স্টাফ রিপোর্টার:
রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য সরকারের বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগ নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের অভিযোগে তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এবার সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা বিদেশি সুতা নির্ধারিত গার্মেন্টস কারখানায় ব্যবহার না করে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে দেশের খোলা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।
অভিযোগ পাওয়া যায়, এ চক্রের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের নয়ামাটি এলাকার মেসার্স সাদিকী ট্রেডিং কর্পোরেশন-এর সম্পৃক্ততা রয়েছে।
সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কিছু রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস কারখানা সরকার প্রদত্ত বন্ড সুবিধার আওতায় বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ পলিয়েস্টার সুতা আমদানি করে। বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী এসব সুতা শুধুমাত্র রপ্তানিযোগ্য পোশাক উৎপাদনে ব্যবহারের কথা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, আমদানিকৃত সুতার একটি অংশ উৎপাদনে ব্যবহার না করে বিভিন্ন ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খোলা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।
একাধিক সূত্রের দাবি, বন্ড সুবিধায় আমদানিকৃত এসব সুতা অসাধু গার্মেন্টস মালিকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে নারায়ণগঞ্জের নয়ামাটির মেসার্স সাদিকী ট্রেডিং কর্পোরেশন দেশীয় বাজারে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে থাকে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে। একই সঙ্গে বৈধভাবে শুল্ক পরিশোধ করে সুতা আমদানি করা ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
অভিযোগের সূত্র ধরে সাংবাদিকরা অনুসন্ধানে নেমে প্রতিবেদকের হাতে বেশ কিছু নথি, ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্য, ভিডিওচিত্র এবং অন্যান্য উপাত্ত এসেছে, যা বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অনুসন্ধানী টিমের দাবি, এসব তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের স্বার্থে কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট কর্তৃক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য ও গোপন গুদাম, মজুদপণ্য, ক্রয়-বিক্রয় রেজিস্টার, স্টক রেজিস্টার এবং সরবরাহ উৎসের বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে মেসার্স সাদিকী ট্রেডিং কর্পোরেশন-এর স্বত্বাধিকারী মাসুদ রানার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও সে ফোন রিসিভ করে নাই।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই চলছে।
এদিকে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট এবং সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার জরুরি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বৈধভাবে শুল্ক পরিশোধ করে সুতা আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগে উল্লিখিত গুদাম ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় অভিযান পরিচালনারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতিও চলছে ।
Leave a Reply