প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, ব্যুরো চীফ নোয়াখালী:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জা, তাঁর স্ত্রী আকতার জাহান বকুল ও ছেলে মির্জা মাসরুর কাদের তাশিকের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের পক্ষ থেকে মামলা অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, কাদের মির্জার বিরুদ্ধে ১ কোটি ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী আকতার জাহান বকুলের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৫০ লাখ ৮৩ হাজার ৪০০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলায় আবদুল কাদের মির্জাকে সহায়তাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং দুদক আইনের ২৭(১) ধারার পাশাপাশি দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা প্রযোজ্য হবে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।
এ ছাড়া ছেলে মির্জা মাসরুর কাদের তাশিকের বিরুদ্ধে ৮১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৪৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগ রয়েছে। দুদকের অনুমোদিত মামলায় তাঁর বাবা আবদুল কাদের মির্জাকে সহায়তাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও দুদক আইনের ২৭(১) ধারা ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারার কথা বলা হয়েছে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, কাদের মির্জা, তাঁর স্ত্রী ও ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। বুধবার কমিশন থেকে মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়।
নোয়াখালী দুদকের উপপরিচালক মো. ফারুক আহমেদ বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগেই কমিশনে পাঠানো হয়েছিল। মামলার অনুমোদনের কাগজপত্র নোয়াখালী কার্যালয়ে পৌঁছালে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, একই দিনে দুদক জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে বিভিন্ন সাবেক জনপ্রতিনিধি ও তাঁদের স্বজনদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার অনুমোদনের কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও তাঁর পরিবারের তিনটি মামলাও রয়েছে।
তবে মামলার অনুমোদন কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়; অভিযোগগুলো আদালতে বিচারাধীন হলে সেখানেই প্রমাণ-অপ্রমাণের বিষয়টি নির্ধারিত হবে।
Leave a Reply