লুতুব আলি, কলকাতা
মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকদের অবদানকে শ্রদ্ধা জানাতে এক আবেগঘন অনুষ্ঠানের আয়োজন করল পূর্ব বর্ধমান জেলার কলানবগ্রাম চক্র। শিক্ষক দিবসকে সামনে রেখে বিগত দুই বছরে অবসর নেওয়া শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় রসুলপুর ভুবনমোহন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত হয় এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।
প্রদীপ প্রজ্বলন এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বন্দে মাতরম সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ ও বিদ্যাসাগরের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করা হয়।
অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের বিদ্যালয় পরিদর্শক মাননীয় মুকুল গাইন। আহ্বায়ক তথা কলানবগ্রাম চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক সৌম্য মণ্ডল স্বাগত ভাষণ দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক চন্দ্রাণী চৌধুরী, সরকারি বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রিয়ব্রত মুখার্জি, অতনু হাজরা, রসুলপুর ভুবনমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ড. সুখেন্দু সাই সহ বিশিষ্টজনেরা।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক বলেন, শিক্ষকতা চাকরি নয়, সাধনা। একজন শিক্ষক শুধু পাঠ দেন না, তিনি ছাত্রের চরিত্র গঠন করেন। অবসরের পরেও তাঁর অভিজ্ঞতা সমাজকে পথ দেখায়। অতিরিক্ত জেলা পরিদর্শক তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রযুক্তি যতই এগোক, শিক্ষকের আন্তরিকতা ও মূল্যবোধের শিক্ষার বিকল্প নেই।
দুই আধিকারিকই বলেন, কলানবগ্রাম চক্রের শিক্ষকরা শুধু পাঠ্যবই পড়ান না, তাঁরা জীবনমুখী শিক্ষা দিচ্ছেন। পরিবেশ রক্ষা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নৈতিকতা, হাতে-কলমে শিক্ষা ও ডিজিটাল সাক্ষরতার মতো বিষয়ে তাঁরা ছাত্রছাত্রীদের তৈরি করছেন, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
স্মৃতিচারণা পর্বে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা জানান, ছাত্রদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাই তাঁদের দীর্ঘ কর্মজীবনের বড় প্রাপ্তি। মাটির স্কুলঘর থেকে আজকের আধুনিক বিদ্যালয়ে উত্তরণের সাক্ষী তাঁরা। বর্তমান শিক্ষকেরা বলেন, প্রবীণ শিক্ষকদের নিষ্ঠা ও আদর্শই তাঁদের এগিয়ে চলার প্রেরণা।
এদিন আট জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে আমন্ত্রণ জানানো হলেও পাঁচ জন উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন নিখিল অধিকারী, তরুণ কুমার সামন্ত, সুভাষ গুঁই, অধীর মুর্মু এবং পার্শ্ব শিক্ষক সুনীল কুমার দাস। উপস্থিত হতে পারেননি শ্যামল প্রামাণিক, অশোক মুর্মু ও বিকাশ রায়।
অনুষ্ঠানে গত দুই বছরে প্রয়াত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
দলুইবাজার ও উলড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের নৃত্য এবং শিক্ষক বিকাশ ভট্টাচার্যের সংগীত অনুষ্ঠানে বাড়তি মাত্রা যোগ করে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন বিপুল সন্ন্যাসী ও শতরূপা দাস চৌধুরী।
Leave a Reply