লুতুব আলি, কলকাতা
প্রকৃতি প্রেমিক সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিবস পালন করল পশ্চিমবঙ্গ সাহিত্য মঞ্চ। আজ কলকাতার শিয়ালদহর কৃষ্ণপদ ঘোষ মেমোরিয়াল হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কথাসাহিত্যিকের সাহিত্য জীবন ও কর্মকাণ্ডের উপর আলোকপাত করা হয়।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য প্রকৃতি-সাধক। ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণকারী এই সাহিত্যিক তাঁর অমর সৃষ্টি ‘পথের পাঁচালী’, ‘অপরাজিত’, ‘আরণ্যক’, ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’, ‘দেবযান’ ও ‘ইছামতী’র মধ্যে দিয়ে গ্রাম বাংলার অপরূপ প্রকৃতি, সাধারণ মানুষের জীবন সংগ্রাম ও মানব হৃদয়ের গভীর দর্শনকে তুলে ধরেছেন।
আজকের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবি ও বিজ্ঞানী অমিতাভ দত্ত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার রাজ্য সভাপতি মাননীয় ডঃ চন্দ্রচূড় গোস্বামী, বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক রিনা গিরি, ডঃ সমুদ্র বসু, শব্দের কারিগর বরুন চক্রবর্তী, কুন্তল গুহ, অভিযান বন্দোপাধ্যায়, আকাশ পাইন, কেতকী মির্জ্জা ও বিলু দোলুই। এনারা বিভূতিভূষণের সাহিত্য নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করেন।
সঙ্গীত পরিবেশন করেন ডঃ চন্দ্রচূড় গোস্বামী, ডঃ দীপা দাস, নন্দিনী মন্ডল, মধুসূদন বাগ ও পুলক সাহা। কবিতা পাঠ করেন ডঃ সিরাজুল ইসলাম ঢালি, প্রলয় বসু, রঞ্জনা কর্মকার, জয়দীপ রায়চৌধুরী, সেখ সিরাজ সহ শতাধিক কবি। সবাইকে বরণ করেন সভাপতি রঞ্জনা গুহ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চেয়ারম্যান অমরেশ মুখার্জী। সবার হাতে চারাগাছ তুলে দেন মৌলভি মিশ্র।
পশ্চিমবঙ্গ সাহিত্য মঞ্চের সম্পাদক চন্দ্রনাথ বসু তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের শিখিয়েছেন প্রকৃতিকে ভালোবাসতে, মাটিকে আঁকড়ে ধরতে। আজকের এই জন্মদিবস শুধু স্মরণ নয়, তাঁর আদর্শকে বহন করার শপথ।” তিনি সবাইকে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবনে জন্মদিবসের অনুষ্ঠানে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান ও বলেন, বাংলার মানুষ নিজের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বোঝে, কারো কথা শুনে চলবে না।
Leave a Reply