নিজস্ব প্রতিবেদক, উখিয়া
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ৩ নম্বর হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হলদিয়া মৌজা এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা, পুরোনো গাছ কাটাসহ পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশ ও সন্তানদের গুমের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সরাসরি মিডিয়া সম্প্রচারে এসব অভিযোগ করা হয়। একই জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভুক্তভোগী পল্লী চিকিৎসক মো. ফরিদ আলমের অভিযোগ, শনিবার সকালে ভান্ডারী সার্কেলমোড়ের দক্ষিণ পাশে বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থানীয় সেলিম, ইউছুপ আলী, রশিদ আলমসহ আরও ৬-৭ জন ব্যক্তি জোরপূর্বক প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা জমির পুরোনো কয়েকটি গাছ কেটে ফেলেন এবং কাঁটাতারের বেড়া ভেঙে দেন। জমিতে চাষাবাদ করা ব্যক্তিকেও সেখান থেকে সরে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ফরিদ আলম বলেন, তাঁর প্রয়াত বাবা জেবর মুল্লুকের জমিতে প্রায় ৩০ বছর আগে লাগানো প্রায় ২০০টি সুপারি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া একটি পানের বরজ ও আরও কয়েকটি মূল্যবান গাছ কেটে ফেলার অভিযোগও করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জমি ও বাগান ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাষিকে চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁর পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ফরিদ আলমের ভাষ্য, বিরোধপূর্ণ জমির মালিকানা দাবির পক্ষে দলিল, খতিয়ান, নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রসিদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
অপর পক্ষের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে ব্যবসায়ী সেলিম বলেন, প্রয়াত জেবর মুল্লুক মৃত্যুকালে চার ছেলে ও পাঁচ মেয়ে রেখে যান। তাঁদের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্য অংশের ভিত্তিতে বিবাদী ইউছুপ আলী জমি ক্রয় করেছেন।
তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট খতিয়ানে জেবর মুল্লুকের ওয়ারিশদের মধ্যে দুই ছেলে ও এক মেয়ে মিলে মোট ৪০ শতক জমি বিক্রি করেছেন। তবে তাঁদের ওই পরিমাণ জমি বিক্রির আইনগত অধিকার ছিল কি না, সেটি নিয়েই বিরোধ রয়েছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে ফরিদ আলমের দাবি, উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিক্রেতারা ৪০ শতক জমির পূর্ণ মালিক নন। তাই ওই জমি দখলের চেষ্টা বেআইনি বলে দাবি করেন তিনি।
আদালতে মামলা চলমান
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একই জমি নিয়ে উখিয়ার সিভিল জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা চলমান রয়েছে। মামলার রায় ও ডিক্রির বিরুদ্ধে পরবর্তীতে আপিল করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কোনো পক্ষকে গাছপালা কাটা, বেড়া ভাঙা কিংবা জোরপূর্বক দখলের মতো কর্মকাণ্ডে না জড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply