বিশেষ প্রতিবেদক,
আনুমানিক ৪৭ বছর উত্তর গফরগাঁও দীর্ঘ্যশাসন আমল শেষ করে ২০২৬ সনে এসে দক্ষিণ গফরগাঁওবাসী নিজ এলাকার প্রার্থী পেয়ে অতীব আনন্দের সহিত দলমত নির্বিশেষে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জনাব মোঃ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু সাহেব কে এমপি পদে বিজয়ী করেন। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকার আমলে দক্ষিণ গফরগাঁওবাসীর পায়ে গোলামী জিঞ্জিরের শিকলে আটকিয়ে রেখে ছিলেন ফ্যাসিস্ট সরকারের অবৈধ ভোটের অবৈধ সংসদ ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল। বাবেল গোলন্দাজের অত্যাচারে তীব্রতা এমন ছিল যে গোটা গফরগাঁওবাসী আজও তার নাম শুনতেই কেঁপে উঠেন। এতকিছুর পর দক্ষিণ গফরগাঁও বাসীর ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সংসদ একই আচরনে স্থানীয়রা বৈষম্যের স্বীকার হইতেছেন বলে অভিযোগ আছে। বর্তমান সংসদ উস্থি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলম, ফ্যাসিস্ট তোতা চেয়ারম্যানসহ কান্দিপাড়া বাজারের বিশিষ্ট সুদ ব্যবসায়ী টিন লিটন, ঔষধ বিক্রেতা রফিকুলক ইসলাম ও কবির সরকারের মত গুটি কয়েক মিলে এমপি মোঃ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু সাহেব কে অন্যপথে প্রভাবিত করেছেন। ফলে আজ দক্ষিণ গফরগাঁও এর বিএনপি রাজনীতি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।



স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী নতুন পৌরসভা গঠনে শর্তসমুহ ১। জনসংখ্যা কমপক্ষে ৫০ হাজার, ২। জনসংখ্যার ঘনত্ব বর্গ কিলোমিটার অন্তত ২ হাজার, ৩। মোট ভূমির অন্তত ৩৩% অকৃষিজ, তিন-চতুর্থাংশ (৭৫%) জনগোষ্ঠীর পেশা অকৃষি এবং ৪। পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা, অবকাঠামো এবং আয়ের উৎস বিদ্যমান থাকার বাধ্যবাধকতা ১২ই ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১০ আসন বিএনপি প্রার্থী জনাব মোঃ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু সাহেব ঐক্যবদ্ধ দক্ষিণ গফরগাঁওবাসী ভোটে বিজয়ী হওয়ার পর একেবারেই ভুলে গেছেন তিনি গফরগাঁও (উত্তর ও দক্ষিণ) উভয় প্রান্তের এমপি। উপজেলার বিপরীতে প্রাপ্ত নতুন অবকাঠামোগত সরকারি বরাদ্দের কোটার সমুদায়টাই উস্থি ইউনিয়নের জন্য যেন ফরজ। শিক্ষা খাতের ৩টি একাডেমিক ভবনের ২টি কান্দিপাড়ায় আরেকটি মাইজবাড়ী (লংগাইর)। অবশিষ্ট ১৩ ইউনিয়নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উনার দৃষ্টিগোচর হয়নি। অন্যসব ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার বেহাল দশা থাকলেও কতিপয় পাকা রাস্তার সংস্কারমূলক কাজ দিয়ে ফেইসবুকে পোস্ট করে জানান দেন যে উন্নয়নের ক্ষেত্রে চিন্তার সমতা। গফরগাঁও এ এমপির সুলতানী সম্রাজ্যের রাজধানী স্বরূপ আলোচিত কান্দিপাড়া কেন্দ্রীক বড়সড় উন্নয়ন ও মেগা প্রকল্প। কান্দিপাড়ার জনমানুষ যাতায়াত বিহীন ফসলী জমির লাইল বা আড়া দিয়ে নতুন রাস্তা করার জন এলাকায় আলোচনা রয়েছে। সম্প্রতি এক সংবর্ধনা সভায় তিনি নিজ বাড়ীর সন্নিনিকটস্থ উস্থি ইউনিয়নের কান্দিাপাড়া বাজার ও এর আশেপাশের এলাকা নিয়ে নতুন পৌরসভা করার ঘোষণা দিয়েছেন। উস্থি ইউনিয়নের পশ্চিম পাশে লংগাইর এবং দক্ষিনে দত্তেরবাজার ইউনিয়ন। ২০২২ সালের হাউজহোল্ড জরিপ অনুযায়ী তিন ইউনিয়নের জনসংখ্যা যথাক্রমে ১। উস্থি- ২৩,৭৮৯ জন, ২। লংগাইর- ২৩,৩১৬ জন এবং ৩। দত্তেরবাজার- ৩৩,৭০০ জন। তিন ইউনিয়নে মোট জনসংখ্যা প্রায় ৮১ হাজার এবং গড়ে প্রতি ইউনিয়নের লোক সংখ্যা প্রায় ২৭ হাজার। প্রশ্ন হলো এই জনসংখ্যায় যেখানে ইউনিয়ন বিলুপ্তির পথে সেখানে সরকার কোন চিন্তায় বা কি কারনে কান্দিপাড়া কে পৌরসভা ঘোষণা দিবে? পৌর নীতিমালা অনুযায়ী জনসংখ্যা, জনসংখ্যার ঘনত্ব, আয়তন ও ভূমিসহ অন্যান্য সুবিধাদির কোন শর্তই কান্দিপাড়া কে পৌরসভার করার সমীকরণ মেলে না। কান্দিপাড়ার একমাত্র যোগ্যতা হলো এটি এমপি সাহেবের অতি পছন্দের জায়গা। সম্প্রতি তিনি
জাতীয় সংসদে গফরগাঁও পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব করে বিতর্কের মুখে তা প্রত্যাহার করেন। যা নিয়ে সংসদে ইতিমধ্যেই তার অদূরদর্শীতার প্রমাণ দিয়েছেন। আবারও পার্লামেন্ট আলোচনায় দক্ষিন গফরগাঁও এর উন্নয়নে হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) ব্রীজ হতে দত্তেরবাজার ও টোক হয়ে কাপাশিয়া সড়ক ৪ লেন করার মেঘা প্রকল্পের প্রস্তাব করেন। তার প্রস্তাবিত সড়ক পুরোটায় ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম পাড় দিয়ে চলমান সড়ক। নদ-নদীর পাড় বা তীর ৪ লেনের মেঘা প্রকল্প সড়ক বিভাগ সহসায় নেতিবাচক দৃষ্টি রাখে। কাজেই ধরে নেয়া যায় সড়ক ও সেতু বিভাগের প্রাথমিক সমীক্ষায় বাতিল হওয়ার আশংকা প্রায় শতভাগ। অথচ অপার সম্ভাবনাময় গফরগাঁও-মাওনা সড়কের কাজ স্থবির হয়ে পরে আছে তা নিয়ে উনার কোন মাথা বেথা নেই। কারন এটি পাগলা থানার সম্মুখ সড়ক। এই রাস্তার উন্নয়ন হলে শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কারখানার উদ্দোক্তা এগিয়ে আসবে পিছনে পরে যাবে কান্দিপাড়া। পাগলা থানা ও তার আশেপাশের এলাকার কোন উন্নয়নের কথা শুনলে এমপি সাহেব বিরক্তিকর ভাব করছেন। উনার এহেন স্বেচ্ছাচারিতায় স্পষ্ট শপথের খিলাপ করছেন বলে স্থানীয়দের দাবী।
প্রকাশ থাকে যে- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এমপি মহোদয়ের সভাপতিত্বে ১ জুলাই ২০২৬ নিকার ১২১তম সভায় বর্তমান সরকার ঘোষিত নবগঠিত “দক্ষিণ গফরগাঁও” উপজেলা অনুমোদন পাই। উৎপ্রেক্ষিতে উপজেলার সদর দপ্তরের স্থান নির্বাচনে স্থানীয় এমপি নুতন উপজেলা গঠন সংশোধিত নীতিমালা বা পরিপত্রের কোন তোয়াক্কা না রেখে ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসক, ময়মনসিংহ কে অনেকটাই বাধ্য করে একক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দক্ষিন গফরগাঁও উপজেলার মধ্যবর্তী স্থান ও পাগলা থানা কমপ্লেক্স হতে ৫.২ কিলোমিটার দূরে উস্থি ইউনিয়নের জনশূন্য থাকা নয়াবাড়ী মৌজার কৃষিভূমিতে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার সদর দপ্তরের স্থান চুড়ান্ত করিয়া গেজেট প্রকাশ করিয়েছেন। সুবিধা বঞ্চিত দক্ষিণ গফরগাঁওবাসী ইতিমধ্যেই জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক নেটিজেনরা সাংবাদিক সম্মেলনের পক্ষে লাইক ও কমেন্টস অব্যাহত রেখেছে। এমপি’র একক ইচ্ছা বাস্তবায়নে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সন্ত্রাসী বাবু মন্ডলেরমত ছাত্রলীগ ক্যাডার অকথ্য ভাষায় উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পদক জনাব মাহবুবুর রহমান ফুরকানসহ দত্তেরবাজার ইউনিয়ন বিএনপি‘র নেতাকর্মীকে ফেইসবুক লাইভে এসে কুরুচিপূর্ন মন্তব্য করছেন। যার পিছনে এমপিরও ক্ষমতা কাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সতরবাড়ী বাজার ব্যবসায়ী সূত্রে জনা যায় কোন এক সরকারি কর্মকর্তা নবগঠিত উপজেলার সদর দপ্তরের স্থান নিজ দত্তেরবাজার ইউনিয়নের পাগলা বা তার আশেপাশের মৌজার পক্ষে মতামত রাখার অপরাধে কান্দিপাড়ার আওয়ামী হোন্ডা বাহিনী পাঠিয়ে মারামারিসহ বাড়ী-ঘর ভাঙ্গার হুমকি জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন। এ যেন ৩৬ জুলাই পরবর্তী বিতারিত ফ্যাসিস্টের পুনরুদ্ধার হওয়ার অভিনব কৌশল। একই ঘটনার জের ধরে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা লাইবে এসে স্থানীয় বিএনপি কে গালিগালাজ করায় জনমনে চরম অসন্তোষ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। এমপি সাহেবের এহেন স্বেচ্চাচারিতায় দক্ষিণ গফরগাঁও বিএনপি শংঙ্কিত যা ভবিষ্যৎ দক্ষিণ গফরগাঁও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাজনীতি তে বিরোপ প্রভাব ফেলবে মনে করছেন সকলেই।
Leave a Reply