প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, ব্যুরো চীফ নোয়াখালী
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী সুমি আক্তার (২১)-কে হত্যার অভিযোগে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা স্বামী মো. ইসমাইল হোসেনকে (২৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ থানাধীন ফৌজদারহাট এলাকায় র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালী ও র্যাব-৭-এর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু।
গ্রেপ্তার মো. ইসমাইল হোসেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দিলিলপুর গ্রামের মাইজা বেপারী বাড়ির এনামুল হক বাবুলের ছেলে।
র্যাবের তথ্যমতে, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে স্ত্রী সুমি আক্তারের কাছে ছাগল ও একটি স্টিলের আলমারি অথবা নগদ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন ইসমাইল। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সুমির বাবা মেয়ের স্বামীকে কিছু টাকা পাঠালেও দাবিকৃত পরিমাণ টাকা কম হওয়ায় ইসমাইল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
অভিযোগ রয়েছে, গত বছরের ৬ জুন রাতে যৌতুকের দাবিকৃত টাকা না পাওয়ায় ইসমাইল তার স্ত্রী সুমি আক্তারকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমিকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর নিহত সুমির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের একপর্যায়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশে বেগমগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় মো. ইসমাইল হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়।
মামলা দায়েরের পর ইসমাইল আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করে র্যাব। পরে শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ থানাধীন ফৌজদারহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু জানান, স্ত্রী হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. ইসমাইল হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চট্টগ্রামের আকবরশাহ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহত সুমি আক্তারের পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের শিকার হয়ে অকালে প্রাণ হারিয়েছেন তাদের মেয়ে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় এখন তারা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রত্যাশা করছেন।
Leave a Reply