাস, ডঃ বিপুল চক্রবর্তী, অমরেশ মুখার্জী ও তনিমা সাহা বলে জানান বিলু দোলুই। পরিবেশ বাঁচানোর ডাক দিয়ে চারাগাছ বিতরণ করেন মৌলভি মিশ্র। শিক্ষকদের বিশেষ সম্মাননা প্রদানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডঃ সোহিনী চক্রবর্তী।
Leave a Reply