মতপ্রকাশ,
মোঃ রাসেল সরকার;
জাতীয়তাবাদী সরকারের কাছে জনগণ কোনোভাবেই ফ্যাসিস্ট শক্তির প্রশাসনিক কার্যক্রম দেখতে চায় না। বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের বাধা দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে স্বৈরাচারী হাসিনার একতন্ত্র থেকে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য গুম, খুন ও হাজারো নির্যাতন সহ্য করে লড়াই করেছে জাতীয়তাবাদী জনগণ। সেই দীর্ঘ লড়াইয়ের বিজয়ের মাধ্যমে আজ আমরা একটি জাতীয়তাবাদী সরকার পেয়েছি।
কিন্তু জনগণের প্রত্যাশা ছিল—প্রশাসন হবে জনবান্ধব ও গণতান্ত্রিক, কোনো দমনপীড়নকারী শক্তি নয়। আজ প্রশাসনের এই আচরণ কেবল বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গেই করা হচ্ছে না, বরং এর গভীরে তাকালে দেখা যায়, এটি পরোক্ষভাবে জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও দেশনায়ক তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্র। একটু গভীরভাবে ভাবলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে ওঠে। দেশ ছেড়ে দিল্লিতে পালিয়ে যাওয়া গণহত্যাকারী ও স্বৈরাচারী হাসিনার আমলের গুম, খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নাটকের সঙ্গে জড়িত এবং সেই আদর্শে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রশাসন কখনোই রাতারাতি জাতীয়তাবাদী আদর্শ ধারণ করতে পারে না।
তাদের আচরণে এখনো সেই ফ্যাসিস্ট ছায়া রয়ে গেছে। বিএনপির রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন জনাব এ. কে. এ. ফিরোজ নুন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারের মন্ত্রীদের ম্যানার বা আচরণ শেখানোর জন্য এক সপ্তাহের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন অধ্যক্ষ ফিরোজকে। সেই প্রশিক্ষণ শেষে পরীক্ষায় পাস করেছিলেন মাত্র আটজন মন্ত্রী। পাস করতে না পারায় সরকার থেকে পদত্যাগ করেছিলেন তৎকালীন পরিকল্পনা মন্ত্রী ড. ফসিহউদ্দীন মাহতাব। শহীদ জিয়া মনে করতেন, দলই সবার ওপরে; দলের আদর্শ ও শৃঙ্খলা না বুঝলে মন্ত্রী পদে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। শহীদ জিয়া সবসময় একটি ডিসিপ্লিনড বা শৃঙ্খলিত রাজনীতি চেয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন—”I will make politics difficult for the politicians…”
নেতা যা করবেন, কর্মীদের আচরণেও তার প্রভাব পড়েই। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সাধারণ সমর্থকরাও শহীদ জিয়া এবং তাঁর পরিবারকে নিয়ে অকথ্য ও নোংরা ভাষায় আক্রমণ করত। অথচ এর বিপরীতে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সবসময় সংযত থেকেছে। পাঁচই আগস্টের পর পলাতক ফ্যাসিস্টদের নিয়ে কোনো অশ্রাব্য বক্তব্য বিএনপির পক্ষ থেকে আসেনি। উঠতে-বসতে জাতীয় নেতাদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলা কোনো আধুনিক রাজনৈতিক স্টাইল নয়, এটি অত্যন্ত বাজে প্র্যাকটিস। তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিতে এ ধরনের অযাচিত চর্চা একটি ভয়ঙ্কর ভবিষ্যতের বার্তা দেয়। রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু রাজনীতিবিদদের পারস্পরিক সম্মানবোধ না থাকাটা এক অশনি সংকেত। একপাক্ষিক নোংরামি পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সংযত রেখে দেশের রাজনীতিতে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হলে পার্টির মূল কেন্দ্রেই আদর্শিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা উচিত। রাজনীতি এবং রাজনীতিবিদদের মানসিকতায় গুণগত পরিবর্তন না আসলে দেশে আবারও টোকাইতন্ত্র বা বিশৃঙ্খলা জয়ী হবে।
যার চূড়ান্ত ফলাফল হবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অস্থিরতা এবং দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের সফলতা। শহীদ জিয়া অমর হউন। দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা, হয়রানি, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাস দেশের মানুষ আজও ভুলে যায়নি। জাতীয়তাবাদী আদর্শকে কখনোই ফ্যাসিবাদ হিসেবে জনগণের সামনে দাঁড় করানো যাবে না বা করতেও দিবো না। জাতীয়তাবাদ মানেই জনগণের অধিকার, মানবাধিকার, স্বাধীন গণমাধ্যম এবং মতপ্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা। তাই প্রশাসনের ভেতর লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিস্ট প্রবৃত্তি দমন করে একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ধন্যবাদ
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ
মুজিবাদ মুর্দাবাদ
ইনকিলাব জিন্দাবাদ
লেখক,
মোঃ রাসেল সরকার,
সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী,
চেয়ারম্যান, যুব-শক্তি সামাজিক আন্দোলন- বাংলাদেশ
ঢাকা — ২৯ জুলাই, ২০২৬ খ্রিঃ
Leave a Reply